Cute Orange Flying Butterfly ‎অচিনপুরের আইয়ুব‬: প্রযুক্তি
আস-সালামু আলাইকুম। আমি আইয়ুব আনসারি। আমার লেখাগুলো পড়তে প্রত্যহ ব্লগটি ভিজিট করুন
প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮

মুন্সিগঞ্জে চালু হলো হোন্ডার কারখানা

বাংলাদেশে চালু হলো জাপানের হোন্ডা মোটর করপোরেশনের কারখানা। আজ রোববার মুন্সিগঞ্জের আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনে ২৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত কারখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

দেশে হোন্ডা বাংলাদেশ লিমিটেড (বিএইচএল) নামে যৌথ উদ্যোগে কোম্পানি খুলে কারখানা করেছে হোন্ডা মোটর করপোরেশন। এর অংশীদার সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)। নতুন কারখানায় আপাতত বছরে এক লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করেছে হোন্ডা, যা ২০২১ সালে দুই লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এখন নতুন কারখানায় উৎপাদিত মোটরসাইকেলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশে তৈরি কথাটি লিখতে সরকারের কাছে আবেদন জানাবে হোন্ডা। এ স্বীকৃতি পেলে কর ছাড় পাওয়া যাবে। এতে মোটরসাইকেলের দামও কমবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারখানার উদ্বোধন উপলক্ষে রোববার সকালে আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হোন্ডা বাংলাদেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং হোন্ডার মূল কার্যালয় ও স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কারখানার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, এখন নতুন কারখানায় মোটরসাইকেলের কাঠামো বা বডি ফ্রেম ও সুইচ আর্ম তৈরি করা হবে। ঝালাই ও রঙ করার কাজও হবে কারখানায়। বাকি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করা হবে। তবে শিগগিরই একে একে যন্ত্রাংশ তৈরিতে যাবে হোন্ডা।
বিএইচএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইওচিরো ইশি বলেন, বাংলাদেশে নতুন কারখানার মাধ্যমে স্থানীয়করণের শুরু হলো। ভবিষ্যতে এ দেশেই বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ তৈরি হবে। দাম কমবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের কাছে এখন তারা কর ছাড়ের জন্য আবেদন করবেন। কর ছাড় পেলে সে অনুযায়ী দাম কমবে। কতটা কমবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না।
এর আগে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ কারখানা চালু করায় হোন্ডাকে অভিনন্দন জানান। তিনি দেশে গাড়ি তৈরিতে বিনিয়োগ করার জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ করেন।
ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি বলেন, হোন্ডার কারখানা জাপানি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, দেশে জাপানিদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক।
বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ২০১২ সালে হোন্ডার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হোন্ডা বাংলাদেশ নামে কোম্পানি করে বিএসইসি। নতুন কারখানায় হোন্ডার বিনিয়োগ ১৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আর বিএসইসির বিনিয়োগ ১০৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ভবিষ্যতে মোট বিনিয়োগ বেড়ে ৬৮০ কোটিতে উন্নীত হবে। কর্মসংস্থান হবে দুই হাজার মানুষের।
হোন্ডা মোটর করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়োশি ইয়ামানে বলেন, হোন্ডা বিশ্বব্যাপী গত বছর ১ কোটি ৯৫ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে। কোথাও মানের ক্ষেত্রে হোন্ডা কোনো ছাড় দেয় না।
অনুষ্ঠানে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী, বেজার নির্বাহী সদস্য মো. হারুনুর রশিদ, হোন্ডা মোটরসের মোটরসাইকেল বিভাগের প্রধান নোরিয়াকি আবে, এশিয়া ও ওশেনিয়ার প্রধান মাসায়াকি ইগারাশি, বিএইচএলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোর্সঃ প্রথম আলো 

