Cute Orange Flying Butterfly ‎অচিনপুরের আইয়ুব‬: সমালোচনা
আস-সালামু আলাইকুম। আমি আইয়ুব আনসারি। আমার লেখাগুলো পড়তে প্রত্যহ ব্লগটি ভিজিট করুন
সমালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

বাংলাদেশে নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি পূর্ব পরিকল্পিত : Chandan Nandy




Chandan Nandy, the Executive Editor of South Asian Monitor and also an official observer in the 2018 parliamentary elections in Bangladesh, has tweeted saying that:   


1. The vote was rigged;

2. There was a plan to rig the vote;

3. Shashi Bhushan Singh Tomar, head of the Indian #RAW station in Dhaka, was an integral part of the rigging plan!


ভারতের বিখ্যাত সাউথ এশিয়া মনিটরের নির্বাহী সম্পাদক এবং বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন - ২০১৮ তে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী চন্দন নন্দী তার টুইট বার্তায় বলেছেন:
১/ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে;
২/ ভোট ডাকাতি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত; এবং
৩/ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর ঢাকা ব্যুরো প্রধান, শশি ভূষণ সিং তমার এই পূর্ব পরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত ছিলেন।


রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮

ইয়ামাহা মোটরসাইকেল পছন্দ করে ৯০ শতাংশ তরুণ

জাপানের ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারজাতকরণে দুই বছর পার করল এসিআই মোটরস। আজ রোববার তারা তিন বছরে পা দেবে। এই দুই বছর ব্যবসা কেমন গেল ও আগামীর পরিকল্পনা কী, প্রথম আলোকে তা জানিয়েছেন এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজীব আহমেদ
প্রথম আলো: দুই বছর আগে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান দেশে ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাজারজাত করত। এরপর একক পরিবেশ হলো এসিআই। বিক্রি কতটুকু বেড়েছে?
সুব্রত রঞ্জন দাস: আমরা এখন বছরে ১৮ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করি। এটা আগের প্রতিষ্ঠানের ঠিক তিন গুণ। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৫ শতাংশ। আপনি যদি তরুণদের পছন্দের কথা বিবেচনা করেন, তাহলে ইয়ামাহা সবার ওপরে। আমরা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জরিপ করে দেখেছি, মোটরসাইকেল চালাতে আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে ৯০ শতাংশ তরুণ আর্থিক দিক দিয়ে সক্ষম হলে ইয়ামাহা কিনতে চায়। কারণ, তারা ইয়ামাহা ব্র্যান্ড পছন্দ করে।
প্রথম আলো: তরুণেরা ইয়ামাহা কেন পছন্দ করে, আপনার কী মত?
সুব্রত রঞ্জন: ইয়ামাহা উচ্চপ্রযুক্তির ও সেরা মানের মোটরসাইকেল বিক্রি করে। আমরাই একমাত্র ফুয়েল ইনজেকশন মডেলের মোটরসাইকেল বিক্রি করি। এর সুফল হলো, এটি জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। পাশাপাশি এর পারফরম্যান্স অনেক ভালো। বাংলাদেশের রাস্তায় ব্রেক কষা ও ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি খুবই জরুরি। ইয়ামাহা এই দুই দিক দিয়ে অত্যন্ত ভালো। আর যদি নকশা ও দেখার সৌন্দর্যের কথা বলেন, ইয়ামাহা অনেক আকর্ষণীয়।
প্রথম আলো: পণ্যের মানের পাশাপাশি বিপণন কৌশল কি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
সুব্রত রঞ্জন: ইয়ামাহা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর বাইকারদের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে আমরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি। আমরা আধা ঘণ্টার মধ্যে মেরামত সেবা দিই। এর মানে হলো আমাদের সার্ভিসিং সেন্টারে গেলে আধা ঘণ্টার মধ্যে কেউ না কেউ আপনার মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের কাজ শুরু করবে। ৮০ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে আমরা সেটা করতে পারি। আমাদের প্রত্যেকটি সার্ভিসিং সেন্টারে কম্পিউটারের সাহায্যে সমস্যা শনাক্ত করার ব্যবস্থা আছে।
প্রথম আলো: আপনি তরুণদের সংযুক্ত করার কথা বলছিলেন।
সুব্রত রঞ্জন: সারা পৃথিবীতে বাইকিং একটি সংস্কৃতি। আমরা সেটা তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমরা তরুণদের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সংযুক্ত। বাইকার গ্রুপগুলো ও বর্তমান গ্রাহকদের আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাই। ফেসবুকে আমাদের লাইকের সংখ্যা ১১ লাখ, যা এ খাতে সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি আমরা সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাবেশ করে ইয়ামাহার লোগো তৈরি করে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছি। আমরা বাইকারদের প্রশিক্ষণ দিই।
প্রথম আলো: আপনাদের মোটরসাইকেলগুলো ইয়ামাহার কোন দেশের কারখানা থেকে আসে?
সুব্রত রঞ্জন: আমরা মূলত ভারত থেকে বেশি আমদানি করি। এ ছাড়া একটি মডেল ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়। এটি হলো, ইয়ামাহা আর১৫ভি৩। ভবিষ্যতে আমরা থাইল্যান্ড থেকেও ইয়ামাহার মোটরসাইকেল আনব। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী ইয়ামাহার জনপ্রিয় অ্যানম্যাক্স নামের একটি স্কুটার আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে আনছি। জানুয়ারিতে বাজারে পাওয়া যাবে।   
প্রথম আলো: আপনারা দেশে এনে মোটরসাইকেল সংযোজন করেন?
সুব্রত রঞ্জন: না, আমরা পুরোপুরি যুক্ত (সিবিইউ) অবস্থায় মোটরসাইকেল নিয়ে আসি। এ কারণে করের হার বেশি পড়ে। আমরা মোট কর দিই ১৫৩ শতাংশ। এ কারণে দাম বেশি। বিযুক্ত অবস্থায় আনলে (সিকেডি) মোট করভার দাঁড়ায় ১২১ শতাংশ। দেশে তৈরি করলে কর ৩৮ শতাংশ।
প্রথম আলো: মোটরসাইকেল সংযোজনে কারখানা করার কথা ছিল এসিআইয়ের।
সুব্রত রঞ্জন: গাজীপুরে ১০ একর জমিতে আমাদের কারখানার কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী এপ্রিল-মে মাসে দেশে সংযোজিত ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের কিছু মডেল বাজারে ছাড়া যাবে বলে আশা করছি। এরপর জুলাই থেকে আমরা ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের একটি মডেল উৎপাদন শুরু করব, যেখানে বাংলাদেশে তৈরি কথাটি লেখা যাবে। ইয়ামাহা বিশ্বে প্রথমবারের মতো তার কোনো পরিবেশকের সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি করেছে।
প্রথম আলো: বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজার কতটুকু? সম্ভাবনাই বা কেমন?
সুব্রত রঞ্জন: দেশে এখন বছরে ৪ লাখ 

