Cute Orange Flying Butterfly ‎অচিনপুরের আইয়ুব‬: গল্প-কথা
আস-সালামু আলাইকুম। আমি আইয়ুব আনসারি। আমার লেখাগুলো পড়তে প্রত্যহ ব্লগটি ভিজিট করুন
গল্প-কথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প-কথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রেমের শেষ পরিণতি...





রাতের আঁধারে একলা ঘরে চুপচাপ শুয়ে আছে অর্পিতা।
বালিশের সাথে মুখ লাগিয়ে বোবা-কান্না করছে।
শব্দ করে কান্না করার শক্তিটুকুও পাচ্ছে না।
এই ছোট্ট জীবনে যা কিছু অর্জন করেছিল তা নিমিষেই হারিয়ে ফেলেছে।
তার ভবিষ্যৎ এখন হাতের মুঠোয়।
এখন কি করবে সে? সকাল হলেই তো তার চরিত্র নিয়ে
মানুষেরা বলাবলি শুরু করবে।
সে সমাজে মুখ দেখাবে কি করে?
এসব প্রশ্ন ঘুরছে অর্পিতার মাথার ভেতরে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিতঃ-
সবেমাত্র কলেজ লাইফে পদার্পণ করেছে অর্পিতা।
মেয়ে টা মিশুক প্রকৃতির হওয়ার দরূণ সবার সাথেই ভাল সম্পর্ক তার।
তারপরেও সোহানের সাথে মাত্র কয়েকদিনেই তার গভীর ভাব
গড়ে উঠে।
এভাবেই কেটে গেল মাসের পর মাস।
অবশেষে তারা একে অপরের GF/BF এ পরিণত হলো।
এভাবেই চলল কিছুদিন। একে অপরের প্রতি অনেক বিশ্বস্ত।
এরই মাঝে চলে আসলো সোহানের জন্মদিন।
জন্মদিনের পার্টিতে অর্পিতা যেন উপস্থিত থেকে সে জন্য
খুব করে অনুরোধ করল সোহান।
অবশেষে অর্পিতাও রাজী হয়ে গেল।
৭ ই সেপ্টেম্বর সোহানের জন্মদিন। ৬ তারিখে বিকালেই
অর্পিতা সোহানের বাসার দিকে রওণা দিলো।
খুব করে আয়োজন চললো। এদিকে পার্টিতে আরোও উপস্থিত হলো
সোহানের কিছু ফ্রেন্ড। যাদের চেহারা দেখেই অর্পিতা ডর পেয়েছিল। কি
সে ভয়ঙ্কর চেহারা তাদের।
সে প্রথমেই তাদের উপরে সন্দেহ করেছিল।
তখন রাত ১১ টা ৫৯ মিনিট। শুরু হলো কেক কাটা।
কার্যক্রম প্রায় শেষের পথে। সবাই চলে গেল যার যার মত।
শুধু তারা ২ জনে এক রুমের ভেতরে অবস্থান করলো।
শুয়ে শুয়ে ২ জনে গল্প করছিল।
সোহানের হাত কিছুক্ষন পরপর অর্পিতার বুকে ঘেঁষ খাচ্ছিল।
যদিও অর্পিতা টের পাচ্ছিল, কিন্তু কিছু বলার সাহস পায়নি।
একসময় তো সোহান অর্পিতাকে পুরোপুরি জড়িয়েই ধরলো।
অবশেষে শুরু হলো তার উপর নির্যাতন।
কিছুক্ষণ পর আরোও কয়েকজন নরপিশাচ যোগ দিল সোহানের সাথে।
কিছু করতে চেয়েও বাধা দিতে পারল না সে।
রক্ষা করতে পারলো না নিজের সতীত্ব।
সে তো ভাবতেও পারেনি যে আজ তার সাথে এমন আচরণ করবে
একজন বিশ্বস্ত ব্যাক্তি।

( একটি অসমাপ্ত জীবন ও তার গল্প। )
#অচিনপুরের_আইয়ুব


রবিবার, ৬ মে, ২০১৮

হারানো প্রেমিকা কে ফিরে পাবার ১০০% কার্যকরি যাদু।




আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আমি আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আছি।
অনেকদিন ধরে নতুন কিছু লেখার সুযোগ হয়নি।
আজ একটি অদ্ভুত ধরণের বিষয় নিয়ে লিখবার ইচ্ছে জাগলো। তাই অবশেষে লিখতে বসলাম।
ভূমিকা শেষ। এবার কাজে নেমে পড়িঃ

আপনি হয়তো অতি উৎসুক হয়ে এসেছেন পোষ্টটি পড়তে। আর আমি আপনাকে এখন পর্যন্ত উৎসাহিত করছি পুরো পোষ্ট টি পড়বার জন্য।
আশাকরি আপনি পুরোটি পড়বেন। ( ইনশাআল্লাহ্‌ )

উল্লিখিত বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই প্রেম সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়।
প্রেম সম্পর্কে আমি পূর্বে অনেক ধরণের যুক্তি দেখিয়েছি। সেই সাথে দেখিয়েছি  শারয়ী বিধানসমূহ।
আপনি কখনো না পড়ে থাকলে এখানে ক্লিক করে পড়ে আসুন।
প্রথমত প্রেমের সম্পর্ক মানেই অবৈধ সম্পর্ক।
প্রতিটি মুসলিমের উচিত এ ধরণের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা।
কেননা, এমন সম্পর্কের পেছনে রয়েছে আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূলের ( সাঃ ) অভিসম্পাত। ( আল্লাহুম্মাগফিরলী )
সুতরাং আমাদের প্রথম করনীয় কাজ হচ্ছে প্রেম থেকে দূরে থাকা। কাউকে প্রেমের ফাঁদে আটকানো কখনোও ভালো কাজ নয়।
আর এর পরিণামও ভালো হবেনা।

এবার আসি আজকের পোষ্টের শিরোনাম প্রসঙ্গে...

জাদু ! একটি হারাম কাজ। এ ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
জাদু একটি অভিশপ্ত কাজ। এর দ্বারা আল্লাহর সাথে অন্য বস্তুকে শরীক করা হয়।
জাদু করার মাধ্যমে মানুষ মুসলিম থেকে খারিজ হয়ে কাফির হয়ে যায়।
জাদু সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন পবিত্র কালামে মাজীদে বহু আয়াত নাযিল করেছেন।
তন্মধ্যে জাদুর ইতিবৃত্তান্ত জানার জন্য আপনি সূরাতুল বাক্বারাহ্‌ এর ১০২ নং আয়াতের তাফসীর দেখতে পারেন।

জাদু একটি গর্হিত কাজ। আপনি যদি কখনো জাদুকরের কাছে যান আর কাউকে বশ করার জন্য বা কারো ক্ষতি করার জন্য জাদু করেন তবে আপনি সঙ্গে সঙ্গেই অমুসলিম হয়ে যাবেন।
আর পরকালে আপনি জান্নাত অর্জন করতে পারবেন না।
ভোগ করবেন অনন্তকালীন শাস্তি।

সুতরাং জাদু থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করুন।

আমাদের আগামী টপিকঃ

** জাদু সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা**  

জাদু সংক্রান্ত যে কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের ফেসবুক পেইজে কমেন্ট / ইনবক্সে বলতে পারেন। আমরা যথাসম্ভব মানসম্পন্ন উত্তর প্রদান করবো। ( ইনশাআল্লাহ্‌ ) 

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৭

বিজ্ঞান ও নাস্তিকতা

আজ আমরা বিজ্ঞানের আলোকে দেখব, কোন কিছুর পেছনে সৃস্টিকর্তার প্রয়োজন আছে কি-না??
এবং নাস্তিকেরা যে যুক্তি প্রদান করে তা সঠিক কি না??? 


