Cute Orange Flying Butterfly ‎অচিনপুরের আইয়ুব‬
আস-সালামু আলাইকুম। আমি আইয়ুব আনসারি। আমার লেখাগুলো পড়তে প্রত্যহ ব্লগটি ভিজিট করুন

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬

একটি লাভজনক ব্যবসা।

একটি লাভজনক ব্যবসা।
- আইয়ুব আনসারি ( Ayub Ansary )
 😊
 মদীনার বাগানগুলোর মধ্যে এক ইয়াতীম ছেলের একটি বাগান
ছিল। তার বাগানের সাথে লাগোয়া বাগানের মালিক ছিলেন
আবু লুবাবা নামের এক লোক। সেই ইয়াতীম ছেলেটি নিজের
বাগান বরাবর একটি প্রাচীর দিতে গিয়ে দেখল, প্রতিবেশীর
একটি খেজুর গাছ সীমানার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। ছেলেটি তার
প্রতিবেশীর কাছে গিয়ে সমস্যার কথা বলে সীমানার খেজুর
গাছটি কিনতে চাইলো যাতে প্রাচীরটি সোজা হয়। কিন্তু
প্রতিবেশী আবু লুবাবা কোনভাবেই রাজী হচ্ছিল না।
কোন উপায় না পেয়ে সেই ইয়াতীম রাসুলুল্লাহ্ ﷺ এর কাছে
গিয়ে পুরো ঘটনা বুঝিয়ে বললো। আল্লাহর রাসুল ﷺ ডেকে
পাঠালেন আবু লুবাবাকে। সে মসজিদে নববীতে আসলে নবী
করীম ﷺ সেই খেজুর গাছটি অর্থের বিনিময়ে হলেও ইয়াতীম
ছেলেটিকে দিয়ে দিতে অনুরোধ করলেন।
.
আবু লুবাবা যথারীতি রাজী হলো না। রাসুলুল্লাহ্ ﷺ এক
পর্যায়ে তাকে বললেন, "তোমার ভাইকে ওই খেজুর গাছটি
দিয়ে দাও। আমি তোমার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছের
জিম্মাদার হব।"
বিস্ময়কর হলেও আবু লুবাবা তারপরেও সেই খেজুর গাছ দিতে
রাজী হলো না। রাসুলুল্লাহ্ ﷺ এই পর্যায়ে চুপ হয়ে গেলেন।
এর চেয়ে বেশী তিনি ﷺ তাকে আর কী বলতে পারেন!
উপস্থিত সাহাবীদের মধ্যে সাবিত (রাঃ)ও ছিলেন। তিনি
আবু দাহদাহ নামে পরিচিত ছিলেন। মদীনায় তাঁর খুব সুন্দর
একটি বাগান ছিল। প্রায় ৬০০ খেজুর গাছ ছাড়াও একটি
মনোরম বাড়ি ও একটি পানির কুয়া ছিল সেখানে। মদীনার
সব বড় ব্যবসায়ীদের কাছে আবু দাহদাহ (রাঃ) এর বাগানটি
সুপরিচিত ছিল। তিনি স্বপরিবারে সেখানে বসবাসও করতেন।
.
আবু দাহদাহ (রাঃ) হঠাৎ রাসুলুল্লাহ্ ﷺ -এর কাছে গিয়ে
বললেন, 'হে আল্লাহ্'র রাসুল ﷺ ! আমি যদি আবু লুবাবার
কাছ থেকে ঐ খেজুর গাছটি কিনে এই ইয়াতীমকে দিয়ে দেই,
তাহলে আমিও কি জান্নাতে একটি খেজুর গাছের মালিক
হবো?' রাসুলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, "হ্যাঁ, তোমার জন্যও
জান্নাতে খেজুর গাছ থাকবে।" আবু দাহদাহ (রাঃ) সাথে
সাথে আবু লুবাবাকে বললেন, 'আপনি আমার সেই সম্পূর্ণ
বাগানটি গ্রহণ করে সেই খেজুর গাছটি আমাকে দিয়ে দিন।'
.
আবু লুবাবা 'দুনিয়াবী' এই বিনিময় বিশ্বাস করতে পারছিল
না! হুঁশ ফিরলেই সে বলল, 'হ্যাঁ আমি আপনার খেজুর গাছের
বাগানটি গ্রহণ করলাম। বিনিময়ে আমার সেই খেজুর গাছটি
আপনাকে দিয়ে দিলাম।'
হযরত আবু দাহদাহ (রাঃ) সেই মূহুর্তেই খেজুর গাছটি
ইয়াতীম ছেলেটিকে উপহার হিসাবে দিয়ে দিলেন। তারপর
রাসুলুল্লাহ্ ﷺ এর দিকে তাকিয়ে বললেন, 'হে রাসুলুল্লাহ্ ﷺ !
এখন আমি কি জান্নাতে একটি খেজুর গাছের মালিক হলাম'?
রাসুলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, "আবু দাহদাহ'র জন্য জান্নাতে এখন
কত বিশাল বিশাল খেজুরের বাগান অপেক্ষা করছে।"
.
বর্ণনাকারী হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, এ কথাটি রাসুলুল্লাহ্
ﷺ এক, দুই বা তিনবার বলেননি; বরং খুশী হয়ে বারবার
বলেছেন।
শেষে আবু দাহদাহ (রাঃ) সেখান থেকে বের হয়ে সদ্য বিক্রি
করে দেয়া সেই বাগানে ফিরে গেলেন। বাড়ির দরজায় এসে
স্ত্রীকে ডাক দিলেন তিনি, 'হে উম্মে দাহদাহ! বাচ্চাদেরকে
নিয়ে এ বাগান থেকে বের হয়ে আসো। আমি দুনিয়ার এই
বাগান বিক্রি করে দিয়েছি'। তাঁর স্ত্রী বললেন, 'আপনি কার
কাছে এটি বিক্রি করেছেন? কে কত দাম দিয়ে এটি কিনে
নিয়েছে?'
.
আবু দাহদাহ (রাঃ) বললেন, 'আমি জান্নাতে একটি খেজুর
বাগানের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিয়েছি'। তাঁর স্ত্রী
বললেন, 'আল্লাহু আকবার! হে আবু দাহদাহ! আপনি অবশ্যই
অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা করেছেন'।
.
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৫০৪; ইবনে হীব্বান, হাদীস
৭১৫৯; আস-সিলসিলা সাহীহাহ, হাদীস ২৯৬৪; মুস্তাদরাকে
হাকীম, হাদীস ২১৯৪]