সোর্সঃ    প্রথম আলো 

নির্বাচনের আগে নমনীয় আ.লীগ


এক সপ্তাহ আগেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের চিন্তাভাবনা অন্য রকম ছিল। অনেকেই মনে করছিল, আগামী নির্বাচনে খুব বেশি ভোট পড়বে না। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবারও যেভাবেই হোক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে চাইবে। কিন্তু হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মানুষ আশা করছে, ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে। যদিও ভোট সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

গত অক্টোবর মাস দুটি বড় চমক নিয়ে এসেছে। মাসের মাঝামাঝি সময়ে বড় দুই রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের ডানপন্থী মিত্রদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক উদার ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোটের নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর চেয়েও বড় চমকটি আসে পরে। কঠোর অবস্থানে থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হঠাৎ করেই নমনীয় হয়। তারা ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুই দফায় সংলাপ হয়। এই জোটের দাবিগুলোর অন্যতম হলো দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংলাপের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঐক্যফ্রন্টের দাবিগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সংবিধান লঙ্ঘন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।
ঐক্যফ্রন্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, দাবি আদায় না হলে তারা আন্দোলন-বিক্ষোভ করবে। তবে জোরালো আন্দোলন কিংবা নির্বাচন বয়কট, কোন পথে এগোবে তা নিয়ে তারা এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। এর আগে নির্বাচন বয়কট করে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন কিংবা দলটির কর্মী-সমর্থকদের। সংসদে দলটির অনুপস্থিতি ক্ষমতাসীনদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে মামলা-হয়রানির শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। বিএনপির হিসাবমতে, দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার মামলা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরেই দলটির সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৩৪টি। তাঁর ছেলে ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয়েছে।
তবে ক্ষমতাসীনদের কঠোরতার ওপর নির্ভর না করলেও চলবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নানা দিক থেকেই বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। গত বছর তা ভারত ও পাকিস্তানকেও ছাড়িয়ে গেছে, ৭ দশমিক ৩। মোট দেশজ উৎপাদনেও (জিডিপি) বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়ে গেছে। শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং মাধ্যমিকে ভর্তির হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ অনেক দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ।
কিন্তু উন্নয়নের এই চিত্র যেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যায় না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘পেলে সব পেতে হবে, নইলে মোটেই না’ । কোনো বিরোধই সংসদে আলোচনা বা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে সমাধান হয় না, তা হয় দেশ অচল করে দেওয়া হরতাল–অবরোধে । ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতায় শুধু ভোট গ্রহণের দিন নিহত হয় ১৮ জন। এক শর বেশি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। বিরোধীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত হরতাল বা অবরোধ ডাকার লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নয়নে সরকারি দল বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশের জন্যই তা মঙ্গলজনক। এর মাধ্যমেই এ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