.
আমরা জানি, নাস্তিকেরা বিজ্ঞান মনষ্ক।
তাই আসুন তাদের দেওয়া যুক্তি বিজ্ঞানের আলোকে তুলনা করি।
এ ব্যাপারে আমরা rational method অনুসরন করব।
.
র‍্যাশনাল পদ্ধতি হলোঃ-
যা দ্বারা মানুষ তার চারপাশের বস্তুসমুহকে তার ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করে।
সেই বস্তু সম্পর্কে তার কাছে কিছু
Previous information থাকে। সেই previous information কে ব্যাবহার করে সে কোন বিষয়ে
সিদ্ধান্ত নেয়। সব মানুষই এই পদ্ধতিতে চিন্তা করে থাকে।
Scientific method আর logical method
কে rational method এর শাখা বলা যেতে পারে।
.
মানুষ কিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তার একটা উদাহরণ দেই,
যখন আপনার দরজায় কেউ knock করে, তখন আপনি কিন্তু মাপতে বসেন না যে, কত frequency তে
Sound wave টা আসলো, তারপর হিসাব করেন না যে একজন মানুষ কত জোরে বা কত
Frequency তে আঘাত করতে পারে….
তারপর দরজা খোলেন???
নাহ্‌,
আমরা কেউই এইভাবে সিদ্ধান্ত নিইনা। বরং দরজায় knock করলে তা আমরা ইন্দ্রিয় (শ্রবণ) দ্বারা
উপলব্ধি করি।
আমাদের মস্তিষ্কে এর ব্যপারে previous information আছে যে, knock করা মানে কেউ এসেছে,
এবং তখন আমরা দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নিই।
তার মানে দাঁড়ায় যে, rational method এ সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করতে নিম্নোক্ত জিনিষ সমূহ লাগে।
আর তা হল ঃ-
১. বাস্তবতা
২.ইন্দ্রিয় দ্বারা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা
৩.বাস্তবতা সম্পর্কে previous information
4. Previous information এর সাথে link করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অর্থাৎ sound mind…
.
প্রশ্ন আসতে পারে স্রষ্টার কোনো বাস্তবতা আমাদের সামনে নেই যে আমরা তাকে ইন্দ্রিয় দ্বারা
উপলব্ধি করবো, তাহলে স্রষ্টার অস্তিত্ব এই পদ্ধতিতে বুঝবো কিভাবে?
জ্বি, আমিও এই ব্যাপারে দেখাব স্রস্টার কোন অস্ত্বিত্ব আমরা দেখতে পাই কি-না???
.
আপনার দরজায় নক করলে আপনি দরজার বাইরে কারো অস্তিত্ব বুঝতে পারেন, কিন্তু যিনি নক করছে
, তিনি কি পুরুষ না মহিলা, ফর্সা নাকি কালো তা কিন্তু বুঝতে পারেন না।
তবে তার অস্তিত্ব বোঝা যায়।
আমাদের সামনে স্রষ্টার বাস্তবতা না থাকলেও সমস্যা নেই।
আমাদের চারপাশে যে বস্তুসমুহ আছে,
যাদেরকে আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি, চলুন সেগুলোকে rational study করে দেখি।
আমরা আমাদের আশপাশের প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করবো, এবং দেখব আদৌ কোন স্রষ্টার প্রয়োজন
আছে কিনা?
এখানে মনে রাখতে হবে এই পদ্ধতিতে আমরা দেখব মহাবিশ্বের স্রষ্টা আছে কিনা?
কিন্তু তিনি দেখতে কেমন, কিভাবে কাজ করেন তা rationally জানা সম্ভব নয়।
কারণ উনি
আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরে, তাঁকে জানার উপায় একটাই, আর তা হল উনি যদি নিজে থেকে
আমাদেরকে জানান।(আগের পোস্টে আমরা তাঁর আকার আকৃতি তাঁর নিজ কথা অর্থাৎ কোরআন
থেকে প্রমান করেছি।
কারোও দেখার ইচ্ছা থাকলে তা দেখে নিতে পারেন।)
.
আমাদের চারপাশের প্রত্যেকটি বস্তুর মধ্যেই ২ টি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
এরা প্রত্যেকেই সীমাবদ্ধ এবং
নির্ভরশীল।
যেমনঃ- গাছ আকার আকৃতি দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য সূর্য,
পানি এগুলোর উপর নির্ভরশীল।
মানুষ নানা দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ এবং নির্ভরশীল।
আলো তরঙ্গদৈর্ঘ্য
গতি দ্বারা সীমাবদ্ধ, নির্ভরশীল উৎস কিংবা রুপান্তর প্রক্রিয়ার উপর।
প্রত্যেকটি বস্তু নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল এবং এরা কেউই
নিজেরা নিজেদের অস্তিত্তের জন্য দায়ী নয়।
যদি নিজেরা নিজেদেরকে অস্তিত্তে আনত
তাহলে সীমাবদ্ধতা আর দুর্বলতার উর্ধ্বে থাকতো।
যদি ধরে নিই যে, নির্ভরশীলতার দিক থেকে একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং কোনো
স্রষ্টার দরকার নেই, তাহলে আদিকাল থেকে চলে আসা ঘটনা বা বস্তুসমুহের স্বরূপ দাঁড়ায়,
(Y<--X<--X <--X) অর্থাৎ কোন শুরু ছাড়াই অনন্তকাল থেকে এক বস্তু অন্য বস্তুর উপর
নির্ভর করে বেঁচে আসছে।
একটার পর অন্য আরেকটায় রুপান্তরিত হচ্ছে, এবং অনন্তকাল
পর্যন্ত তা হতে থাকবে। আমরা ঘটনাক্রমে Y তে আছি।
এটা অসম্ভব।
কারণ কোন শুরু না থাকলে, v, w, x, y এদের কারো অস্তিত্তে আসা সম্ভব নয়।
.
একটা উদাহরণ দেই,
আপনি একটা ক্রিকেট দলের ১০ নাম্বার ব্যাটসম্যান।
আপনি নামবেন ৯ জনের পর।
আপনি কোনো দলের ১০০ তম ব্যাটসম্যান হলে নামবেন ৯৯ জনের পর।
আপনার দলে যদি অসীম
সংখ্যক ব্যাটসম্যান থাকে, তাহলে আপনি কবে নামবেন???
.
কখনই নামবেন না, কারন আপনার পূর্বে অসীম সংখ্যক ব্যাটসম্যান আছে।
আপনার পরেও অসীম
সংখ্যক ব্যাটসম্যান আছে।
(অর্থাৎ আপনার জন্য শুরুও নেই, শেষ ও নেই)...
আপনার আগেরজনের
পূর্বেও অসীম সংখ্যক, তার আগের জনের পূর্বেও অসীম সংখ্যক............
সুতরাং কোন ব্যাটসম্যানই নামতে পারবেনা, কারণ প্রত্যেকের পূর্বেই আছে অসীম সংখ্যক......
অর্থাৎ কোনো শুরু যদি না থাকে তাহলে কেউই exist করতে পারবে না।
অসীম এই শব্দটা শুধু mathematical ব্যপারে ব্যাবহার করা হয়।
বাস্তবতায় কোন কিছুই অসীম
নয় (আমাদের চেনা বাস্তবতায়)।
সুতরাং একটা শুরু আছে।
আরেকটা সহজ উদাহরণ দেই, আপনাকে যদি বলি ১০ থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত য় আসেন,
আপনি গনণা করতে পারবেন।
কিন্তু যদি বলা হয়, অসীম থেকে শুরু করে ৯৯ পর্যন্ত গনণা করেন।
it’s impossible ….. আপনি শুরুই করতে পারবেন না এবং ৯৯ তেও আসতে পারবে্ন না।
৯৯ তে আসতে হলে শুরু আপনাকে করতেই হবে।
সুতরাং মহাবিশ্বের শুরু আছে, এবং
সে নিজে নিজে তা শুরু করেনি।
.
নাস্তিকদের যুক্তিঃ-
তারা বলছে z<--y<--x<--w<--v<--z অর্থাৎ এটা একটা বৃত্তাকার চক্র।
অর্থাৎ Z থেকে শুরু হয়ে আবার Z এ এসে মিশেছে এবং Z হল INITIATOR.
অর্থাৎ চক্রটাকে ছোট করলে হয় যে Z<--> Y….(প্রথম আর শেষ বস্তু)...
সুতরাং
Z, Y এর উপর নির্ভরশীল, আর y, z এর উপর নির্ভরশীল।
কিন্তু Z না থাকলে তো
Y existence এ আসতে পারেনা।
আবার Y না থাকলে Z আসতে পারেনা।
তাহলে হয় দুইজন একইসাথে exist করে অথবা দুইজনই তাদের অস্তিত্বে আসার
জন্য এই বৃত্তের বাইরে তাদের কোনো স্রষ্টার উপর নির্ভরশীল।
দুইজন একসাথে exist করলে সমস্যা আছে।
তাহলে পৃথিবীর তথা মহাবিশ্বের সব
ঘটনাকে একসাথে exist করতে হবে...
অর্থাৎ আমি , আমার দাদা, আমার দাদার দাদার দাদার দাদা,
আমার নাতি, আমার নাতির নাতির নাতি সবাইকে একসাথে exist করতে হবে। কিন্তু আমরা
বাস্তবতায় এটা দেখিনা।
উপরন্তু Z যেহেতু Y এর উপর নির্ভরশীল, সেহেতু Y এর এমন কিছু
বৈশিষ্ট্য আছে যা INITIATOR Z এর নেই। তার মানে Y তার অস্তিত্বের জন্য Z এর উপর নির্ভরশীল নয়।
#বিবর্তনবাদ এই পয়েন্টে যুক্তিহীন প্রমানিত হয়।
একইভাবে Z এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যার কারণ Y নয়। তাই Z ও Y এর উপর নির্ভরশীল নয়।
এরা প্রত্যেকেই এদের অস্তিত্তের জন্য এদের চক্রের বাইরের কারো উপর নির্ভরশীল।
.
সুতরাং মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে অস্তিত্তে আনেনি, এবং এর পুরো অস্তিত্ব অন্য কারো উপর নির্ভরশীল।
অর্থাৎ মহাবিশ্বের অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছে এবং সেই স্রষ্টা মহাবিশ্বের উপর dependent নন,
কারণ তাহলে তিনিও চক্রের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং তিনিও অস্তিত্তের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল
হয়ে পড়েন। সুতরাং মহাবিশ্বের অস্তিত্তের জন্য একজন স্রষ্টা থাকা অপরিহার্য।
স্রষ্টা ছাড়া মহাবিশ্বের সৃষ্টি অসম্ভব.
.
বিজ্ঞানের এই বর্ণনা হতে আমরা আজ স্রস্টার প্রমান পেলাম।
সুতরাং একজন স্রস্টা অবশ্যই আছে।
এর দ্বারা আমরা আবারোও প্রমানিত করলাম যে , নাস্তিকেরা যেই যুক্তি
দিয়ে সৃস্টিকর্তা নেই বলে প্রমাণ করে তা বিজ্ঞান অনুযায়িও ভুল...
সুতরাং নাস্তিকতা করার কোন অপশন অন্তত বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষের নাই, থাকতেও পারে না।
সত্য উন্মুচিত হবার পোরেও যারা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, তাদেরকে মানষিক রোগি ছাড়া অন্য কিছু বলে বিবেচনা করার
সুযোগ নাই।
.
পরিশেষে সকল কে উদার্ত আহ্বান জানাব , সেই সৃস্টিকর্তার পথে ফিরে আসতে।
তাঁর নাযিল কৃত বিধানের প্রতি ফিরে আসতে।
যার মধ্যেই রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম সফলতা।