আক্ষেপ



ছেলেগুলো আমার বউয়ের কাপড় খুলে নিলো আমি ( ষ্যাঁড় জাফ্রিক বাল) কিছুই করতে পারলাম না।
এ নিয়ে দশ থেকে বারো জন মেসেজে আর কমেন্টে জিজ্ঞাস করলো আমি কেন বদরুলকে সাপোর্ট করি?
আসলেই আমি সত্যি সত্যি সাপোর্ট করি বদরুলকে।
এক মেয়ের পোষ্টে কমেন্ট করলাম ।
সে বলে আমি পাগল, আরও বলে যত্তসব আমি তো বলবো আপনি খাদিজার জন্য মানবতা দেখিয়ে যে পোষ্টটা করেছেন তাতে আপনি পাগলামির করছেন।
.
সেদিন একটা গল্প পড়তেছিলাম তখন লেখক একটা সে রকম উদাহরন দিলো আর সে উদহারণটা ছিল এমনঃ-
এক লোক একটা অফিস খোলে বসলো কাষ্টমার নেই তেমন ।
একটা কাষ্টমার আসতেই তিনি টেলিফোন কানে নিয়ে শুরু করলেন "আরে ভাই বললাম তো চার কোটি টাকার নিচে কাজের টেন্ডার আমি নেই না। সেদিন তো মন্ত্রণালয় থেকে কল করে আমাকে আগামী মাসের ৫ কোটি টাকার কাজটা দিতে চাচ্ছে ।
এটা আমি এখনো ভেবে দেখছি"
.
টেলিফোনটা রেখেই কাষ্টমারকে বললো কি চাই? তখন লোকটা বললো "আপনার টেলিফোনের সংযোগটা দিতে এসেছি।
এতদিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল কয়েক মাসের বেতন বকেয়া ছিল তাই" আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম।
আসলে আমাদের অবস্থাগুলাও এমনই ফেসবুকে চাপা মারার মত। কই অনেকদিন তো হলো আপনাদের বোন তনু হত্যার রহস্যই বের করতে পারলেন না।
এত আন্দোলনে কি ফসল হলো আপনাদের?
.
আমি তো তনুর হত্যাকারীদের সমর্থন করি।
যে /তারা হত্যা করে এত আন্দোলনের মধ্যেও বিচার ছাড়াই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এমন সাহসীদের সমর্থন ছাড়া আমি কি আপনার মত ঘর কোণে বসে ফেবু তে প্রতিবাদ করা ভীতুকে সাপোর্ট করবো?
.
আমি মনে করি বদরুলরাই সেরা ।
তারা দিব্যি বুক ফুলিয়ে আমাদের মত বোকাদের শাসিয়ে যাচ্ছে।
তারা এক বদরুলই যথেষ্ট আমাদের মত শত কোটি বোকাদের ধোকা দিয়ে বোকা বানাতে...
.
ফেবুতে অনেক ইস্যু নিয়ে অনেক প্রতিবাদ দেখছি মাঠের কথা বললে ওনারা নাকে সরিষার তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে।
বোকা থাকার চেয়ে চালাক হওয়া অনেক জরুরি।
.
আসুন যুগের সাথে তাল মিলাই।বদরুলদের পাশে দাড়াই।অবশেষে আবারও বলবো বদরুলের মুক্তি কামনা করি।

বিভিষিকাময় জীবন

রাত একটা বাজে। নিঝুম নিস্তব্ধ ৬৪/বি কালিচরণ লেনের ভাড়া বাড়ির বড় খাটটার ওপর অতিশ গভীর ঘুমে মগ্ন। কিন্তু পারমিতার চোখে ঘুম নেই। ধীরে ধীরে পূবের বড় জানালার কাছে এসে দাঁড়ালো পারমিতা। খোলা জানালা দিয়ে নির্নিমেষে চেয়ে রইলো বাইরের আকাশটার দিকে। সন্ধ্যেবেলার জমাট মেঘটা কেটে যাওয়াতে একটা দুটো করে বেশ কিছু তারা এসে ভিড় জমিয়েছে নিকষ কালো আকাশটার বুকে। কোনটা মিটমিট কোনটা বা স্থির হয়ে আলো দিচ্ছে। ৬৪/বি কালিচরণ লেনের এই বাড়িটাতে আসার পর থেকে কবে যে এভাবে আকাশের দিকে চেয়ে তারা দেখেছে মনে করতে পারলো না পারমিতা।

ছোটবেলায় ছাদে বসে বাবার সাথে প্রথম তারা দেখার শুরু। মনে আছে গরমকালে লোডশেডিং হলে বাবা ছোট্ট পারুকে নিয়ে ছাদে এসে বসতেন। আঙ্গুল দিয়ে দিয়ে তারা চেনাতেন, “ওই দেখ ধ্রুবতারা, ওই লালচে রঙের তারাটা হল মঙ্গলগ্রহ আর সাদা ঝকঝকে উজ্জ্বল যে তারাটা দেখছিস, ওটা হল বৃহস্পতি। আকাশের ওই তারাদের ভিড়ে মিশে আছেন তোর ঠাকুরমা, তোর মা। ওইখান থেকে ওঁনারা আমাদের দেখছেন, আমাদের কথা শুনছেন”।