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

Google এর ব্যাপারে দুটো কথা

আমরা যার ইন্টারনেট ব্যাবহার করি তারা অধিকাংশ-ই
গুগল ব্যাবহার করে থাকি।
 আর তাতে তো আমাদের সার্চ বাটন ব্যাবহার করতেই হয়।
কিন্তু, এর পাশের একটি বাটন আছে ‘আই অ্যাম ফিলিং লাকি’ আসলে এর কাজটা কি?
এটা কি আমরা জানি?
অধিকাংশ ব্যাক্তিই জানে না এটার মর্মকথা।
এর হিসেব সারাসরি গুগলই দিচ্ছে।
গুগলের মতে  তা সর্বোচ্চ ১ শতাংশ জানে ।
 কি আবাক হলেন, না অবাক হওয়ার কিছু নেই।
 চলুন দেখি ওই রহস্যময় বাটনটির কাজ জেনে নেই।‘ 


Ayub Ansary



গুগল সার্চ’ বাটনেই ক্লিক করেন।
পেয়েযান যা খুঁজছেন, তার দীর্ঘ তালিকা।
সেখানথেকে বেছে নিন   নিজের পছন্দের লিংক।
কিন্তু ঠিক তার পাশেই আরেকটি বাট্ন থাকে।
 দেখা গিয়েছে,
 ওই বাট্নে খুব বেশি ক্লিক হয় না।
প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই ওঠে যে,
 তাহলে কেন একটি ‘প্রায় অকেজো’ বাট্ন রেখেদিয়েছে গুগল?
 কী এই বাট্ন-এর কাজ?
যাঁরা জানেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে এতক্ষণে বলে ফেলেছেন।
যাঁরা জানেন না, তাঁদেরউদ্দেশে জানিয়ে রাখা যাক,
এই বাট্নটি অনেকটা এটিএম-এর ফাস্ট ক্যাশ-এর মতো।
আপনি যেটা খুঁজছেন,
 সরাসরি আপনাকে সেই সংক্রান্ত প্রথম ওয়েবপেজ-এ নিয়ে যায় এই বাট্নটি। কেমন?
উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক। ধরা যাক, আপনি ‘শেখ হাসিনা’ বলে সার্চ করলেন।‘
গুগল সার্চ’ বাটনে ক্লিক করলে, আপনার সামনে অক্ষয় কুমার সংক্রান্ত গাদা গাদা
তথ্যচলে আসবে। কিন্তু ‘আই অ্যাম ফিলিং লাকি’বাটনে ক্লিক করলে আপনাকে
 সরাসরি অক্ষয় কুমার সংক্রান্ত প্রথম ওয়েব পেজ,অর্থাৎ, উইকিপিডিয়া পেজে নিয়ে যাবে।
 ঠিক একই ভাবে আপনি যদি ‘বিডি টুয়েন্টি ফোর লাইভ’ লিখে ‘আই অ্যাম ফিলিং লাকি’
বাটন ক্লিক করেন, তহলে চলে আসবে ‘বিডি টুয়েন্টি ফোর লাইভ ডটকম’ এর হোম পেজে।
 চট জলদি সমাধান।
এত কাজের জিনিস, অথচ ক’জন এই সার্চকরেন জানেন?
উত্তর শুনলে চমকেউঠবেন। মাত্র ১ শতাংশ!

SEO সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত দুটো কথা



Google সার্চে ১ম পেজে থাকা মানে বেশি ভিজিটর পাওয়ার। 
কিন্তু ভুল বাছাইয়ের কারনে আমরা সার্চে ১ম পেজে থাকতে পারিনা।
একটু বুদ্ধি খাটিয়েই আপনি ও Google সার্চে ১ম পেজে থাকাতে পারবেন।
প্রথমে আপনাকে যেতে হবে
এই লিংকে।
Google AdWords Keyword Tool নামের এই Keyword Tool সকল SEO Optimizer দের কাছর খুবই জনপ্রিয়।
এখানে গিয়ে আপনি যে ধরনের Keyword দিয়ে সাইট বানাতে চান সেই Keyword টি Enter one keyword or phrase per line তে গিয়ে টাইপ করুন।এরপর Get keyword Ideas এ Click করলে পাবেন আপনার keyword এর সকল তথ্য।যেমন keyword টিতে Advertiser Competition কেমন,গত মাসের কতবার সারচ করা হয়েছে,Global Monthly Search Volume কত এসব।আপনি এখান থেকে যে সকল keyword এ কম Advertiser Competition আছে কিন্তু Local Search Volume বেশি সে সকল keyword গুলো আপনি বেছে নিন। 
যেমন মনে করুন আপনি গান ডাউনলোড (song Download) নিয়ে একটি সাইট বানাবেন।কিন্তু song Download keyword টিতে খুব বেশি Advertiser Competition রয়েছে। তাই এই keyword টি দিয়ে আপনি search এ প্রথমে থাকা খুব কঠিন।