Facebook:- Ayub Ansary

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

ঝালমুড়ি - স্বপ্নের কাহিনী।





পথে ঝালমুড়ি খাওয়া টা নেশার মতই হয়ে গেছে।
না খাইলে কেমন যেন লাগে!
কিন্তু আজ কিছুতেই খাচ্ছি না।
কেন খাচ্ছি না তা একনজর দেখুনঃ-

গত রাতে স্বপ্নে আমি কলেজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম।
এমন সময় ঝালমুড়ি ওয়ালা আসলো।
সর্বনিম্ন রেট ১০ টাকা।
পকেট হাতিয়ে ৫ টাকার কয়েন ছাড়া খুচরা কোন টাকা পেলাম না।
এবার জিজ্ঞেস করলাম
ঃ- মামা, ৫ টাকার ঝালমুড়ি হবে??
- না, মামা। ১০ টাকার কম নেই।
ঃ- আমার কাছে ৫ টাকা ছাড়া কোন খুচরা টাকা নাই।
কিন্তু খেতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব।
( পকেট থেকে ম্যানিব্যাগ বের করলাম আর ওনার সামনে খুলে দেখালাম ৫ টা হাজার টাকার নোট আছে শুধু।)
- আচ্ছা ঠিকাচ্ছে মামা। আপনার ইচ্ছা পূরণ করি।
(মামা আচ্ছামত অনেকগুলা মুড়ি দিলেন। ১০ টাকায় যা দেন তার চেয়েও বেশি)
আমি তো মহা খুশি।
খাইতে শুরু করলাম।
এরই মাঝে কখন যেন আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি।
প্যান্টের পকেট থেকে ৫ টাকার বিনিময়ে ৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঝালমুড়িওয়ালা।

এর পরেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। 

সেই স্বপ্নটি



শীতের সকাল। 
ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারিপাশ। 
আকাশ হালকা ফর্শা হয়ে উঠেছে মাত্র। 
কানে ফজরের আজান ভেঁসে আসছে। 
আজানের শব্দে ঘুম ভাঙলো অহনার। 
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই নামাজ আদায় করলো। 
এমন না যে নিয়মিত নামায আদায় করে, তবে চেস্টা করে। 
আজ সে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পথ চলতে যাচ্ছে। 
যে করেই হোক আজ সেই স্বপ্নের পিছু নিতেই হবে। 
রোজ সে একটা স্বপ্ন দেখে। রোজ তার পিছু নেয়। 
কিন্তু যখনই সময় আসে তার মুখ দেখার, তখনি সে বুঝতে পারে যে, সে তো স্বপ্নেই আছে। 
আজ তার পছন্দের নীল স্কার্ফটাই পরা আছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়ছে কয়েকদিন ধরে। 
এই প্রভাতে বের হওয়ার দুঃসাহস কেউ করে না। 
কিন্তু তার জিদ সে বের হবেই,,, সত্যটা যে জানতেই হবে!!!!!!
এইসব ভাবতে ভাবতে রুমের দরজা খুললো অহনা। 
কুয়াশার প্রভাবে বোধহয় নিজের থেকে এক ইঞ্চি দূরের কিছুই দেখা যাবেনা। শব্দহীন পায়ে গৃহ ত্যাগ করলো। 
কেও দেখলে যে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। 
কারন সমাজ কখনোও মেয়েদের একা বের হওয়াটা কে মেনে নিবে না। 
তাও আবার ভোরবেলায়......।।
.
কুয়াশাচ্ছন্ন নরম কোমল ঘাসের উপর পা ফেলতেই অহনা শরীরের বিভিন্ন শিরা-উপশিরায় যেন ঠান্ডার অনুভূতি লাভ করে। 
শরীরের মাঝে ইঞ্জেকশন দিয়ে ভাইরাস প্রবেশ করালে সেকেন্ডের মধ্য পুরো শরীরে যেভাবে ছড়িয়ে যায় ঠিক সেভাবেই ঠান্ডা ছড়িয়ে পড়লো অহনার শরীরে। 
পূব আকাশে সুর্যের লাল আভা পরিলক্ষীত হচ্ছে। 
সময়ের ব্যবধানে সূর্যের মিষ্টি আলো ছড়িয়ে যেতে লাগলো চারপাশে। 
ঘাসের ডগায় লেগে থাকা শিশির কণা গুলো মুক্তোর মত জ্বলছিলো। 
অহনা ঘাসের উপর হাঁটতে হাঁটতে এতটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলো যে, তার পায়ের নুপুরটা কখন খুলে যায় তা একদমই টের পায়নি। 
প্রকৃতির প্রেমে মত্ত হয়ে চলতে থাকে দূর অজানায়। 
নিঃশব্দ রাজ্যে হটাৎ করেই একটা শব্দ কানে আসে। 
আরে, এটাতো সেই আওয়াজ!!!!!!!!!!!!!
পিছনে ফিরতে তার অনেক ভয় লাগছিল। 
রোজ এই শব্দ টা কানে আসে। অনেকটা পরিচিত শব্দ।
আজ সে দেখবেই এই শব্দের উৎস কোথায়!! 
একদিকে ভয় কাজ করছিল অপরদিকে আত্মপ্রত্যয়। 
সাহসীকতার সাথে আস্তে আস্তে ঘুরে তাকালো। 
এক অস্ফুর্ত ছায়ামুর্তি আবিষ্কার করলো সে। 
সুর্যের ঠিক সামনেই দাঁড়িয়েছে, যার জন্য তার চেহারাটা ঠিক মতো দেখা যাচ্ছে না। 
সবকিছু মিলিয়ে থমকে দাঁড়ায় সে। 
ছায়ামূর্তি টি ভালমতো বোঝার চেষ্টা করলো... 
দেখতে অনেকটা মানুষের মতো। কুয়াশাচ্ছন্ন চারিপাশ। তাই বুঝে উঠতে পারছে না কি সেটা আসলে। 
এবার ছায়াটি অগ্রপাণে অর্থাৎ অহনার দিকে এক পা, দু-পা করে এগিয়ে আসতে লাগলো। 
তার হাতে একটা বস্তু পরিলক্ষিত হচ্ছে। 
ভালমত বোঝার চেষ্টা করলো। 
এতক্ষণে লোকটি অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে। 
তার হাতে একটা নুপুর। 
এবার একেবারেই কাছাকাছি এসে গেছে। 
আরেঃ, এতো আমার পায়ের নুপুর। 
ওনি পেলেন কি করে!!
তবে যা হোক, নুপুর নেয়ার ইচ্ছে নেই। 
শুধু একটি বার তাকে দেখার ইচ্ছা... 
আজ কেমন জানি ভিন্নধর্মী অনুভূতি জেগেছে মনে। 
খুব করে দেখবে তাকে। 

খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে দুজনে। এখন মন ভরে দেখার পালা। 
এমন সময় এলার্ম ঘড়ির এলার্ম বেজে উঠলো।
ঘুম ভাঙলো, আজোও দেখা মিললো না তার। 
কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর আবিষ্কার করলো আজকের এটিও স্বপ্নই ছিল। 

যেমন স্বপ্ন সে দেখেছিল গত মাসে। 
সেই দিনের মতই অনুভুতি নিয়ে দিনটা শুরু করলো আজ...... 

মূল লেখাঃ- রেবা হাসান( সপ্নের আস্কারা )
আংশিক এডিটঃ- আইয়ুব আনসারি

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬

আবেগের অনুভূতি

 আবেগের অনুভূতি
                                                                          - আইয়ুব আনসারি(Ayub Ansary)