সোর্সঃ- প্রথম আলো 

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮

আইয়ুব বাচ্চু জাহান্নামী ??



ভূমিকা ছাড়াই বলতে গেলে এভাবে বললে ভুল হবেনা যে, গত কয়েকদিন ধরে অর্থাৎ আইয়ুব বাচ্চু'র মৃত্যুর পর থেকে তাকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল জগতে আর
বাস্তবে যা চলছে  যা ঘটছে তা দেখতে দেখতে অনেকাংশেই বিরক্ত হয়ে পড়েছি।
একদল তার মৃত্যুতে কান্নায় বুক ভাঁসাচ্ছেন আবার আরেকদল বলছেন তিনি জাহান্নামের খড়ি।
প্রত্যেকেই যখন কিছু না কিছু লিখে যাচ্ছেন তখন আমি বাদ যাবো কেনো?
সেই অধিকারেই লিখতে বসলাম...
.
(ক)
একজন মানুষ। সে যে ধর্মেরই হোক না কেনো, মৃত্যুর পর অবশ্যই ইসলামী শারীয়াহ্‌ নিয়ন্ত্রিত / নির্দেশিত ঘটনার সম্মূখীন হবে এতে নূন্যতম সন্দেহ নেই । বরং
সন্দেহের অবকাশও নেই।
কৃত কর্মের ফল তিনি অবশ্যই পাবেন। ভালো'র বিনময়ে ভালো আর খারাপের বিনিময়ে খারাপ। এমনটি প্রায় প্রত্যেক ধর্মেররই মূল বাণী।
.
(খ)
আইয়ুব বাচ্চু! নামটা শুনলেই আমরা একজন প্রসিদ্ধ নবীর নিদর্শন খুঁজে পাই। আইয়ুব বাচ্চু'র মাতা-পিতা হয়তো সচেতন ছিলেন । যার চিহ্ন তার নামের মাঝেই
দৃশ্যমান।
তবে এটা অবশ্যই তার জন্য দূর্ভাগ্য যে, তিনি একজন নবীর আদর্শে আদর্শবান হবার সুযোগ খুঁজে নেননি। বরং তিনি তার জীবনকে নষ্ট করেছেন হারাম গান চর্চার
মাধ্যমে। তিনি বাস্তব জীবনে কি কি করেছেন তা আমাদের কারোই জানা নেই। তবে ভালো কাজ করে থাকলে আল্লাহ তার সঙ্গে ভালো আচরণই করবেন।
সঙ্গত কারণে আমার বাস্তব জীবনের একটি গল্প বলতে বাধ্য হচ্ছিঃ-
.
তখন আমি ছোট, তবে ঘটনা পুরোপুরি মনে আছে।
একদিন আমাদের পারিবারিক কোন এক অনুষ্ঠানে #আইয়ুব বাচ্চু'র দলবলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। আর তা অবশ্যই গান গাওয়ার জন্য। যখন তারা আসলেন তারপর আপ্যায়ণ করা হলো। আপ্যায়ণ শেষে
আমি লক্ষ্য করলাম ওনারা পর্দার আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে কিছু খাচ্ছেন। আমি ছোট বলে তেমন কিছু বুঝিনা। তাই চলে গেলাম ওনাদের সামনে। আর বললাম, " আমিও কোকো খাবো।"
কারণ, তাদের হাতে আমি বোতলে কিছু দেখেছিলাম যা তারা পান করছেন। আমি সেই বয়সে হয়তো কোকো বেশিই খেতাম তাই লোভ সামলাতে পারিনি।
তখন আইয়ুব বাচ্চু আমাকে বললেন, " বাচ্চাদের কোকো খেতে হয়না বুঝেছ!" এই বলে আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। এরপর বলবেন, "বাহ্‌! একদম পুতুলের মতো একটি মেয়ে।' এই বলে আমার গাল টেনে দিলেন।
সেই সময় আমার বড় ভাইয়া এসে আমাকে ওনাদের সামনে থেকে নিয়ে গেলেন।
.
(গ)
আমি জানি, আল্লাহ আমাদের বলেছেন অন্যের দোষ গোপন করতে। এর ফলে আল্লাহ আমাদের দোষগুলো বিচারের দিনে গোপন রাখবেন। আর তাই আমি দোষ চর্চার পক্ষে না। কিন্তু সঙ্গত কারণেই এসব সামনে উঠে আসছে।