চোখের কোনটা ভিজে উঠলো পারমিতার! অনেকদিন পর মা-বাবার কথা খুব মনে পড়ছে! খোলা জানালা দিয়ে আকাশের বুকে তারাদের ভিড়ে কেবলি তাঁদের খুঁজে বেড়াচ্ছে! মা সেই কোন ছোটবেলায় আকাশে চলে গেছেন! বাবার কাছেই বেড়ে ওঠা। আর সব মেয়েদের মত মায়ের সঙ্গ পায়নি বলে ছোট থেকেই পারমিতা একটু ভীতু, মুখচোরা, প্রতিবাদ না করে মানিয়ে চলা গোছের মেয়ে। বাবা মেয়েকে যথেষ্ট আগলে রেখেছেন, তবুও মায়ের স্থান তো নিতে পারেন নি। মেয়েলী সমস্যার সমাধানে মায়ের সাহায্য থেকে বঞ্চিত পারমিতা একটু বেশিই নিজেকে গুটিয়ে রাখে।

যদিও আজ বেশি করে বাবার কথাই মনে পড়ছে! এতদিনে সে বুঝে গেছে গুরুজনেরা যা বলেন বা করেন, সবটাই সন্তানের ভালোর জন্য। বাবা প্রথম যেদিন অতিশকে দেখেছিলেন সেদিনই প্রবল আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু পারমিতা তখন অতিশের প্রেমে এতটাই উন্মত্ত যে বাবার আপত্তির কথা ভাল তো লাগেইনি বরং যে বাবা পারমিতার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে না করে ছোট্ট মেয়েটাকে আঁকড়ে এতদিন বেঁচেছিলেন, সেই বাবাকে নিজের চরম শত্রু বলে মনে করেছিল। আর তারপর একদিন বাবাকে না জানিয়ে মাত্র চার মাসের প্রেমিক অতিশের চাপে কলেজ থেকে বাড়ি না ফিরে, নদীর ধারের কালী মন্দিরে কোনোরকমে বিয়েটা সেরে সোজা এসে উঠেছিল ৬৪/বি কালিচরণ লেনের অতিশের ছোট্ট এই ভাড়া বাড়িতে।

তখন অতিশ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী ছিল। পারমিতা সবে কলেজের প্রথম বর্ষ। পরবর্তীতে অতিশ বিভাগীয় পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মীতে প্রোমোশন পায়। কিন্তু পারমিতা আর পড়াশুনা করেনি। এদিকে এভাবে বিয়ে করার জন্য বাবার সাথে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না ওদের। তারপর অভিমান করে থাকতে না পেরে এক বিকেলে স্নেহ বৎসল বাবা নিজেই এসেছিলেন একমাত্র মেয়ের বাড়িতে। তারপর থেকে আসা যাওয়া শুরু হলেও অতিশ কোনোদিন পারমিতার বাবাকে ভাল চোখে দেখেনি। পারমিতাকেও বাবার বাড়ি যেতে দিত না। যদিও ঘরের বাইরের লোকের কাছে অতিশ খুব নম্র ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত! মাথা নিচু করে পথ চলে। কারো সাথে কোন ঝামেলায় নেই ।স্ত্রী ছাড়া কোন মহিলার দিকে চোখ তুলে চায় না।

তা প্রথম দিকে পারমিতাও স্বামীর চাকরি, স্বভাব নিয়ে খুব অহংকার করতো। বিশেষ করে নিজের স্ত্রী ছাড়া কোন মহিলার দিকে চোখ তুলে চায় না, বাড়িতে ফিরেই স্ত্রীকে নিয়ে আদরে মেতে ওঠে। সে স্বামীর ঘরণী মানে স্বামী সোহাগিনী! আর কোন মেয়েই বা স্বামী সোহাগিনী হতে চায় না! কিন্তু ধীরে ধীরে অতিশের দিনের বেলার নম্র ভদ্র রুপটা সরেগিয়ে রাতের অন্ধকারে বন্ধ ঘরের ভেতর একটা জানোয়ারের রুপ নিতে শুরু করলো! অতিশেরভালোবাসা ভয়ঙ্কর রকমের বিকৃত যৌন অত্যাচারে পরিণত হল। স্ত্রীর ইচ্ছে থাকুক বা না থাকুক,শরীর ভাল আছে কি না আছে, কোন কিছুকেই আমল না দিয়ে যখন তখন জোর-জবরদস্তিচলতো। বিভিন্ন ধরনের বিকৃত উত্তেজক ছবি দেখা আর স্ত্রীর ওপর তা প্রয়োগ করাটা এক নেশায়পরিণত হল! অতিশের বিকৃত ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনরকম আপত্তি করলেই ভয়ঙ্কর ক্রুদ্ধ হয়ে উঠতো।একে তো স্বেচ্ছায় বাবার বাড়ি ছেড়ে এসেছে অতিশের কাছে, তায় আবার লেখাপড়া ও উচ্চমাধ্যমিকে ইতি টেনেছে। কি যে করবে পারমিতা বুঝে উঠত না!  ভোর হলেই অতিশ ভালমানুষ হয়ে যায়! তখন পারমিতা কান্নাকাটি করে, বোঝায় অতিশকে, কিন্তু কোন পরিবর্তন নেই!রাত হলে আবার সেই হিংস্র জানোয়ারের রূপ নেয়।

বাবাকে তো আর এসব কথা বলা যায় না! তবুও একদিন আভাষে ইঙ্গিতে মানসিক অশান্তির কথা জানালে বাবা বলেছিলেন “একদম যদি মানিয়ে নিতে না পারিসতবে চলে আয় না আমার কাছে । পড়াশুনাটা আবার শুরু কর,আমি বেঁচে থাকতেই দেখ যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারিস”। কিন্তু চলে আসতে পারে নি পারমিতা।বাবার কাছে পাকাপাকি ভাবে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই আচমকা একদিন স্ট্রোক হয়ে বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলে যান!উচ্চমাধ্যমিক পাশ পারমিতার তিন কূলে আর আপন বলতে কেউ রইল না। অগত্যা বাধ্য হয়েই স্বামীর ঘরে মুখ গুঁজে থাকা। কিন্তু পারমিতা অতিশকে ত্যাগ করে বাবার বাড়ি ফিরে যাওয়ারসিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই কারণে অতিশ দিনে দিনে অতিশয় ক্রুদ্ধ হয়ে পারমিতার ওপর বিকৃত অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়!