"আমার বান্ধবী সব কয়টাই প্রেম করে!
আমি একাই সিঙ্গেল।
বয়ফ্রেন্ডকে সময় দিয়ে কূল পায় না, আমাকে ওরা কীভাবে সময় দেবে!
এক কাজ করো তো, আমাকে একটা মনের মতো ছেলে খুঁজে দিও।
আর একা থেকে কী হবে! চুটিয়ে প্রেম করা দরকার এবার।"
এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে থামে মেয়েটা। ওই ছাদের শালিক-জোড়ার দিকে অপলক দৃষ্টি ছিল, এবার তাকাল ছেলেটার দিকে।
ছেলেটা বলল, "যো-যো-যোগ্যতা কী লাগবে তার?"
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েটা বলে, "পুরুষ মানুষের আবার যোগ্যতা!
আমার যোগ্য কোনো ছেলে দুনিয়াতে থাকলে কি আর এতদিন একা থাকি? সব ছেলেই এক, ধরে নিয়ে এসো একটা তোমার পছন্দমতো!"
"ন্ না মানে, ওই যে বললে না মনের মতো!"
ছেলেটার কথা শুনে হা হা করে হেসে উঠল মেয়েটা। বলল, "আমার কল্পনার রাজপুত্রের তো খুব বেশি যোগ্যতার দরকার ছিল না।
আমার চাওয়া অল্পই ছিল।
সে আমাকে শুধু খুব করে একটু আগলে রাখুক!"
হাসল বটে, কিন্তু বলতে গিয়ে গলা ধরে এলো তার।
চোখে যেন ভেসে উঠল ভুলতে চাওয়া কোনো স্মৃতি।
তবে পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলল, "তুমি বরং খুব যোগ্য একজনকেই খুঁজে দাও।
ঢাকা শহরের সব রেস্টুরেন্টে খাওয়াবে, ২৪ ঘণ্টার ১৮ ঘণ্টাই ফোন করে কী করি জানতে চাইবে, গিফট কিনে দিবে, সারপ্রাইজ দিয়ে হুলস্থূল করে ফেলবে।
যেই না মনে হবে সে বুঝি আমাকে সত্যি ভালোবাসে, তখনই কোনো এক তুচ্ছ কারণে আমাকে ছুড়ে ফেলে চলে যাবে অন্য কারো কাছে!"
বলতে বলতে আবারও হাসতে থাকে মেয়েটা।
কিছু সময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ছেলেটা। ছাদ থেকে নেমে আসে তারপর।
এরপর অনেকবারই দেখা হলো মেয়েটার সাথে।
কখনো সিঁড়িতে, কখনো বাড়ির দরজায়, কখনো বা রাস্তায়।
প্রতিবারই মেয়ের একই কথা, "কই, ছেলে তো খুঁজে দিলে না!
আর কতকাল একা থাকব, বলো!"
বলেই হা হা করে হেসে ওঠে সে।
সেই বিকেলে দমকা হাওয়া ছিল খুব, মেঘও ছিল আকাশে।
তবু প্রতিদিনের মতোই মেয়েটাকে পাওয়া গেল সেই ছাদে।
ছেলেটা এসে দাঁড়াতেই মেয়ে বলল, "কী মহাশয়, পেলেন আমার জন্য ছেলে? আর কতকাল আশায় রাখবেন?"
ছেলেটি বলল, "অ-অ-অনেক খুঁজেছি। প্ প্রতিদিন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাবে, সা-সা-সারাক্ষণ খোঁজ নেবে, সারপ্রাইজ দেবে অনেক, এ-এমন ছেলের অভাব নেই।"
"তো কোথায় তারা? আর অভাবই যখন নাই, এতদিন কেন লাগছে?"
"লা-লা-লাগছে কারণ, আ-আমি তো তাদের খোঁজ করিনি।
আমি শুধু খুঁজেছি এমন একজনকে যে খুব করে আগলে রাখতে পারে!"
হাসি মুছে যায় মেয়ের মুখ থেকে। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সে।

ছেলেটি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল , "প্রতিদিন রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়ানোর সামর্থ্য আমার নেই, ব্যস্ততার জন্য ১৮ ঘণ্টা খোঁজ করাও সম্ভব না। সারপ্রাইজ আমি দিতে পারি না। ভেতর থেকে আসে না, সামর্থ্যও নেই। আমি বড়জোর দশ টাকার বাদাম কিনে রাস্তার ধারে তোমার পাশে হাঁটতে পারি, বসতে পারি ঘাসের বিছানায়। মাঝেসাঝে লিখতে পারি একটা দুটো চিঠি। কিনে দিতে পারি একটা গোলাপ কিংবা বেলিফুলের মালা।
আর... আর এতদিন ধরে নিজের মাঝেই ডুব দিয়ে খোঁজ করলাম অনেক। পেলামও। আর কিছু না পারি, সুখে-দুঃখে খুব করে আগলে রাখতে পারব তোমাকে। ছেড়ে যাব না কখনো!"
এক মুহূর্ত থামে সে। দেখা হলেই দুরু দুরু বুকে কাঁপতে থাকা ছেলেটি এতগুলো কথা বলে ফেলল, কিন্তু একবারও তোতলালো না এবার।
আবার বলল সে, "বিশ্বাস করো মেয়ে, আমার চেয়ে যোগ্য ছেলে আর একটিও খুঁজে পাইনি আমি তোমার জন্য!"

সুখী মানুষ

--- সুখী মানুষ --

                                                                                                       - আইয়ুব আনসারি ( Ayub Ansary )


 তোমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে বেড-টি আর ড্রাই কেক না পেয়ে মা অথবা কাজের বুয়াকে বকা দিচ্ছ। আর ওরা সকালে পান্তা ভাত আর কাঁচা মরিচ পেয়েই সুখী। এমনকি ওদের সন্তানেরাও সকালে উঠে নিজ দায়িত্বে খেয়ে নেয়।

 তোমরা ব্র্যান্ডের ব্রাশ আর বিদেশি পেষ্ট ছাড়া দাঁত মাজ না। ওরা নিম গাছের ছোট একটি ডালেই সুখী।

 তোমাদের লাল, নীল, গোলাপী বিভিন্ন রংয়ের বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাগ আছে।
বাজারে সর্বশেষ মডেল আসার ২দিনের ভেতরেই তা তোমাদের কাঁধে উঠে না আসলে মন খারাপ হয়ে যায়।
তোমরা স্কুলে গাড়ি ছাড়া পায়ে হেঁটে যেতে পারনা। আর ওরা কোমরে অথবা বুকে বইগুলো চাপিয়েই বের হয়।
 ওদের স্কুলগুলো দু-তিন কিঃমিঃ দুরে হলেও পায়ে হেঁটে যায়। এভাবেই ওরা সুখী।

 স্কুল ফিরতে চক-বার, চটপটি-ফুচকা, কিটক্যাট-চিপস্ না খেলে তোমাদের চলেই না।
আর ওরা ফিরতি পথে ৩-৫ টাকার বুট বাদামেই খুশি।

 শাওয়ার ছেড়ে তার নিচে দাড়িয়ে বসে তোমরা কল্পনার জগতে হারিয়ে যাও। কাঙ্খিত সাবান-শ্যাম্পু না পেলে মন ভেঙ্গে যায়।
আর ওরা নদী খালে সাঁতরে আনন্দ খুজে পায়।

 রান্নার সময় কল ঘোরাইলেই তোমরা পানি পাও। ফিল্টারের পানিতে হাল্কা গন্ধ পেলেই তোমরা অভিযোগ তোল।
আর ওরা দুর দুরান্ত থেকে খাবার পানি বয়ে নিয়ে আসে যার এক ফোটাও অনেক দামি ওদের কাছে। কই, ওরা কি অসুখী??

 দুপুরের খাবারে তোমরা দুই পদের মাংশ না হলে খেতে পার না। বৈদ্যতিক পাখার বাতাস ছাড়া তোমরা বিশ্রাম কল্পনাই করতে পার না।
অথচ
 ওরা সস্তা লাল ভাত, পুঁটি মাছ আর ডালেই সন্তুষ্ট। খোলা পরিবেশের মৃদু বাতাসেই ওরা তৃপ্ত। কই, ওরা তো সুখী।

৪২" টিভির পর্দায় তোমরা মানুষগুলোকে ছোট দেখতে পাও। ভিডিও গেমে হেরে গিয়ে তোমরা চোখের জল ভাসাও। এর ফাঁকে পপকর্ন চিপস্ চিবাতে থাকো।
আর ওরা বিকেলে বিলে খেলে, ঝিলে ঘুরে অবসর কাটায়। শাঁপলা ফুল আর ডাটাই হয় ওদের খাদ্য। তবুও ওরা সুখী।
 
তোমরা সন্তানের স্কুল থেকে আনার দায়িত্ব একে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দাও। চাওয়া পুরণ না হলে মুখ ভার করে থাক।
আর ওরা কোন কাজ  "আমি করি না আমি করি"  বলে টানাটানি করতে থাকে। কোন চাওয়া পাওয়া না নিয়ে বেঁচে থেকেই ওরা সুখী।
 
তোমরা বাস্তবতা বুঝতে চাওনা। তোমরা জীবন থেকে তেমন কিছুই শিখতে পারনি। তোমাদের জীবন ব্যার্থ। আজ তোমাদের ওদের পরিবেশে ছেড়ে দিলে বাঁচতে পারবে না। আর ওদের যদি তোমাদের পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়, ওরা দিব্যি বেঁচে থাকবে।

সত্যিই বাস্তবতা বড় কঠিন। 

বিভিষিকাময় জীবন

রাত একটা বাজে। নিঝুম নিস্তব্ধ ৬৪/বি কালিচরণ লেনের ভাড়া বাড়ির বড় খাটটার ওপর অতিশ গভীর ঘুমে মগ্ন। কিন্তু পারমিতার চোখে ঘুম নেই। ধীরে ধীরে পূবের বড় জানালার কাছে এসে দাঁড়ালো পারমিতা। খোলা জানালা দিয়ে নির্নিমেষে চেয়ে রইলো বাইরের আকাশটার দিকে। সন্ধ্যেবেলার জমাট মেঘটা কেটে যাওয়াতে একটা দুটো করে বেশ কিছু তারা এসে ভিড় জমিয়েছে নিকষ কালো আকাশটার বুকে। কোনটা মিটমিট কোনটা বা স্থির হয়ে আলো দিচ্ছে। ৬৪/বি কালিচরণ লেনের এই বাড়িটাতে আসার পর থেকে কবে যে এভাবে আকাশের দিকে চেয়ে তারা দেখেছে মনে করতে পারলো না পারমিতা।

ছোটবেলায় ছাদে বসে বাবার সাথে প্রথম তারা দেখার শুরু। মনে আছে গরমকালে লোডশেডিং হলে বাবা ছোট্ট পারুকে নিয়ে ছাদে এসে বসতেন। আঙ্গুল দিয়ে দিয়ে তারা চেনাতেন, “ওই দেখ ধ্রুবতারা, ওই লালচে রঙের তারাটা হল মঙ্গলগ্রহ আর সাদা ঝকঝকে উজ্জ্বল যে তারাটা দেখছিস, ওটা হল বৃহস্পতি। আকাশের ওই তারাদের ভিড়ে মিশে আছেন তোর ঠাকুরমা, তোর মা। ওইখান থেকে ওঁনারা আমাদের দেখছেন, আমাদের কথা শুনছেন”।