উপরোল্লোখিত গল্পের মাঝে উনারা মজা করে যা খাচ্ছিলেন তা নিশ্চয়ই কোক নয়। এটা নিশ্চয় নেশা জাতীয় কিছু। যাকে সোজা বাংলায় #মদ বলা হয়।
আরেকটি দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, গতদিনে জাতীয় কোন এক পত্রিকার নিউজ ছিল এমন যে আইয়ুব বাচ্চুর কতোগুলো #গিটার আর একটি বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই।
গিটার নিঃসন্দেহে বাদ্যযন্ত্র। আর এটার ব্যবহার চর্চা করা বা কাউকে এর দিকে আকৃষ্ট করা অথবা এর দ্বারা গান বাজনা করা নিঃসন্দেহে হারাম।
আমরা রাসূল সাঃ এর হাদীস অনুযায়ি জানতে পারি , যদি কোন ব্যক্তি ভালো কাজ প্রতিষ্ঠা করে যান তবে কিয়ামত পর্যন্ত তার একটা নেকির অংশ মাইয়্যেতের আমলনামায় যোগ হবে।
আবার খারাপ কাজ প্রতিষ্ঠা করলেও ঠিক তেমনই গুণাহ্‌ যুক্ত হতে থাকবে ।
আমরা স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি আমাদের আলোচ্য মাইয়্যেত গানের ফেরিওয়ালা ছিলেন । যা হারাম এবং নাযায়েজ। সুতরাং তার একটা অংশ চিরকাল তিনি পাবেন। এটাই হাদিস দ্বারা প্রমানিত হয়।
আবার সেই গানের টানে ঝড়ছে চোখাশ্রু। ভাঁসছে হাজারো ভক্তের বুক। এর অশ্রুর একটা অংশও তিনি পাবেন। মানে তার পরকালীন জীবনকে এই অশ্রু আরো ভয়াবহ করে তুলবে।
জ্বী, পাঠক সমাজ অবশ্যই বলবেন আপনি এসব বলার কে?
আসলে আমি এখন একজন মতামত প্রদানকারী হিসেবে শুধু আমার মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছি। তা আবার শারয়ী মানদণ্ডে।
আমি জানি ২+২= ৪ হয়। আর আমি তাই লিখে যাচ্ছি। আমি জানিনা কিভাবে দুই আর দুই যোগ করে এক বানাতে হয়।
শুধুমাত্র সুত্র মেনে অংক করা আমার অপরাধ হলে আমি নিজেকে অপরাধী মনে করবো না।
.
(ঘ)
এখন আমাদের করনীয় কি?
এখন আমরা অবশ্যই তার আত্মার শান্তির জন্য দু'আ করতে পারি। এর দ্বারা যদি আল্লাহ্‌ তার শাস্তি কমিয়ে দেন তবে তাতে আমাদের কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই।
আর কেউ যদি দু'আ না করেন তাতেও কারো কোন আপত্তি নেই।
তবে আপত্তি আছে আপনাদের ট্রল করা নিয়ে।
মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে ট্রল করা অনুচিত।
আর এমনিতেই আল্লাহ আমাদের নির্দেশ প্রদান করেছেন অন্যের দোষ গোপন করতে। সুতরাং আমরা দোষ চর্চা না করে বরং নিজেদের জীবন সাজানোর পেছনে সময় দিলেই ভালো হয়।
কেননা, আপনার এমন নেতিবাচক সমালোচনাকে সামনে রেখে আল্লাহ যদি পরকালে আপনাকে প্রশ্ন করেঃ হে অমুক! তুমি তো ধর্মপ্রাণ মুসলিম ছিলে। তোমার তো ধর্মের জ্ঞান ছিলো।
গান বাজনা হারাম তা তো তুমি জানতে। আইয়ুব বাচ্চুর জীবদ্দশায় তুমি কি তার নিকট সংশোধনের বাণী নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলে?
তখন আপনি কি জবাব দিবেন?
.
লেখাঃ  আইয়ুব আনসারী 