মুখচোরা অন্তর্মুখী চরিত্রের পারমিতা কাকে বলবে এসব কথা?মাঝে মাঝে ভাবতো, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাবে! কিন্তু কোথায়, কার কাছে যাবে? কাকেই বা বলবে এসব কথা? যদি অতিশের কানে ওঠে তবে হয় অত্যাচার করে মেরে ফেলবে, নয় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে! তখন কি করবে সে? তবুও একদিন সাহস সঞ্চয় করে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বয়সীবড় ননদকে অতিশের বিকৃত যৌন অত্যাচারের কথা জানায়। শুনে বড় ননদ অবাক হয়ে বলেছিল,
 “আমার হীরের টুকরো ভাইয়ের সম্পর্কে এসব কি বলছ তুমি? ওকত ভাল ছেলে তা তুমি জানো? ছেলেদের একটু আধটু অমন শারীরিক চাহিদা থাকে! স্ত্রীদের কর্তব্য তা পূরণ করা! তোমার জামাইবাবুরও আছে! আমি নিঃশব্দে তা পূরণ করি। আমি কি ঘরেরবাইরে সে সব কথা পাঁচ কান করতে গেছি? শুনেছো কোনোদিন? আর তুমি কিনা এসেছো তোমাদের চার দেওয়ালের ভেতরের কথা আমাকে জানাতে? ভাইয়ের কথামত চললেই তো পারো!কি গুণ আছে তোমার শুনি? ওই তো একটু রূপ! তাও তো আমার ভাই বউঅন্তঃপ্রাণ! অন্যমহিলার দিকে চোখ তুলেও চায় না! ভাই যদি তোমাকে ছেড়ে অন্য মেয়ের কাছে রাত কাটাতো তোমার ভাল লাগতো?”

পারমিতা ভয়ে আর কথা বাড়ায় না! যদি অতিশের কানে ওঠে!নইলে ননদের কাছে খুব জানতে ইচ্ছে করছিল, “সঙ্গমের সময় জামাইবাবুও কি বড়দির স্তন দুটোশক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে? সিরিঞ্জ দিয়ে গরম জল জোর করে যৌনাঙ্গে প্রবেশ করায়? শরীরের গোপন জায়গায় সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়? স্ত্রীর মুখে রেতঃপাত করে? বাবার মৃত্যুর পর চারদিনের কালাশৌচের মধ্যেও একজন পিতৃহারা কন্যাকে শোক করার সময়টুকু দেয় না যে স্বামী, তাঁকে কিভাবে মানুষ বলবে পারমিতা? চোখের জল মুছে ফিরে এসেছিল ননদের বাড়ি থেকে। তাই আজখুব মনে পড়ছে বাবার কথা! বাবার ইচ্ছেমত যদি লেখাপড়া মন দিয়ে করতো, তবে এদিন আজদেখতে হত না!

তাও যদি একটা সন্তান হত ওদের, তাহলে হয়তো কিছুটা পাল্টাতো অতিশ! কিন্তু ভগবানের কি যে মহিমা কে জানে! আট বছর হল বিয়ে হয়েছে, একটি সন্তানও আসেনি পারমিতার গর্ভে। অথচ দিন দিন অতিশের অত্যাচার বেড়েছে। আজকাল বাইরেরকারো সাথে সেভাবে মিশতে দেয় না। অফিস যাওয়ার সময় পারমিতাকে ঘরে তালা বন্ধ করে যায়।পারমিতাও ভয়ে কাউকে কিছু বলে না। স্বল্প শিক্ষিতা পারমিতা মহিলা কমিশনের নাম শোনেনি কখনো!

আজ সন্ধ্যেবেলা, হ্যাঁ, যে অতিশ বাইরের কারো সাথে পারমিতাকে মিশতে দেয় না, সে অতিশ সন্ধ্যেবেলা সাথে করে একজন অপরিচিতকে নিয়েএসেছিল। লোকটার চোখ দুটো যেন কেমন! বাইরে থেকে অনেক রকম খাবার কিনে এনেছিলঅতিশ। সেসব খাবার পারমিতাকে পরিবেশন করতে বলে। পারমিতা খাবার পরিবেশন করে দিয়েবেডরুমে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর অতিশ এসে পারমিতাকে ড্রইং রুমে যেতে নির্দেশ দেয়। আরসঙ্গে এও বলে, “ইনি নাকি অফিসের বস। এনাকে একটু খুশি করতে হবে। বেশি কিছু না, একটুহেসে কথা বলা, অথবা উনি হাত টাত ধরলেও ধরতে পারেন। যদি শুতে চায়, পারমিতা যেন হেসেরাজি হয়! তাহলেই নাকি নতুন ফ্ল্যাটের জন্য অফিস থেকে অতিশ একটা বড় মাপের লোন পাবে”।

অতিশের কথাটা শুনে পারমিতা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল! দিনের পর দিন নিজে শারীরিক মানসিক অত্যাচার করেও ক্ষান্ত হয় নি! আজ আবার বাইরের লোকের কাছে নিজের স্ত্রীকে পাঠাতে চাইছে!! আজ এই লোকটিকে মেনে নিলে কাল আবার যে অন্যকাউকে বাড়ি আনবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই! আর তাই এই প্রথম আজ তীব্র প্রতিবাদকরেছিল পারমিতা! কিন্তু সে প্রতিবাদের মাসুল দিতে হয়েছিল চরম ভাবে। অপরিচিত সেই লোকটা অধস্তন কর্মচারীর সুন্দরী বৌকে হাতে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে অতিশকে গালাগাল দিয়ে চলেগিয়েছিল। আর তারপর ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে, অবাধ্য স্ত্রীর মুখ বেঁধে, বেল্ট দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে মেরেছিল অতিশ। সারা শরীরে চাকা চাকা কালশিটে করে দিয়েছে! তারপর নিজে ক্লান্ত হয়ে হাঁপাতে শুরু করে। প্রবল শ্বাসের সমস্যা শুরু হয় অতিশের!