চোখের কোনটা ভিজে উঠলো পারমিতার! অনেকদিন পর মা-বাবার কথা খুব মনে পড়ছে! খোলা জানালা দিয়ে আকাশের বুকে তারাদের ভিড়ে কেবলি তাঁদের খুঁজে বেড়াচ্ছে! মা সেই কোন ছোটবেলায় আকাশে চলে গেছেন! বাবার কাছেই বেড়ে ওঠা। আর সব মেয়েদের মত মায়ের সঙ্গ পায়নি বলে ছোট থেকেই পারমিতা একটু ভীতু, মুখচোরা, প্রতিবাদ না করে মানিয়ে চলা গোছের মেয়ে। বাবা মেয়েকে যথেষ্ট আগলে রেখেছেন, তবুও মায়ের স্থান তো নিতে পারেন নি। মেয়েলী সমস্যার সমাধানে মায়ের সাহায্য থেকে বঞ্চিত পারমিতা একটু বেশিই নিজেকে গুটিয়ে রাখে।

যদিও আজ বেশি করে বাবার কথাই মনে পড়ছে! এতদিনে সে বুঝে গেছে গুরুজনেরা যা বলেন বা করেন, সবটাই সন্তানের ভালোর জন্য। বাবা প্রথম যেদিন অতিশকে দেখেছিলেন সেদিনই প্রবল আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু পারমিতা তখন অতিশের প্রেমে এতটাই উন্মত্ত যে বাবার আপত্তির কথা ভাল তো লাগেইনি বরং যে বাবা পারমিতার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে না করে ছোট্ট মেয়েটাকে আঁকড়ে এতদিন বেঁচেছিলেন, সেই বাবাকে নিজের চরম শত্রু বলে মনে করেছিল। আর তারপর একদিন বাবাকে না জানিয়ে মাত্র চার মাসের প্রেমিক অতিশের চাপে কলেজ থেকে বাড়ি না ফিরে, নদীর ধারের কালী মন্দিরে কোনোরকমে বিয়েটা সেরে সোজা এসে উঠেছিল ৬৪/বি কালিচরণ লেনের অতিশের ছোট্ট এই ভাড়া বাড়িতে।

তখন অতিশ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী ছিল। পারমিতা সবে কলেজের প্রথম বর্ষ। পরবর্তীতে অতিশ বিভাগীয় পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মীতে প্রোমোশন পায়। কিন্তু পারমিতা আর পড়াশুনা করেনি। এদিকে এভাবে বিয়ে করার জন্য বাবার সাথে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না ওদের। তারপর অভিমান করে থাকতে না পেরে এক বিকেলে স্নেহ বৎসল বাবা নিজেই এসেছিলেন একমাত্র মেয়ের বাড়িতে। তারপর থেকে আসা যাওয়া শুরু হলেও অতিশ কোনোদিন পারমিতার বাবাকে ভাল চোখে দেখেনি। পারমিতাকেও বাবার বাড়ি যেতে দিত না। যদিও ঘরের বাইরের লোকের কাছে অতিশ খুব নম্র ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত! মাথা নিচু করে পথ চলে। কারো সাথে কোন ঝামেলায় নেই ।স্ত্রী ছাড়া কোন মহিলার দিকে চোখ তুলে চায় না।

তা প্রথম দিকে পারমিতাও স্বামীর চাকরি, স্বভাব নিয়ে খুব অহংকার করতো। বিশেষ করে নিজের স্ত্রী ছাড়া কোন মহিলার দিকে চোখ তুলে চায় না, বাড়িতে ফিরেই স্ত্রীকে নিয়ে আদরে মেতে ওঠে। সে স্বামীর ঘরণী মানে স্বামী সোহাগিনী! আর কোন মেয়েই বা স্বামী সোহাগিনী হতে চায় না! কিন্তু ধীরে ধীরে অতিশের দিনের বেলার নম্র ভদ্র রুপটা সরেগিয়ে রাতের অন্ধকারে বন্ধ ঘরের ভেতর একটা জানোয়ারের রুপ নিতে শুরু করলো! অতিশেরভালোবাসা ভয়ঙ্কর রকমের বিকৃত যৌন অত্যাচারে পরিণত হল। স্ত্রীর ইচ্ছে থাকুক বা না থাকুক,শরীর ভাল আছে কি না আছে, কোন কিছুকেই আমল না দিয়ে যখন তখন জোর-জবরদস্তিচলতো। বিভিন্ন ধরনের বিকৃত উত্তেজক ছবি দেখা আর স্ত্রীর ওপর তা প্রয়োগ করাটা এক নেশায়পরিণত হল! অতিশের বিকৃত ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনরকম আপত্তি করলেই ভয়ঙ্কর ক্রুদ্ধ হয়ে উঠতো।একে তো স্বেচ্ছায় বাবার বাড়ি ছেড়ে এসেছে অতিশের কাছে, তায় আবার লেখাপড়া ও উচ্চমাধ্যমিকে ইতি টেনেছে। কি যে করবে পারমিতা বুঝে উঠত না!  ভোর হলেই অতিশ ভালমানুষ হয়ে যায়! তখন পারমিতা কান্নাকাটি করে, বোঝায় অতিশকে, কিন্তু কোন পরিবর্তন নেই!রাত হলে আবার সেই হিংস্র জানোয়ারের রূপ নেয়।

বাবাকে তো আর এসব কথা বলা যায় না! তবুও একদিন আভাষে ইঙ্গিতে মানসিক অশান্তির কথা জানালে বাবা বলেছিলেন “একদম যদি মানিয়ে নিতে না পারিসতবে চলে আয় না আমার কাছে । পড়াশুনাটা আবার শুরু কর,আমি বেঁচে থাকতেই দেখ যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারিস”। কিন্তু চলে আসতে পারে নি পারমিতা।বাবার কাছে পাকাপাকি ভাবে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই আচমকা একদিন স্ট্রোক হয়ে বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলে যান!উচ্চমাধ্যমিক পাশ পারমিতার তিন কূলে আর আপন বলতে কেউ রইল না। অগত্যা বাধ্য হয়েই স্বামীর ঘরে মুখ গুঁজে থাকা। কিন্তু পারমিতা অতিশকে ত্যাগ করে বাবার বাড়ি ফিরে যাওয়ারসিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই কারণে অতিশ দিনে দিনে অতিশয় ক্রুদ্ধ হয়ে পারমিতার ওপর বিকৃত অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়!

মুখচোরা অন্তর্মুখী চরিত্রের পারমিতা কাকে বলবে এসব কথা?মাঝে মাঝে ভাবতো, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাবে! কিন্তু কোথায়, কার কাছে যাবে? কাকেই বা বলবে এসব কথা? যদি অতিশের কানে ওঠে তবে হয় অত্যাচার করে মেরে ফেলবে, নয় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে! তখন কি করবে সে? তবুও একদিন সাহস সঞ্চয় করে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বয়সীবড় ননদকে অতিশের বিকৃত যৌন অত্যাচারের কথা জানায়। শুনে বড় ননদ অবাক হয়ে বলেছিল,
 “আমার হীরের টুকরো ভাইয়ের সম্পর্কে এসব কি বলছ তুমি? ওকত ভাল ছেলে তা তুমি জানো? ছেলেদের একটু আধটু অমন শারীরিক চাহিদা থাকে! স্ত্রীদের কর্তব্য তা পূরণ করা! তোমার জামাইবাবুরও আছে! আমি নিঃশব্দে তা পূরণ করি। আমি কি ঘরেরবাইরে সে সব কথা পাঁচ কান করতে গেছি? শুনেছো কোনোদিন? আর তুমি কিনা এসেছো তোমাদের চার দেওয়ালের ভেতরের কথা আমাকে জানাতে? ভাইয়ের কথামত চললেই তো পারো!কি গুণ আছে তোমার শুনি? ওই তো একটু রূপ! তাও তো আমার ভাই বউঅন্তঃপ্রাণ! অন্যমহিলার দিকে চোখ তুলেও চায় না! ভাই যদি তোমাকে ছেড়ে অন্য মেয়ের কাছে রাত কাটাতো তোমার ভাল লাগতো?”

পারমিতা ভয়ে আর কথা বাড়ায় না! যদি অতিশের কানে ওঠে!নইলে ননদের কাছে খুব জানতে ইচ্ছে করছিল, “সঙ্গমের সময় জামাইবাবুও কি বড়দির স্তন দুটোশক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে? সিরিঞ্জ দিয়ে গরম জল জোর করে যৌনাঙ্গে প্রবেশ করায়? শরীরের গোপন জায়গায় সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়? স্ত্রীর মুখে রেতঃপাত করে? বাবার মৃত্যুর পর চারদিনের কালাশৌচের মধ্যেও একজন পিতৃহারা কন্যাকে শোক করার সময়টুকু দেয় না যে স্বামী, তাঁকে কিভাবে মানুষ বলবে পারমিতা? চোখের জল মুছে ফিরে এসেছিল ননদের বাড়ি থেকে। তাই আজখুব মনে পড়ছে বাবার কথা! বাবার ইচ্ছেমত যদি লেখাপড়া মন দিয়ে করতো, তবে এদিন আজদেখতে হত না!

তাও যদি একটা সন্তান হত ওদের, তাহলে হয়তো কিছুটা পাল্টাতো অতিশ! কিন্তু ভগবানের কি যে মহিমা কে জানে! আট বছর হল বিয়ে হয়েছে, একটি সন্তানও আসেনি পারমিতার গর্ভে। অথচ দিন দিন অতিশের অত্যাচার বেড়েছে। আজকাল বাইরেরকারো সাথে সেভাবে মিশতে দেয় না। অফিস যাওয়ার সময় পারমিতাকে ঘরে তালা বন্ধ করে যায়।পারমিতাও ভয়ে কাউকে কিছু বলে না। স্বল্প শিক্ষিতা পারমিতা মহিলা কমিশনের নাম শোনেনি কখনো!