কিন্তু আপনি যদি (song marathi,dhoom download,) keyword টি নিয়ে সাইট বানান কারন এ সকল keyword গুলোর Advertiser Competition কম কিন্তু এতে Local Search Volume বেশি। 
তাই যদি আপনার keyword টির বিপরীতে সাইটের content যদি ভালো হয় তবে আশা করা যায় আপনি ঐ keyword এর বিপরীতে Google সার্চে ১ম পেজে থাকবেন। 
কারন আমরা জানি আপার কেস থেকে লোয়ার কেসে অনেক বেশি হিট পাওয়া যায়। 
তো চেস্টা করেই দেখুন।

ফেসবুক প্রোফাইল কে পেইজে রূপান্তর করার নিয়ম

আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো কি করে একটা ফেসবুক প্রোফাইল কে ফেসবুক পেজে কনভার্ট করবেন।





হয়তো  পোস্ট টি এর আগে শেয়ার করা হয়েছে।
তার পর ও আমি বিস্তারিত আকারে পোস্ট করলাম।
প্রথমে এর কিছু সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করব।

এর সুবিধা সমুহঃ-

 আপনার আইডি তে যত ফ্রেন্ড থাকবে পেইজে রুপান্তরের পর তত লাইক থাকবে।
ফলে সহজেই একটা পেজে অনেক লাইক পাওয়া যাবে।
কেননা নতুন একটা পেইজ খুলে লাইক পাওয়া সহজ নয়।
.
অসুবিধা:-

আইডির সব ডাটা মুছে যেতে পারে।
যা আর ব্যাক করা সম্ভব না।
 তাহলে নিজেই চিন্তা করে ভেবে দেখুন কি করবেন।
যারা তারপরও upgrade করতে চান তারা নিচের নিয়ম মেনে কাজ করুন।
আপনার যদি একের অধিক ফেসবুক প্রোফাইল থাকে এবং আপনি যদি চান যে একটা প্রোফাইল রেখে অন্যটি পেজে কনভার্ট করবেন তাহলে এ টিউন টি আপনার জন্য।
আপনি চাইলে আপনার ব্যাবসা বা অন্য কোন কিছুর নামেও পেইজ তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে ঐ প্রোফাইল এর সকল ফ্রেন্ড তখন ঐ পেজের ফ্যান এ কনভার্ট হয়ে যাবে।
যাহোক কাজের কথায় আসি।

প্রথমে যে প্রোফাইল টি কনভার্ট করবেন সেটিতে লগিন করুন।
তবে একটা কথা মনে রাখবেন আর সেটি হল যে নামে পেজটি করবেন তার আগে অবশ্যই প্রোফাইল এর নাম ঐ নামে করে রাখবেন কারন পেজে কনভার্ট করার সময় আপনার প্রোফাইল যে নামে থাকবে সেই নামেই পেজ এর নাম হবে সেটি পরিবর্তন করতে পারবেন না। প্রোফাইল এর নাম পরিবর্তন করার সময় সাবধানতার সাথে করবেন কারন একবার নাম পরিবর্তন করলে ৬০ দিনের আগে আর পরিবর্তন করতে পারবেন না।
তবে যদি প্রোফাইল এর ফ্রেন্ড সংখ্যা ২০০ এর কম থাকে তাহলে পেজে কনভার্ট করার পরেও পেজের নাম পরিবর্তন করতে পারবেন।
এখন ঐ প্রোফাইল এ লগিন অবস্থায় নিচের লিঙ্কে যান।