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সমালোচক মানেই কি ভয়ংকর অপরাধী?

১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই আইনের পক্ষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘এই যুদ্ধে যদি রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দিতে না পারি, রাষ্ট্র যদি বিপন্ন হয়, তাহলে অপরাধটা আমাদেরই হবে।’ অতি উত্তম কথা। রাষ্ট্র নিয়ে তিনি এবং তাঁর সরকার খুবই চিন্তিত। আইনটি না করা গেলে রাষ্ট্রের ওপর গজব নেমে আসবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাঁরা, তাঁদের একটা বড় অংশ সরকারের সমর্থক। তাঁদের অনেকেই এই আইনের সমালোচনা করছেন। তাঁদের দাবি, এই আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মুক্তচিন্তার পথকে বাধাগ্রস্ত করবে। সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মামলা হলে থানায় দারোগার বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিতে হবে বিষয়টি ‘অপরাধের’ পর্যায়ে পড়ে কি না, বা ‘অভিযুক্ত’ কত ভয়ংকর যে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিতে হবে।
পাশের দেশ মিয়ানমার। সেখানে দশকের পর দশক ধরে চলছে কর্তৃত্ববাদী শাসন। মিয়ানমার রাষ্ট্রটি যে মারাত্মক রকম গণবিরোধী এবং মিয়ানমার সরকার যে নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকার ও গণমাধ্যম মোটামুটি একমত। তো সে দেশের একটি সংবাদ খুব ছোট করে ছেপেছে এ দেশের একটি দৈনিক, ভেতরের পাতায়।
কিন্তু খবরটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ মনে হলো। খবরে প্রকাশ, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করার অভিযোগে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাবেক এক কলাম লেখককে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাজা পাওয়া এই লোকের নাম নাগার মিন সোয়ে। স্টেট কাউন্সেলর সু চির বিরুদ্ধে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট লেখার জন্য তিনি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সু চি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে খারাপ অনুভূতি তৈরি করতেই তিনি এ কাজ করেছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ (সূত্র: এএফপি, ইয়াঙ্গুন)।
মিয়ানমারেও ৫৭ ধারা বা ৩২ ধারা অথবা এ–জাতীয় ব্যাপারস্যাপার আছে কি না, জানা নেই। তবে সে দেশে বাক্স্বাধীনতা আছে, এমন দাবি আমাদের দেশের কট্টর মিয়ানমারপ্রেমীও করবেন কি না সন্দেহ। কিছুদিন আগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি প্রতিবেদন লেখায় রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মিয়ানমারের একটি আদালত কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সরব হলেও আমাদের এখানে তা কোনো ঢেউ তুলতে পারেনি। মনে হয়, এই দুই দেশের গণমাধ্যমের অবস্থায় সাদৃশ্য হয়েছে। সরকারকে চটালে তার ফল ভালো হয় না।
এ দেশে এই আইন তৈরির শুরুটা কখন কীভাবে হয়েছিল, জানি না। অনেকেই বলাবলি করেন, ফেসবুকে নানান উসকানিমূলক তথ্য ও মন্তব্যের লাগাম টেনে ধরার জন্যই নাকি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় ফেসবুকে হত্যা ও ধর্ষণের গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আছে। এটা মানতেই হবে যে এসব গুজব যাঁরা ছড়ান, তাঁদের অন্য মতলব থাকতে পারে।