কিছুদিন ধরেই অতিশ শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছে। সকালসন্ধ্যায় নিয়ম করে ইনহেলার নিতে হচ্ছে। আজ সন্ধ্যের ইনহেলার সময় মত নেওয়া হয়ে ওঠেনি।অতিশ হাঁপাতে হাঁপাতে বিছানায় বসে পড়ে। টেনে টেনে শ্বাস নিতে নিতে পারমিতাকে আদেশ করেইনহেলারটা পাশের ঘর থেকে এনে দেওয়ার জন্য। পারমিতা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাওয়া শরীরটাকেকোনোরকমে টেনে নিয়ে গিয়েছিল পাশের ঘরে, যেখানে টেবিলের ওপর অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে ইনহেলার রাখা ছিল। কিন্তু হঠাৎ কি যে বুদ্ধি হল পারমিতার! প্রচণ্ড আক্রোশে অতীশকে একটু শাস্তি দিতে চট করে ইনহেলারটা লুকিয়ে ফেলল। আর পুরনো খালি একটা ইনহেলার এনে এগিয়ে দিল অতীশের দিকে। অতীশ কোন প্রশ্ন না করেই সেটা নিয়ে প্রাণপণে পাফ নিতে লাগল। কিন্তু ফাঁকা ইনহেলারে কিছুই হল না। শ্বাসকষ্ট বেড়েই চলল। চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসতে লাগল! মুখের শিরা উপশিরা ফুলে উঠলো অতিশের!

এখন বিছানায় শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে অতিশ। ভোরের আলো এসে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে পূবের খোলা জানালা দিয়ে। অনেক দিন বাদে আজ এই ভোরেরআলোটা খুব সুন্দর আর মিষ্টি লাগছে! পারমিতা জানালার কাছ থেকে সরে এলো। বিছানার একপাশ থেকে অতিশের মোবাইলটা তুলে নিল। একটা নম্বর ডায়াল করে বলল, “হ্যালো, কালিপুকুর থানা? আমি ৬৪/বি কালিচরণ লেন থেকে বলছি। এখুনি চলে আসুন। কাল রাতে এখানে একটা খুনহয়েছে। হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুনই হয়েছে! আমি ওনার বাড়ি থেকেই বলছি। আমি কে? মৃতর স্ত্রী পারমিতা বলছি!”

সমাজের বাস্তব চিত্ত কল্পনা করে লেখা। ভুলভ্রান্তি ক্ষমার দৃস্টিতে দেখবেন। 
আপত্তিকর কিছু থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। 
ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

সুপ্রিয় পাঠক, মূল্যবান সময় দিয়ে লেখাটি পঠনের জন্য জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬

বর্ষণ-মুখর শুক্রবার

 বর্ষণ-মুখর শুক্রবার 

- AYUB ANSARY ( অচিনপুরের আইয়ুব )

বছর কয়েক আগের কথা। তখন হালকা হালকা শীত অনুভূত হচ্ছিল। 
মাঝে মাঝে দু-এক দিন বৃস্টিও হচ্ছিল। 
এ রকম একটা দিনের কথা আজ মনে পড়লো। 
দিনটা ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। 
সারা সপ্তাহ জুড়ে মাত্র একদিন সময় পেলাম নিজের মত করে। 
সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলো কাটাতে হয় বিভিন্ন কর্মের সাথে। 
যেহেতু ব্যাস্ততার মাঝে মাত্র কিছু সময় পেলাম, তাই ভাবলাম আজ বাহিরে ইচ্ছেমত 
বেড়াব। 
সেই সাথে পরিকল্পনা অনুযায়ি অনিক, রবি, রাসেল কে সাথে নিলাম। 
চার জনে মিলে চলে গেলাম অনেক দূরে। 
সামনে যা দেখছি তা নিয়েই চলছে আমাদের তর্ক-বিতর্ক। 
এভাবেই চললাম খানিকটা পথ। 
তখন দুপুর হয়েছে। আযান হচ্ছে চতুর্দিকে। 
আমরা একটা মসজিদে গেলাম স্বলাত আদায় করতে। 
তখন নামায শেষ। আমরাও বেড়িয়ে পড়লাম। 
দুপুরের খাবার গ্রহনের জন্য আমরা হোটেল খুঁজছিলাম। 
কিন্তু পথের মাঝে কোন দোকানপাট দেখা যাচ্ছিল না। 
ঘন্টা খানেক পর আমরা এক হোটেল খুঁজে পেলাম। 
আমরা ভেতরে গিয়ে খাচ্ছিলাম। এমন সময় নামলো অঝর ধারায় বৃস্টি। 
তখন খাওয়া শেষ কিন্তু বৃস্টির কারণে আমরা বেরুতে পারছিলাম না। 
তখন একটু বৃস্টি কমলো। 
আমরা বাহিরে আসলাম। একটু পরে আকাশ ফ্রেশ হতে লাগলো। আমরাও গন্তব্যে ফিরছিলাম। 
এমন সময় অনিকের চোখে পড়লো এক বিড়াল বাচ্চা। 
আমাকে বললো দেখ আইয়ুব ঐটা কি? 
আমি দেখলাম বিড়ালটি বৃস্টিতে ভিজে মৃতপ্রায় অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে আছে। 
আমি বললাম বিড়ালটি কে বাসায় নিয়ে যাব। 
এমন সময় রবি বাধা দিলো। 
তার মতে রাস্তা থেকে কিছু নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। 
সে আরোও বললো যে তার পোষা বিড়ালগুলোর মাঝে থেকে আমাকে একটা দেবে । 
কিন্তু আমি তাতে রাজী হলাম না। আমি বললাম দেখ দোস্ত এই বিড়াল টা যদি আমরা ছেড়ে যাই তবে 
মারাও যেতে পারে। 
অবশেষে বিড়ালটা কে বাসায় নিয়ে আসলাম। 
আমার হাতে বিড়াল বাচ্চা দেখে আম্মু বললো, কিরে বিড়াল টা পাইলি কৈ? 
ঃ-আম্মু, রাস্তায় দেখি বিড়ালটা মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল। তাই নিয়ে আসলাম। 
- হুম, বিড়াল টা সুন্দর আছে তো। দেখি আমার হাতে দে।
(আম্মুর হাতে হস্তান্তর করলাম) 
ঃ- বিড়াল তো শীতে কাঁপছে। যাহ, চুলার পাশে রাখ। গরমে একটু স্বাভাবিক হোক। 