link here
.
এরপর যে কোন একটা ক্যাটেগরি নির্বাচন করুন।
এরপর এখানে একটা ক্যাটেগরি নির্বাচন করে Get Started বাটন এ ক্লিক করুন।
এখন যেসব তথ্য চায় সেসব তথ্য দিন বাস কাজ শেষ।
আপনি চাইলে এই প্রোফাইল এর ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করে এই পেজ ম্যানেজ করতে পারেন অথবা setting>Page Roles এ গিয়ে আপনি যাকে অ্যাডমিন বানাতে চান তার ইমেইল অ্যাড করে নিন এবং তার অ্যাক্সেস যেন Admin হয়। ব্যাস এখন থেকে আপনি এই পেজকে যে প্রোফাইল কে অ্যাক্সেস দিবেন সেখান থেকে ম্যানেজ করতে করতে পারবেন।
সবাই ভাল থাকবেন।
.
বি.দ্রঃ- এই লেখাটি বিনা অনুমতিতে কোথাও প্রচার করবেন না .
কেবল মাত্র ব্লগারের অনুমতি সাপেক্ষেই ব্যাবহার করতে পারবেন।
অন্যথায় কেউ প্রচার করার দায়ে কোন হুমকির সম্মুখীন হলে ব্লগার দায়ী থাকবে না।
এটা কেবলমাত্র আইয়ুবের ব্লগেই প্রকাশিত হলো ।`

শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ফেসবুক আইডি হ্যাক থেকে বাঁচানোর উপায়

Ayub Ansary
অচিনপুরের আইয়ুবের ব্লগ



হ্যাকারদের হামলায় অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফেসবুক। 
যার ফলে আতঙ্কিত সকল ফেসবুক ইউজার। 
সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেও হ্যাকারের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। 
আইডির সিকিউরিটি থাকা স্বত্তেও সামান্য অসতর্কতার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অনেকেই।
প্রতিদিন অসংখ্য ফেসবুক আইডি হ্যাক হচ্ছে। 
বিষয়টি স্বীকার করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ লাখ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হচ্ছে।

যেভাবে হ্যাক হচ্ছেঃ-


ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এর প্রায় ৭ ধরনের পদ্ধতি আছে।
তবে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক হ্যাকিংয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে কিলগার নামক একটি সফটওয়্যার।

সম্প্রতি কিলগার ছাড়াও ফেসবুক হ্যাকিং নামে একটি বিশেষ ধরনের 'জিপ ফোল্ডার' ব্যবহার করছেন হ্যাকাররা।
যা ফিশিং নামে পরিচিত।
ফেসবুক হ্যাকিংয়ের দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অনেক সহজ এবং মারাত্মক।

জীপ ফোল্ডার ব্যাবহারে যেভাবে হ্যাক হচ্ছেঃ-


যারা ওয়েব ডেভলোপিং করেন তারা বিষয় টি সহজেই বুঝবেন।
এ ফোল্ডারে দুটি ফাইল থাকে।
এ দুটি ফাইল হ্যাকার তার ওয়েব হোস্টিং সাইটের FTP File Manager এ আপলোড করে।
তারপর সেই ফাইলের লিংক নিয়ে যার একাউন্ট হ্যাক করবে তার কাছে পাঠানোর ব্যাবস্থা করে।
এক্ষেত্রে হ্যাকার সাধারণত ম্যাসেজের ম্যাধ্যমে সেই একাউন্টে লিংক পাঠায়।
হ্যাকার তার কাঙ্ক্ষিত অ্যাকাউন্টধারীর ফেসবুক বন্ধু হলে তার ওয়ালেও পোস্ট  করে দেয় অথবা
কমেন্টের মাধ্যমে লিংক শেয়ার করে থাকে।
সেই সাথে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়।
ভিকটিম যখন আগ্রহ নিয়ে সেই লিংকে ক্লিক করবে তখনই  ফেসবুক আইডির
 ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড চলে যাবে হ্যাকারের File Manager এ।
ফলে সহজেই ফেসবুক আইডির এক্সেস গ্রহন করবে হ্যাকার।
একই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাকাউন্টও হ্যাকারদের দখলে চলে যাচ্ছে।