আজ সন্ধ্যেবেলা, হ্যাঁ, যে অতিশ বাইরের কারো সাথে পারমিতাকে মিশতে দেয় না, সে অতিশ সন্ধ্যেবেলা সাথে করে একজন অপরিচিতকে নিয়েএসেছিল। লোকটার চোখ দুটো যেন কেমন! বাইরে থেকে অনেক রকম খাবার কিনে এনেছিলঅতিশ। সেসব খাবার পারমিতাকে পরিবেশন করতে বলে। পারমিতা খাবার পরিবেশন করে দিয়েবেডরুমে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর অতিশ এসে পারমিতাকে ড্রইং রুমে যেতে নির্দেশ দেয়। আরসঙ্গে এও বলে, “ইনি নাকি অফিসের বস। এনাকে একটু খুশি করতে হবে। বেশি কিছু না, একটুহেসে কথা বলা, অথবা উনি হাত টাত ধরলেও ধরতে পারেন। যদি শুতে চায়, পারমিতা যেন হেসেরাজি হয়! তাহলেই নাকি নতুন ফ্ল্যাটের জন্য অফিস থেকে অতিশ একটা বড় মাপের লোন পাবে”।

অতিশের কথাটা শুনে পারমিতা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল! দিনের পর দিন নিজে শারীরিক মানসিক অত্যাচার করেও ক্ষান্ত হয় নি! আজ আবার বাইরের লোকের কাছে নিজের স্ত্রীকে পাঠাতে চাইছে!! আজ এই লোকটিকে মেনে নিলে কাল আবার যে অন্যকাউকে বাড়ি আনবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই! আর তাই এই প্রথম আজ তীব্র প্রতিবাদকরেছিল পারমিতা! কিন্তু সে প্রতিবাদের মাসুল দিতে হয়েছিল চরম ভাবে। অপরিচিত সেই লোকটা অধস্তন কর্মচারীর সুন্দরী বৌকে হাতে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে অতিশকে গালাগাল দিয়ে চলেগিয়েছিল। আর তারপর ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে, অবাধ্য স্ত্রীর মুখ বেঁধে, বেল্ট দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে মেরেছিল অতিশ। সারা শরীরে চাকা চাকা কালশিটে করে দিয়েছে! তারপর নিজে ক্লান্ত হয়ে হাঁপাতে শুরু করে। প্রবল শ্বাসের সমস্যা শুরু হয় অতিশের!

কিছুদিন ধরেই অতিশ শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছে। সকালসন্ধ্যায় নিয়ম করে ইনহেলার নিতে হচ্ছে। আজ সন্ধ্যের ইনহেলার সময় মত নেওয়া হয়ে ওঠেনি।অতিশ হাঁপাতে হাঁপাতে বিছানায় বসে পড়ে। টেনে টেনে শ্বাস নিতে নিতে পারমিতাকে আদেশ করেইনহেলারটা পাশের ঘর থেকে এনে দেওয়ার জন্য। পারমিতা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাওয়া শরীরটাকেকোনোরকমে টেনে নিয়ে গিয়েছিল পাশের ঘরে, যেখানে টেবিলের ওপর অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে ইনহেলার রাখা ছিল। কিন্তু হঠাৎ কি যে বুদ্ধি হল পারমিতার! প্রচণ্ড আক্রোশে অতীশকে একটু শাস্তি দিতে চট করে ইনহেলারটা লুকিয়ে ফেলল। আর পুরনো খালি একটা ইনহেলার এনে এগিয়ে দিল অতীশের দিকে। অতীশ কোন প্রশ্ন না করেই সেটা নিয়ে প্রাণপণে পাফ নিতে লাগল। কিন্তু ফাঁকা ইনহেলারে কিছুই হল না। শ্বাসকষ্ট বেড়েই চলল। চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসতে লাগল! মুখের শিরা উপশিরা ফুলে উঠলো অতিশের!

এখন বিছানায় শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে অতিশ। ভোরের আলো এসে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে পূবের খোলা জানালা দিয়ে। অনেক দিন বাদে আজ এই ভোরেরআলোটা খুব সুন্দর আর মিষ্টি লাগছে! পারমিতা জানালার কাছ থেকে সরে এলো। বিছানার একপাশ থেকে অতিশের মোবাইলটা তুলে নিল। একটা নম্বর ডায়াল করে বলল, “হ্যালো, কালিপুকুর থানা? আমি ৬৪/বি কালিচরণ লেন থেকে বলছি। এখুনি চলে আসুন। কাল রাতে এখানে একটা খুনহয়েছে। হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুনই হয়েছে! আমি ওনার বাড়ি থেকেই বলছি। আমি কে? মৃতর স্ত্রী পারমিতা বলছি!”

সমাজের বাস্তব চিত্ত কল্পনা করে লেখা। ভুলভ্রান্তি ক্ষমার দৃস্টিতে দেখবেন। 
আপত্তিকর কিছু থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

সুপ্রিয় পাঠক, মূল্যবান সময় দিয়ে লেখাটি পঠনের জন্য জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬

বর্ষণ-মুখর শুক্রবার

 বর্ষণ-মুখর শুক্রবার 

- AYUB ANSARY ( অচিনপুরের আইয়ুব )

বছর কয়েক আগের কথা। তখন হালকা হালকা শীত অনুভূত হচ্ছিল। 
মাঝে মাঝে দু-এক দিন বৃস্টিও হচ্ছিল। 
এ রকম একটা দিনের কথা আজ মনে পড়লো। 
দিনটা ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। 
সারা সপ্তাহ জুড়ে মাত্র একদিন সময় পেলাম নিজের মত করে। 
সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলো কাটাতে হয় বিভিন্ন কর্মের সাথে। 
যেহেতু ব্যাস্ততার মাঝে মাত্র কিছু সময় পেলাম, তাই ভাবলাম আজ বাহিরে ইচ্ছেমত 
বেড়াব। 
সেই সাথে পরিকল্পনা অনুযায়ি অনিক, রবি, রাসেল কে সাথে নিলাম। 
চার জনে মিলে চলে গেলাম অনেক দূরে। 
সামনে যা দেখছি তা নিয়েই চলছে আমাদের তর্ক-বিতর্ক। 
এভাবেই চললাম খানিকটা পথ। 
তখন দুপুর হয়েছে। আযান হচ্ছে চতুর্দিকে। 
আমরা একটা মসজিদে গেলাম স্বলাত আদায় করতে। 
তখন নামায শেষ। আমরাও বেড়িয়ে পড়লাম। 
দুপুরের খাবার গ্রহনের জন্য আমরা হোটেল খুঁজছিলাম। 
কিন্তু পথের মাঝে কোন দোকানপাট দেখা যাচ্ছিল না। 
ঘন্টা খানেক পর আমরা এক হোটেল খুঁজে পেলাম। 
আমরা ভেতরে গিয়ে খাচ্ছিলাম। এমন সময় নামলো অঝর ধারায় বৃস্টি। 
তখন খাওয়া শেষ কিন্তু বৃস্টির কারণে আমরা বেরুতে পারছিলাম না। 
তখন একটু বৃস্টি কমলো। 
আমরা বাহিরে আসলাম। একটু পরে আকাশ ফ্রেশ হতে লাগলো। আমরাও গন্তব্যে ফিরছিলাম। 
এমন সময় অনিকের চোখে পড়লো এক বিড়াল বাচ্চা। 
আমাকে বললো দেখ আইয়ুব ঐটা কি? 
আমি দেখলাম বিড়ালটি বৃস্টিতে ভিজে মৃতপ্রায় অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে আছে। 
আমি বললাম বিড়ালটি কে বাসায় নিয়ে যাব। 
এমন সময় রবি বাধা দিলো। 
তার মতে রাস্তা থেকে কিছু নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। 
সে আরোও বললো যে তার পোষা বিড়ালগুলোর মাঝে থেকে আমাকে একটা দেবে । 
কিন্তু আমি তাতে রাজী হলাম না। আমি বললাম দেখ দোস্ত এই বিড়াল টা যদি আমরা ছেড়ে যাই তবে 
মারাও যেতে পারে। 
অবশেষে বিড়ালটা কে বাসায় নিয়ে আসলাম। 
আমার হাতে বিড়াল বাচ্চা দেখে আম্মু বললো, কিরে বিড়াল টা পাইলি কৈ? 
ঃ-আম্মু, রাস্তায় দেখি বিড়ালটা মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল। তাই নিয়ে আসলাম। 
- হুম, বিড়াল টা সুন্দর আছে তো। দেখি আমার হাতে দে।
(আম্মুর হাতে হস্তান্তর করলাম) 
ঃ- বিড়াল তো শীতে কাঁপছে। যাহ, চুলার পাশে রাখ। গরমে একটু স্বাভাবিক হোক। 