আম্মুর কথা অনুযায়ি আমি বিড়ালটা কে রান্নাঘরে চুলার পাশে রাখলাম। 
কিছুক্ষণ পর আম্মু বিড়ালটা কে একটু খেতে দিল। সে অল্প একটু খেল। 
কয়েকদিনের মধ্যেই বাসার সবার সাথে তার ভাব গড়ে উঠলো। 
ছোট ভাই এর নতুন খেলার সঙ্গী হলো বিড়ালটি। 
ছোট ভাই টম & জেরি দেখত নিয়মিত। 
তাই সে বিড়ালটির নাম রাখল টম। 
সে যখন টম বলে ডাক দিত তখনই ম্যাও ম্যাও শব্দে সাড়া দিত বিড়ালটি। 
একদিন রবি আমাদের বাসায় বেড়াতে আসলো। 
বাসায় আসার পর প্রথম তার নজর গেল বিড়ালের উপর। 
বিড়ালটা তারও নজর কাড়লো। 
ছোট ভাই রবির কাছে একটা জেরি চেয়ে বসলো। 
রবি তার কথায় একটা জেরি দেওয়ার কথা জানালো। 
সত্যি সত্যিই রবি একটা বিড়াল উপহার দিল ছোট ভাই কে। 
সে নতুন বিড়ালটির নাম দিল জেরি। 
এবার সে টম এবং জেরির সাথে নিয়মিত খেলা করা শুরু করলো। 
একদিন সে আমাকে বললো ভাইয়া টম ও জেরির বিয়ে দেব। 
ছেলে খেলার মত করে আমরা টম + জেরির বিয়ে দিলাম। 
এখন বাসার সবার কাছেই টম এবং জেরি অত্যন্ত প্রিয়। 
এভাবেই চললো কিছুদিন। 
একদিন হটাত করেই টম কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। 
অনেক খোঁজাখোজি করার পরেও পাওয়া গেল না। 
ছোট ভাই কান্নায় চোখ ভাসাতে লাগলো। 
সেই সাথে আমিও কান্না করতে লাগলাম। 
চতুর্দিকে খুঁজলাম কোথাও দেখা মিলল না টম এর।

আজোও কান্না আসে সেই বিড়ালের কথা মনে পড়লে। 
আজ মনে হয়, কেনো সেদিন বিড়ালটা এনেছিলাম? 
যদি না আনতাম তাহলে এত ভালোবাসাও জন্মাতো না। 
আজ আর কান্নাও করতে হত না। 
সত্যিই সেই বিড়াল কে ভালবেসেছিলাম মনের অজান্তে। 
যা কখনোও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। 

আজোও মনে পড়ে সেই বর্ষণমুখর শুক্রবারের কথা। 
এখনোও সময় পেলে রাস্তার পাশে খুঁজি এমন কোন এক বিড়াল কে। 
বছর পেরিয়ে গেল , কিন্তু কোন সন্ধান মিলেনি। 
জানি না এমন কিছু আর পাব কি না? 
যদি পাই তবুও ১ম টার কথা ভুলতে পারব কি কোনদিন??

#অচিনপুরের_আইয়ুব


স্বপ্নে দেখা স্বপ্নচারিনী

দুপুরবেলা আমি আর সিজান দুই বন্ধু ঘুমিয়েছিলাম। 
অনেকদিন পরে আমাদের দেখা হলো। 
তাই এক বেডেই দুজন ঘুমাচ্ছিলাম। 
তারপর হটাত ফোনের রিংটোন কানে আসছিল।
-কী করো?
ঃ-এই তো শুয়ে আছি।
- এখন সময় কত তার হুঁশ আছে? 
কখন থেকে ফোন দিচ্ছি রিসিভ করছো না। 
ঃ-ঘুমিয়ে ছিলাম তাই টের পাইনি। 
-নাও এখন ফ্রেশ হয়ে হাইস্কুলের মাঠে চলে এসো জলদি। সেই কখন থেকে আমি বসে আছি তোমার অপেক্ষায়......
ঃ- তুমি আরেকটু অয়েট করো। আমি আসছি....
ফোনটা রেখে আবারও ঘুমিয়ে গেলাম।
কিছুক্ষণ পরে আবারোও একই ব্যাক্তির ফোন।
ফোন রিসিভ না করেই চলে গেলাম ওয়াশরুমে। 
রেডি হতে প্রায় আধাঘন্টা লেগে গেল। 
এরপরে এক দৌড়েই চলে গেলাম মাঠে। 
গিয়েই দেখি সেঁজুতি দাঁড়িয়ে আছে।

-সেঁজুতি কি করো?
ঃ- কচু উঠাই। তোমাকে খাওয়ানোর জন্য!!
-কী বলো মানুষ কচু খায় নাকি?
ঃ- কোনদিন কেউ না খেলেও আজ থেকে খাবে। 
আর নিয়মিত খাবে। 
কথাশুনে ভ্যাবাচ্যাকা লেগে গেল। 
এমন সময় পাশের ছোট ছোট কচু গাছের পাতা ছিঁড়ে মুখে গুঁজে দিতে লাগল। 