 অনেক হ্যাকার আবার বিভিন্ন ব্লগে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ট্রিকস হিসেবে বিশেষ জিপ ফোল্ডারটি আপলোড
 করছেন।
আর বলছেন যে, এটি ডাউনলোড করে আপনিও ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করতে পারবেন।
কিন্তু এখানেও হ্যাকার তার জাল পেতে রেখেছে।
এই ফাইলের মাঝেও হ্যাকার স্প্যাম প্রোগ্রাম সাজিয়ে রেখেছে।

আপনি যখন এই ফাইল টি নিয়ে কাজ করবেন তখন স্প্যামটি সরাসরি আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের
সাথে যুক্ত হবে।
যার মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারের পূর্ণ এক্সেস চলে যাবে হ্যাকারের হাতে।
আপনার ব্যক্তিগত ফাইল, ফোল্ডার এবং অনলাইনে যত সাইটে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন, তার সবকিছু
হ্যাকারের দৃষ্টিসীমার ভেতর পাঠিয়ে দেবে।

স্প্যাম লিংকগুলো যেভাবে শেয়ার হচ্ছেঃ- 


 প্রথমে হ্যাকার কারো অ্যাকাউন্ট এর এক্সেস হাত নিচ্ছে।
তারপর ঐ অ্যাকাউন্ট থেকে তার সকল গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেন্ডদের ওয়াল এ স্প্যাম লিংক টি পোস্ট করে দিচ্ছে।
যারাই লিঙ্কে ক্লিক করছে তাদের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড চলে যাচ্ছে হ্যাকারের কাছে।

মজার ব্যপার হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন আইডি হ্যাক করার হ্যাকার সেই আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করছেন না।
ফলে, ভিকটিম বুঝতেই পারছেন না তার অ্যাকাউন্ট তিনি ছাড়াও অন্য কেউ পরিচালনা করছেন।

হ্যাকার তার জীপ ফোল্ডার কিভাবে তৈরি করছে? 


জিপ ফোল্ডার এর সাহায্যে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে হ্যাকাররা নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করছেঃ


অনলাইনে প্রায় ১০০+ ওয়েবসাইট আছে যারা ফ্রি Web Hosting Account সার্ভিস দিয়ে থাকে।
হ্যাকাররা প্রথমে যেকোনো ফ্রি ওয়েব হোষ্টিং সাইটে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট তৈরি করছেন।
এরপর তারা একটি নকল লগিন পেইজ তৈরি করছে।
এজন্যে, প্রথমে যে পেজের নকল লগিন
পেজ তৈরি করা হবে (যেমন, ফেসবুক) সেটিতে গিয়ে View page source করে
 এইচটিএমএল কোডগুলো একটি নোটপ্যাডে কপি করে তা facebook.html নামে সেভ করে নিচ্ছে।

তারপর, ডাটাগুলো একটি টেক্সট ফাইলে সেভ করার জন্য তারা একটি PHP Code তৈরি করছে (code.php)
এরপর,
একটি ফাকা টেক্সট ফাইল নিচ্ছে যেখানে ভিকটিমের ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ডগুলো সেভ করা হবে (password.txt)।

পরবর্তী ধাপে তারা facebook.html code.php এই ফাইল দুটিকে লিঙ্কআপ করে দিচ্ছে।
ফলে,
password.txt ফাইলটি code.php ফাইলের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিঙ্কড হয়ে যাচ্ছে।

এরপর হ্যাকার সেই  ফাইলগুলো একটি জিপ ফোল্ডারে পরিনত করে তার ফ্রি হোষ্টিং এর C pannel  এ আপলোড করে লিঙ্কটি
ভিকটিমের ওয়াল এ পোস্ট করে দিচ্ছে।
যখনই ভিকটিম উক্ত লিঙ্কটিতে ক্লিক করবে, তখনই তার  ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ডটি হ্যাকারের
তৈরি করা password.txt ফাইলে গিয়ে সেভ হবে।

এবার প্রশ্ন হলো, কিভাবে হ্যাকারের নজর থেকে নিরাপদে থাকবো???