প্রশ্ন হলো, সবাই কি গুজবে বিশ্বাস করেন? সবাই কি ফেসবুক ঘেঁটে তথ্য নেন এবং সে অনুযায়ী রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েন? গুজব ছড়ানো যেমন নিন্দনীয়, তেমনি এ নিয়ে অতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনো মানে হয় না।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের আড়াআড়ি। গণমাধ্যমকে তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকতে হয়। টিকে থাকার জন্যই তাকে ক্রমাগত পেশাদার হয়ে উঠতে হয়। মিথ্যা বা ভুল তথ্য ছেপে খুব বেশি পাঠক বা দর্শককে বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। তা যদি যেত, তাহলে চটকদার সংবাদ পরিবেশনকারী ট্যাবলয়েড বা অনলাইন মাধ্যমগুলো আরও জনপ্রিয় হতো। কিন্তু তা হয়নি।
মিথ্যা বলব না, তবে অপ্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বহীন সংবাদ প্রচার করে আমাদের বিটিভি তার আবেদন হারিয়েছে অনেক দিন আগেই। বিটিভি অনেক মানসম্মত অনুষ্ঠান তৈরি ও প্রচার করে, যেখানে বেসরকারি চ্যানেলগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। কিন্তু বিটিভির সংবাদ একেবারেই নীরস, একঘেয়ে এবং ক্লান্তিকর।
তবে সরকার যদি গণমাধ্যমের ‘অবাধ স্বাধীনতা’ না চায়, তাহলে বিটিভি ছাড়া অন্যদের সংবাদ প্রচার বন্ধ করে দিতে পারে। এ দেশে যখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেল ছিল না, তখন সবাই কি বিটিভির সংবাদের জন্য মুখিয়ে থাকত? বিশ্বাস করত?
গণমাধ্যম যদি নিয়ন্ত্রিত হয়, কিংবা যদি এতে মনোপলি তৈরি হয়, তখন যোগাযোগের অনেক বিকল্প মাধ্যম ও প্রক্রিয়া তৈরি হয়ে যায়। আর এভাবেই এ দেশে সামরিক শাসন বা স্বৈরাচারবিরোধী জনমত তৈরি হয়েছিল। আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
আমরা যখন উপনিবেশ ছিলাম, আমাদের যখন গোলাম করে রাখা হয়েছিল, তখন আমাদের সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছিল। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই ছিল অসহিষ্ণু। সবকিছুর মধ্যেই তারা ষড়যন্ত্র দেখত। সরকারের সমালোচনা মাত্রই ছিল রাষ্ট্রদ্রোহ। ‘ডিফেন্স অব পাকিস্তান’ আইন বানিয়ে তারা বিরোধীদের দিনের পর দিন বিনা বিচারে জেলে আটকে রাখত। এর অন্যতম ভুক্তভোগী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
এটা ১৯৫৬ সালের গোড়ার দিকের কথা। পাকিস্তান গণপরিষদে সংবিধান তৈরির তোড়জোড় চলছে। ৩ ফেব্রুয়ারির অধিবেশনে গণপরিষদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান স্পিকারের উদ্দেশে সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনারা বলে থাকেন যে বাক্স্বাধীনতা মানেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
আপনি কি জানেন যে, পূর্ববঙ্গে সম্পাদকদের ডেকে বলা হয়, আপনারা এটা ছাপাতে পারবেন না; আপনারা ওটা ছাপাতে পারবেন না। স্যার, তাঁরা সত্য কথা পর্যন্ত লিখতে পারেন না এবং আমি সেটা প্রমাণ করে দিতে পারি। পূর্ব বাংলা সরকার লিখুক আর কেরানি লিখুক, সেটা বড় কথা নয়। নির্দেশটা যায় সচিবালয় থেকে যে আপনি বিষয়গুলো সম্পর্কে লিখতে পারবেন না। সরকারের তরফ থেকে একজন ইনসপেক্টর গিয়ে নির্দেশনা দেন যে, আপনি একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে লিখতে পারবেন না।...
‘স্যার, আমরা সারা দেশের জন্য একটা সংবিধান তৈরি করতে যাচ্ছি। এখানে বসা ৮০ জন ব্যক্তির জন্য শুধু নয়। আমরা চাই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করতে।...
‘এটা পরিষ্কারভাবে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে যে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে, তাঁরা তাঁদের ইচ্ছামতো বক্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন এবং জনমত গড়ে তুলতে পারবেন।’
বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তাঁর অনুগত সৈনিকদের আস্ফালন দেখে কি বিস্মিত হতেন? রাষ্ট্রকে হাতের মুঠোয় আনতে পারলে রাজনীতিবিদেরা কেমন বদলে যান!
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক
mohi2005@gmail.com 
Source: prothom alo