আম্মুর কথা অনুযায়ি আমি বিড়ালটা কে রান্নাঘরে চুলার পাশে রাখলাম। 
কিছুক্ষণ পর আম্মু বিড়ালটা কে একটু খেতে দিল। সে অল্প একটু খেল। 
কয়েকদিনের মধ্যেই বাসার সবার সাথে তার ভাব গড়ে উঠলো। 
ছোট ভাই এর নতুন খেলার সঙ্গী হলো বিড়ালটি। 
ছোট ভাই টম & জেরি দেখত নিয়মিত। 
তাই সে বিড়ালটির নাম রাখল টম। 
সে যখন টম বলে ডাক দিত তখনই ম্যাও ম্যাও শব্দে সাড়া দিত বিড়ালটি। 
একদিন রবি আমাদের বাসায় বেড়াতে আসলো। 
বাসায় আসার পর প্রথম তার নজর গেল বিড়ালের উপর। 
বিড়ালটা তারও নজর কাড়লো। 
ছোট ভাই রবির কাছে একটা জেরি চেয়ে বসলো। 
রবি তার কথায় একটা জেরি দেওয়ার কথা জানালো। 
সত্যি সত্যিই রবি একটা বিড়াল উপহার দিল ছোট ভাই কে। 
সে নতুন বিড়ালটির নাম দিল জেরি। 
এবার সে টম এবং জেরির সাথে নিয়মিত খেলা করা শুরু করলো। 
একদিন সে আমাকে বললো ভাইয়া টম ও জেরির বিয়ে দেব। 
ছেলে খেলার মত করে আমরা টম + জেরির বিয়ে দিলাম। 
এখন বাসার সবার কাছেই টম এবং জেরি অত্যন্ত প্রিয়। 
এভাবেই চললো কিছুদিন। 
একদিন হটাত করেই টম কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। 
অনেক খোঁজাখোজি করার পরেও পাওয়া গেল না। 
ছোট ভাই কান্নায় চোখ ভাসাতে লাগলো। 
সেই সাথে আমিও কান্না করতে লাগলাম। 
চতুর্দিকে খুঁজলাম কোথাও দেখা মিলল না টম এর।

আজোও কান্না আসে সেই বিড়ালের কথা মনে পড়লে। 
আজ মনে হয়, কেনো সেদিন বিড়ালটা এনেছিলাম? 
যদি না আনতাম তাহলে এত ভালোবাসাও জন্মাতো না। 
আজ আর কান্নাও করতে হত না। 
সত্যিই সেই বিড়াল কে ভালবেসেছিলাম মনের অজান্তে। 
যা কখনোও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। 

আজোও মনে পড়ে সেই বর্ষণমুখর শুক্রবারের কথা। 
এখনোও সময় পেলে রাস্তার পাশে খুঁজি এমন কোন এক বিড়াল কে। 
বছর পেরিয়ে গেল , কিন্তু কোন সন্ধান মিলেনি। 
জানি না এমন কিছু আর পাব কি না? 
যদি পাই তবুও ১ম টার কথা ভুলতে পারব কি কোনদিন??

#অচিনপুরের_আইয়ুব


স্বপ্নে দেখা স্বপ্নচারিনী

দুপুরবেলা আমি আর সিজান দুই বন্ধু ঘুমিয়েছিলাম। 
অনেকদিন পরে আমাদের দেখা হলো। 
তাই এক বেডেই দুজন ঘুমাচ্ছিলাম। 
তারপর হটাত ফোনের রিংটোন কানে আসছিল।
-কী করো?
ঃ-এই তো শুয়ে আছি।
- এখন সময় কত তার হুঁশ আছে? 
কখন থেকে ফোন দিচ্ছি রিসিভ করছো না। 
ঃ-ঘুমিয়ে ছিলাম তাই টের পাইনি। 
-নাও এখন ফ্রেশ হয়ে হাইস্কুলের মাঠে চলে এসো জলদি। সেই কখন থেকে আমি বসে আছি তোমার অপেক্ষায়......
ঃ- তুমি আরেকটু অয়েট করো। আমি আসছি....
ফোনটা রেখে আবারও ঘুমিয়ে গেলাম।
কিছুক্ষণ পরে আবারোও একই ব্যাক্তির ফোন।
ফোন রিসিভ না করেই চলে গেলাম ওয়াশরুমে। 
রেডি হতে প্রায় আধাঘন্টা লেগে গেল। 
এরপরে এক দৌড়েই চলে গেলাম মাঠে। 
গিয়েই দেখি সেঁজুতি দাঁড়িয়ে আছে।

-সেঁজুতি কি করো?
ঃ- কচু উঠাই। তোমাকে খাওয়ানোর জন্য!!
-কী বলো মানুষ কচু খায় নাকি?
ঃ- কোনদিন কেউ না খেলেও আজ থেকে খাবে। 
আর নিয়মিত খাবে। 
কথাশুনে ভ্যাবাচ্যাকা লেগে গেল। 
এমন সময় পাশের ছোট ছোট কচু গাছের পাতা ছিঁড়ে মুখে গুঁজে দিতে লাগল। 

-এই এই, এ কি করছ??
ঃ- কচু খাওয়াচ্ছি। 
- আসতে দেরী হয়েছে তাই রাগ করেছ??? 
আর দেরী হবে না কথা দিলাম। grin emoticon
ঃ- সত্যিই?
-অবশ্যই। 
এমন সময় সামনের রাস্তা দিয়ে ১ টা মেয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল। 
সামনের দিকে নজর দিতেই,, 
-এই তুমি ঐ মেয়েটার দিকে তাকালে কেনো?
ঃ- আরে নাহ, আমি তাকাইনি। 
-আমার সাথে মজা করো???
(বলেই উঠে একটু দূরে গিয়ে বসতে বসতে,,
ঃ- যাও তোমার সাথে কোন কথা নেই। 
আমি চললাম আমার পথে। তুমি ঐ মেয়ে কে নিয়েই সময় কাটাও। gasp emoticon 
-দেখ সেঁজুতি। তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। 
ঃ- আচ্ছা কান ধরে বল যে আর কারোও দিকে তাকাবা না। 
- আমি কান ধরতে পারি না। frown emoticon
এ সময়ে সেঁজুতি দাঁড়িয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল। 
- সেঁজুতি!! কৈ যাও?? 
ঃ- অন্য ভাল কোন ছেলের দিকে তাকাতে। 
- আরে!! কি বলছ এসব। আচ্ছা ( কান ধরে) এই কথা দিচ্ছি তোমাকে ছেড়ে আর অন্য কারোও দিকে তাকাব না।
তবুও একটু শান্তিতে থাকতে দাও প্লিজ। 
-কি বললা?? আমি তোমার শান্তি বিনষ্ট করছি??
ঃ-আরে এ!!! আমি সেটা বলিনি। 
-সত্যি বলো নি তো।
ঃ- না। সত্যিই বলিনি। 
-এই তো এবার লাইনে এসেছ। চলো আমরা ঐ বট গাছের নিচে বসি।

এমন সময় সিজান আমাকে লাত্থি মেরে বেড থেকে নিচে ফেলে দিল। 
আমি হতচকিয়ে উঠলাম। 
এমন সময় সিজান বলে উঠলো, দোস্ত সেঁজুতির কথা তো এর আগে কোনদিন বলিস নি। 
একা একা লাইন মারস হ্লা। 

অনেক কিছুতেই বোঝানোর চেস্টা করলাম যে সত্যিই এমন কিছু নাই। 
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখছিলাম। 
কিন্তু কেমন জানি বাস্তবই মনে হচ্ছিল। 
দোস্ত প্লিজ বিশ্বাস কর...........

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

উপদেশমূলক গল্প

এক কৃষকের একটা গাধা ছিল।
গাধাটা একদিন অগভীর কুয়ায় পড়লো। 

কিন্তু কুয়াটার গভীরতা গাধার উচ্চতা থেকে বেশি হওয়াতে অবলা প্রাণীটি উঠে আসতে পারছিল না। গাধার ত্রাহি চিৎকারে কৃষক এবং আশপাশের মানুষ ছুটে আসল।
কিন্তু ওরাও বুঝে উঠতে পারল না কী করবে।
ঘণ্টা খানেক নানাভাবে চেষ্টা করার পরও যখন গাধাকে উপরে তুলে আনা গেল না, কৃষক তখন চিন্তা করল, কুয়াটা আগে থেকেই বিপজ্জনক। 

বেশ কয়েকটি বাচ্চা কুয়াতে পড়ে বারবার আহত হয়েছে।
কুয়াটা এমনিতেই ভরাট করতে হবে, তার উপর গাধাটা অনেক বুড়ো এবং দুর্বল হয়ে গেছে।
তাই কৃষক সিদ্ধান্ত নিল গাধাসহ কুয়াটি ভরাট করে ফেলবে।
কৃষক সবাইকে ডাক দিয়ে হেল্প করতে বলল। 

সবাই হাতে বেলচা এবং কোদাল নিয়ে পাশ থেকে মাটি কেটে কুয়াতে ফেলতে লাগল।
কিছু মাটির দলা গিয়ে গাধাটির উপরেও পড়ল।
ওদের মাটি ফেলা দেখে গাধাটি বুঝতে পারল কি ঘটতে চলেছে, প্রাণীটি ভয়ে-দুঃখে নিরবে কাঁদতে লাগল।
কিছুক্ষণ মাটি ফেলার পরে সবাই হঠাৎ চমকে গেল, কারণ গাধাটি অদ্ভুত একটা কাণ্ড করে বসেছে। সবাই যখন গাধার উপরে মাটি ফেলছে, গাধাটি তখন গা-ঝাড়া দিয়ে মাটি নিচে ফেলে দিচ্ছে এবং এক-পা, এক- পা করে ভরাট হওয়া জায়গাতে অবস্থান নিচ্ছে। 

সবাই এবার দ্রুত গাধার উপরে মাটি ফেলতে শুরু করল, গাধাটিও তত দ্রুত মাটি গায়ের ওপর থেকে ঝেড়েফেলে ভরাট হওয়া জায়গাতে এসে দাঁড়ায়।
এভাবে কিছুক্ষণ মাটি ফেলার পর সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্য করল কুয়াটি প্রায় ভর্তি হয়ে গেছে, অবশেষে গাধা কুয়া থেকে বেরিয়ে আসলো।…......