আমরা সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলেই হ্যাকারের নজর থেকে নিরাপদ থাকতে পারি।
এক্ষেত্রে ১ম কাজ হচ্ছে সকল প্রকার অযাচিত লিংক উপেক্ষা করে যেতে হবে।
সেটা যতো বিশ্বস্ত ব্যাক্তিই হোক।
কেননা, এসব কাজ বিশ্বস্ত ব্যাক্তিরাই করে থাকে।

এরপর আপনি দেখে নিন, আপনার ফেসবুক আইডির প্রোটেকশন স্ট্যাটাস কততুকু।

এজন্য,  এই লিঙ্কে গিয়ে (অবশ্যই কম্পিউটার অথবা এন্ড্রয়েডের ডেস্কটপ ভার্সন থেকে)
  উপরে ডান প্রান্তে Overall protection এ লক্ষ্য করুন।
যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সবল হয়, তাহলে High (সবুজ রং চিহ্নিত) থাকবে।
যদি নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হয়, তাহলে low লেখাটি থাকবে।

এরকম নিরাপত্তাব্যবস্থা সবল করার জন্য আপনি তিনটি অপশন পাবেন।
প্রথম অপশন থেকে আপনি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক মেইল যোগ করবেন।
দ্বিতীয় অপশনে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপনার ফোন নাম্বার যোগ করবেন।
তৃতীয় অপশনে নিরাপত্তা প্রশ্ন যোগ করুন।

মনে রাখবেন, এটি সেটিং করার পর আপনি যখনি প্রথমবার কোন পিসি অথবা ব্রাউজার ওপেন করবেন
তখনি আপনার ফোনে ৫ সংখ্যার একটি ভেরিফিকেশন কোড পৌছেঁ যাবে।
আপনি আপনার ফোন হতে প্রাপ্ত কোডটি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট এ লগিন করতে পারবেন।

মনে রাখবেন,
হ্যাকাররা সাধারণত প্রথমে ই-মেইল আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করে।
আপনার ফেসবুক ইমেইল আইডি ও অন্যান্য পারসোনাল ইনফরমেশন যাতে কেউ দেখতে না পায়,
সেজন্য Edit profile এ গিয়ে Contact information এ সেন্সেটিভ ইনফরমেশনের প্রাইভেসিগুলো "Only me" করে রাখুন।


ফেসবুক ও ইমেইল দুটির জন্য দুই ধরনের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নির্বাচন করুন।
 ইমেইলের প্রোটেকশন স্ট্যাটাস শক্ত আছে কিনা তা ভাল করে দেখে নিন।
ইমেইলের ক্ষেত্রে রিকভারি ইমেইল সংযুক্ত করুন।
আপনি জিমেইল ইউজার হলে Two Step Verification চালু রাখুন।


মনে রাখবেন,
আপনার রিকভারি ইমেইলগুলোর কোন একটি হ্যাক করতে পারলে অন্য সবগুলো (এমনকি ফেসবুকও) মুহূর্তের
মধ্যে হ্যাক করা কোন ব্যাপার না।
ইমেইল ও ফেসবুকের সিকুরিটি Question & Answer গুলো এমনভাবে নির্বাচন করুন যেটি আপনার কাছে
কমন কিন্তু অন্যদের কাছে পুরা আনকমন।
অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য যতটা সম্ভব কম দেয়ার চেষ্টা করুন।

অধীর আগ্রহে টিউন টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
পরবর্তি আপডেট পেতে সাথেই থাকুন।
ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।