-এই এই, এ কি করছ??
ঃ- কচু খাওয়াচ্ছি। 
- আসতে দেরী হয়েছে তাই রাগ করেছ??? 
আর দেরী হবে না কথা দিলাম। grin emoticon
ঃ- সত্যিই?
-অবশ্যই। 
এমন সময় সামনের রাস্তা দিয়ে ১ টা মেয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল। 
সামনের দিকে নজর দিতেই,, 
-এই তুমি ঐ মেয়েটার দিকে তাকালে কেনো?
ঃ- আরে নাহ, আমি তাকাইনি। 
-আমার সাথে মজা করো???
(বলেই উঠে একটু দূরে গিয়ে বসতে বসতে,,
ঃ- যাও তোমার সাথে কোন কথা নেই। 
আমি চললাম আমার পথে। তুমি ঐ মেয়ে কে নিয়েই সময় কাটাও। gasp emoticon 
-দেখ সেঁজুতি। তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। 
ঃ- আচ্ছা কান ধরে বল যে আর কারোও দিকে তাকাবা না। 
- আমি কান ধরতে পারি না। frown emoticon
এ সময়ে সেঁজুতি দাঁড়িয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল। 
- সেঁজুতি!! কৈ যাও?? 
ঃ- অন্য ভাল কোন ছেলের দিকে তাকাতে। 
- আরে!! কি বলছ এসব। আচ্ছা ( কান ধরে) এই কথা দিচ্ছি তোমাকে ছেড়ে আর অন্য কারোও দিকে তাকাব না।
তবুও একটু শান্তিতে থাকতে দাও প্লিজ। 
-কি বললা?? আমি তোমার শান্তি বিনষ্ট করছি??
ঃ-আরে এ!!! আমি সেটা বলিনি। 
-সত্যি বলো নি তো।
ঃ- না। সত্যিই বলিনি। 
-এই তো এবার লাইনে এসেছ। চলো আমরা ঐ বট গাছের নিচে বসি।

এমন সময় সিজান আমাকে লাত্থি মেরে বেড থেকে নিচে ফেলে দিল। 
আমি হতচকিয়ে উঠলাম। 
এমন সময় সিজান বলে উঠলো, দোস্ত সেঁজুতির কথা তো এর আগে কোনদিন বলিস নি। 
একা একা লাইন মারস হ্লা। 

অনেক কিছুতেই বোঝানোর চেস্টা করলাম যে সত্যিই এমন কিছু নাই। 
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখছিলাম। 
কিন্তু কেমন জানি বাস্তবই মনে হচ্ছিল। 
দোস্ত প্লিজ বিশ্বাস কর...........

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬

অপরাধের মদদ দাতা কে??????


আজ এখানে কাল সেখানে ঘটেই চলেছে যতসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা। 
যা দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ স্বরূপ। 
এর প্রলাপ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। 
কেউ বা রাজনৈতিক ভাবে একদল অপরদলকে দোষী স্বাব্যস্থ করে চলেছেন।
কিন্তু কেন হচ্ছে এমন কার্যকলাপ? 
আসল সমস্যা টা কোথায়??

কুপিয়ে হত্যার সংস্কৃতি আমাদের বেশ পরিচিত। 
আমরা দেখেছি ২০১০ সালের পরে থেকেই অনেকে এই সংস্কৃতির উপন্যাস হয়েছেন। 
বিশ্বজিত, রিসা, তৃশা, আরো অনেকেই এর জ্বলন্ত প্রমাণ। 

এই নারকীয়তা থেকে বের হতে পারছিনা কেন? 
কেন দিন দিন আরো বেশি নির্মমতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের? 

এই তো কয়েকমাস আগে ধানমন্ডি লেকে একটা ছেলে আরেকটা ছেলে কে নির্মম ভাবে নির্যাতন করলো। আর সেই ভিডিও আমরা ঘরে বসে দেখলাম। 
পাশ দিয়ে মানুষ হেটে যেতে দেখেছি। কেউ বাঁধা দেয়নি।

কয়েকদিন আগে এক কিশোর ছেলে পেট্রোল ঢেলে তার জন্মদাতা পিতা কে পুড়িয়ে হত্যা করলো। 
কেউই বাধা দেয়নি। 
তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে আমরা কেন বর্বর হতে চলেছি?
এই বর্বরতার পেছনে ভূমিকা রাখছে কিসে? 

ঝামেলা টা আসলে আমাদের মাঝেই লুকিয়ে আছে, লুকিয়ে আছে আমাদের সমাজ ব্যাবস্থার মাঝে। 
লুকিয়ে আছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। 

সন্ত্রাস, বর্বরতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামাদীর পর্যাপ্ত সরবরাহ দেওয়ার পর আমরা নিজেরাই মানববন্ধন করি।
ক্যাম্পাসে যারা নেত্বৃত্ব দেই তারাই মিশে আছি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাঝে। 

এ পর্যন্ত যত হত্যাকান্ড ঘটেছে তার সবকটি করেছে ছাত্র রা। 
আরে তারা নাহয় করলো, আমরা সচেতন জনতা তা না ঠেকিয়ে ভ্যালভ্যালিয়ে দেখছি। 
ঘাতক যখন আঘাত হানছে তখন আমরা ক্যামেরামানের ভূমিকা পালন করছি। 
নির্মম কি শুধু সেই ঘাতক নাকি সেই সাথে আমরাও?
আমাদের পা কি তখন বেঁধে রেখেছিল কেউ? 
নাকি আমরা সবাই প্রতিবন্ধী? 
আমরা যদি সবাই প্রতিবন্ধীর ভূমিকায় থাকি
তবে এই প্রতিবন্ধী সমাজে এমন হত্যাকান্ড ঘটবেনা কেন?