জীবনে চলার পথে এমন অসংখ্য কুয়াতে আপনি পড়বেন, যা থেকে উঠে আসার মতো সক্ষমতা হয়তো আপনার থাকবে না। আশপাশের মানুষগুলো আপনাকে টেনে তোলার পরিবর্তে আপনাকে আরো ডুবিয়ে দিতে চাইবে।
কিন্তু এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনাকে ওই গাধা টির মতই গা-থেকে আবর্জনাগুলো একটু একটুকরে ঝাড়া দিয়ে ফেলতে হবে যতক্ষণ না ওই আবর্জনাতে কুয়াটা পূর্ণ হয়ে যায়।
যখনই সমস্যা এসে আপনার শরীর এবং মনের উপরে চেপে বসবে, প্রতিবার একটু একটু করে ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিবেন।
তারপর মাথা উঁচু করে একটু আগে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া সমস্যার উপরে গিয়ে দাঁড়াবেন।
প্রতিটি সমস্যা-ই আবর্জনার মতো। আপনি থেমে থাকলে আবর্জনার পাহাড় এসে আপনাকে জীবন্ত কবর দিয়ে দেবে।




কল্পনার প্রেম

সেদিন প্রথমবারের মতো দেখেছিলাম তোমায়।
কলেজের সবুজ বেষ্টনীতে বসেছিলে। 


নীল পরীরা যেভাবে ডানা জাপটে বসে থাকে।
আমি দূর থেকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে ছিলাম। 
বসন্তের বাতাসে মৃদু হাসি হাসছিল তোমার চোখগুলো।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।
হয়তো এটাই প্রথম ভালোবাসার ক্ষীন আভা ছিলো।
 দিনের পর দিন কেটে গেল।
কেটে গেল কয়েকমাস....
তোমার সাথে আমি কথা বলার সাহস পাইনি।
একদিন আমার বন্ধু আকাশ এসে একটা মেয়ের ছবি দেখালো,
জিজ্ঞেস করলো মেয়েটাকে চিনিস? যে ছবিটা ছিল তোমারই !
তার প্রশ্নের উত্তরে আমি বললাম চিনি না।
তার মুখ ফসকে তোমার নামটা বের হয়ে এলো।
সেবার-ই প্রথম তোমার নাম জানলাম আমি।
কিছুদিন পর তোমার সাথে খুব ভাল বন্ধুত্ব হলো। 
কিন্তু এই বন্ধুত্বের বন্ধনের চেয়ে আরেকটু কাছের করে পেতে চাইতাম তোমাকে।
 তুমি সবই বুঝতে...
বাধা দিতে আমায়।
একদিন বিকেলে হাঁটতে বের হয়েছিলাম তোমার সাথে। 
তোমাকে প্রতিনিয়ত খুব রাগানোর চেষ্টা করতাম আমি। কিন্তু তুমি কখনই রাগতে না।
দীর্ঘদিন মনে জমিয়ে রাখা ভালোবাসার প্রকাশ ঘটালাম। অর্থাৎ প্রপোজ করলাম তোমায়।
তুমি বলেছিলে আমার বিয়ের উপযুক্ত সময় হওয়ার আগেই তোমার বিয়ে হয়ে যাবে।
আমি বলেছিলাম তিনটি বছর অন্তত অপেক্ষা করো।
তুমি বললে তা কখনও হয় কী?
এভাবেই প্রতিটা বিকেল কাটতো ভবিষ্যতের কাল্পনিক আঁকিবুকি নিয়ে।
একদিন হঠাৎ তুমি আমার সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে।
তার ঠিক চারদিন পর তুমি আমাকে বললে, তোমাকে ভুলে যেতে।
কিন্তু তা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। 
এর কয়েকদিন পর জানলাম তোমার বিয়ে হয়ে গেছে।
সবকিছু খুব কম সময়ের মধ্যেই যেনো শেষ হয়ে গেলো...
তোমার মুখের শেষ বাক্য টা ছিলো ভালো থেকো। 
আমিও বারবার বলে যাচ্ছিলাম তুমিও ভালো থেকো।
তুমি ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকবো।
আমার সুখ, স্মৃতি, ভলোবাসা সবকিছু ভালো থাকবে।
তুমি তখনও বোঝনি কতটা ভালোবাসতাম তোমাকে। সত্যিই বোঝনি।
আমার হৃদয়ের রক্তে ভেজা চিঠিটা তোমার পায়ে ফেলে চলে গেলাম দূরে... বহুদুরে।
ভালো থেকো তুমি.........

-(সম্পুর্ণ কাল্পনিক) - 
#অচিনপুরের_আইয়ুব

বি।দ্রঃ- গল্পটি কাল্পনিক আকারে সাজিয়েছেন অচিকীর্ষু লৌকিক।।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অসতর্কতার পরিণাম

অসতর্কতার পরিণাম

                                                                               -Rayhan Ahmed




সাগর বাবুগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্র।
ছোট থেকেই ছেলেটা একটু ডানপিঠে স্বভাবের।
সে ক্লাসে খুব ভালো হলেও ধরাবাঁধা নিয়মনীতি মানতে নারাজ।
পড়াশোনায় অন্যদের তুলনায় ভালো হলেও শৃঙ্খলাবিধি না মানার দায়ে প্রায়ই
মকবুল স্যারের কানটানি খেতো।
.
একদা সে লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য শহরে যায়।
সে মূলত গ্রামের ছেলে।
গ্রাম থেকে শহর প্রায় ৮ কি.মি দূরে।
সে বাস যোগে করিমগঞ্জ বাস স্টান্ডে পোঁছে।
স্টান্ড থেকে ঠিক বিপরীত পথে লাইব্রেরি বাজার।
সেখান থেকে মিনিট পাঁচেকের পথ।
প্রায় ১০০ গজ দূরে ওভারব্রীজ। ওভারব্রীজ পেরিয়ে ১ টু বামদিকে গেলেই লাইব্রেরী বাজার।
সে ভাবলো ওভারব্রীজ পার হওয়া টা ঝামেলার। তাই  রাস্তার মাঝ  দিয়ে পার হওয়ার পরিকল্পনা করলো।
রাস্তায় জানজট ছিলো প্রচুর।
কিন্তু সে তবুও রাস্তা পার হবেই। তখন ১টু জানজট কমেছে।
রাস্তা বেশ ফাঁকাফাঁকা।
সে ভাবলো এটাই রাস্তা পার হবার উপযুক্ত সময়।
সে দিলো এক দৌড়। আর মাত্র ২/৩ ধাপ দিলেই সে পেরিয়ে যাবে।
রাস্তার ওপাশ থেকে তীব্র গতিতে ছুটে আসছিল এক মোটর সাইকেল।
.
মুহুর্তেই ঘটে গেল #অনাকাঙ্খিত ঘটনা।
মোটরসাইকেল টা একপাশ থেকে সাগরকে চাপা দিলো।
দৌড় মূখী থাকার কারণে সাগরের পায়ে আঘাত লাগলো।
সে রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো। সাথে বিকট আকারের চিৎকার করলো।
চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলো পথচারীরা।
.
তারা দেখলো সাগরের পা থেকে রক্ত ঝরছে।
এমতাবস্থায় তারা সাগরকে  সিএনজি যোগে করিমগঞ্জ সদর হাসপাতালে
পৌঁছায়।
তাকে জরুরী বিভাগে ভর্তি করানো হয়।
ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়  সাগরের ডান পা ভেঙে গেছে।
আর সেই সাথে বাম পা আঘাতপ্রাপ্ত  হয়েছে।
জরুরি বিভাগ থেকে সামান্য ব্যান্ডেজ করে দিয়ে সাগরকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়।
সেখানে তার চিকিৎসা চলে।
.
প্রায় ২ মাস পরে সাগর বাড়ি ফিরে।
সে বাড়ি ফিরলেও  সাথে বাড়ি ফিরেনি তার ডান পা।
কারণ, সেই পা কেটে ডাক্তার কৃত্রিম পা লাগিয়ে দিয়েছিল।
আজ সাগর নামের সেই ছেলেটি পঙ্গু।
সে পারে না নিজের মতো করে চলাফেরা করতে।
স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় না তার।
আর খায় না মকবুল স্যারের কানটানি।
বন্ধুদের সাথে আর বিকালের অলস সময়ে খেলা-ধুলার সুযোগ হয় না তার।
.
আজ সে অসহায়।ক্রমশ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে উঠলো তার রঙ্গিন ভবিষ্যৎ।  সে আজ শুধুই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।
যা তার সামান্য অসতর্কতার জন্যই হয়েছে।
সে আজ অনুতপ্ত।
আজ সে বারবার বলছে কেন সে ওভারব্রীজ ব্যাবহার করলো না!!
কেন সে নীয়মনীতি মানতে নারাজ ছিলো!!!
এসব চিন্তা করতে করতে সে মানষিকভাবে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে থাকে।
.
সুতরাং আসুন আমরা শৃংখলাবিধি মেনে চলার চেস্টা করি।
সকল কাজেই ধৈর্যের পরিচয় দেই।
যেন আমার/আপনার জীবনেও সাগরের মত অনাকাঙ্খিত কিছু না ঘটে যায়।
.
আবারোও বলছি সকলেই সচেতন থাকবেন।
স্মরণ রাখবেন যেঃ- "একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।"
অবশেষে সকলের সুস্বাস্থ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিদায় নিচ্ছি।
আল্লাহ হাফেজ।




সমাপ্ত