তারা না হয় হতভম্ভ হয়ে পড়েছিল। 
এখন দেখি জাতীর কর্ণধার সাংবাদিক মহাশয় গণ টক-শো তে বলছেন যে এটা রিলেশনশীপের ব্যাপার ছিল। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রেমিক তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ করেছে।
কত বড় মিথ্যাচার!!!
এখানেও চলছে মিথ্যা অযুহাত। 
এমন সাধারণ কারণে কি কেউ কারোও প্রাণ নস্যাৎ করতে পারে? 
যদি পারে তাহলে সে কেমন প্রেমিক??????? 
নাকি প্রেমের নামে ছলনা? 
বিস্তারিত পড়ে জানতে পারলাম যে ছেলেটা ঐ মেয়েদের ঘরে প্রাইভেট টিউটর ছিল। 
ছয় বছর ধরে ওদের প্রেম চলছে। ইদানিং সম্পর্কে ভাটা পড়তে যাচ্ছিল।

মেয়েটি তাকে এড়িয়ে চলছিল। ছেলেটা তার শেষের ফেসবুক পোস্ট গুলি তে যা লিখেছিল তাতে বুঝা যায় যে সে প্রচন্ড মানসিক কষ্টে ছিল......

তাহলে সেইসব প্রেমের হকার রা এখন পুরো বিষয়টি সামনে আনছে না কেন। 
যারা প্রেম প্রেম করে পুরো যুবসমাজ কে উগ্রতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের প্রেমের এই দশা কেন? 
প্রেমিকার আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে নায়ক নায়িকার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এমন মুভি আমরা নিত্যদিন দেখে থাকি। 
এমন মুভির সৌজন্যেই হয়তো বদরুলের মত প্রেমিকরা আজ প্রিয় মানুষটিকে এভাবে ভালবাসা দিচ্ছে!! 

তাছাড়াও আজকের যুবসমাজ দিনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দিচ্ছে এফএম রেডিও শোনার পেছনে। 
যেই এফএম এ সর্বদায়ই নোংরামী শেখানো হচ্ছে। 
সকল চ্যানেলের আরজে গুলা তো বিনামূল্যে শিখিয়ে দিচ্ছেন যে আপনি 
কিভাবে প্রকাশ্যে একজন কে প্রপোজ করবেন।
আর যখনি কোন ছেলে সেই অভিজ্ঞতার সত্যতা প্রমাণ করতে যায় 
তখনই সে একজন ইভটিজার হয়ে যায়। 
ছেলেটির আবাস স্থল হয় কারাগার, আর আরজে'র প্রমোশন হয়। 
দিনে দিনে বাড়ে তার মাইনে। 

পরিশেষে বলতে চাই আমাদের নিত্যদিনের কার্যকলাপই ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
যেখানে ভূমিকা রাখছেন তথাকথিত জ্ঞানী ব্যাক্তিরা। 
যুবসমাজকে প্রেম শেখাতেই নিয়োজিত আজকের টিভি চ্যানেল। 
পর্ণ যেখানে সহজলভ্য, গার্লফ্রেন্ড নামক পতিতা যেখানে ফ্রি। 
সেখানে যুবসমাজ আর কি উপহার দিবে জাতিকে??? 

সাংবাদিক মহাশয়, কেন যুবক আজ প্রেমের জলে হাবুডুবু খাচ্ছে সে বিষয়ে একটি কলাম লিখবেন কি? 
এ ব্যাপারে একটা টক-শো এর আয়োজন করবেন কি? 
যাদের প্রভাবে আজ এমন কিছু ঘটছে তাদের শাস্তির দাবী উঠাবেন কি? 
নাকি এখানেও পিস টিভির অবদান দেখাবেন????????????? 

Ayub Ansary
#অচিনপুরের_আইয়ুব

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

উপদেশমূলক গল্প

এক কৃষকের একটা গাধা ছিল।
গাধাটা একদিন অগভীর কুয়ায় পড়লো। 

কিন্তু কুয়াটার গভীরতা গাধার উচ্চতা থেকে বেশি হওয়াতে অবলা প্রাণীটি উঠে আসতে পারছিল না। গাধার ত্রাহি চিৎকারে কৃষক এবং আশপাশের মানুষ ছুটে আসল।
কিন্তু ওরাও বুঝে উঠতে পারল না কী করবে।
ঘণ্টা খানেক নানাভাবে চেষ্টা করার পরও যখন গাধাকে উপরে তুলে আনা গেল না, কৃষক তখন চিন্তা করল, কুয়াটা আগে থেকেই বিপজ্জনক। 

বেশ কয়েকটি বাচ্চা কুয়াতে পড়ে বারবার আহত হয়েছে।
কুয়াটা এমনিতেই ভরাট করতে হবে, তার উপর গাধাটা অনেক বুড়ো এবং দুর্বল হয়ে গেছে।
তাই কৃষক সিদ্ধান্ত নিল গাধাসহ কুয়াটি ভরাট করে ফেলবে।
কৃষক সবাইকে ডাক দিয়ে হেল্প করতে বলল। 

সবাই হাতে বেলচা এবং কোদাল নিয়ে পাশ থেকে মাটি কেটে কুয়াতে ফেলতে লাগল।
কিছু মাটির দলা গিয়ে গাধাটির উপরেও পড়ল।
ওদের মাটি ফেলা দেখে গাধাটি বুঝতে পারল কি ঘটতে চলেছে, প্রাণীটি ভয়ে-দুঃখে নিরবে কাঁদতে লাগল।
কিছুক্ষণ মাটি ফেলার পরে সবাই হঠাৎ চমকে গেল, কারণ গাধাটি অদ্ভুত একটা কাণ্ড করে বসেছে। সবাই যখন গাধার উপরে মাটি ফেলছে, গাধাটি তখন গা-ঝাড়া দিয়ে মাটি নিচে ফেলে দিচ্ছে এবং এক-পা, এক- পা করে ভরাট হওয়া জায়গাতে অবস্থান নিচ্ছে। 

সবাই এবার দ্রুত গাধার উপরে মাটি ফেলতে শুরু করল, গাধাটিও তত দ্রুত মাটি গায়ের ওপর থেকে ঝেড়েফেলে ভরাট হওয়া জায়গাতে এসে দাঁড়ায়।
এভাবে কিছুক্ষণ মাটি ফেলার পর সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্য করল কুয়াটি প্রায় ভর্তি হয়ে গেছে, অবশেষে গাধা কুয়া থেকে বেরিয়ে আসলো।…......

জীবনে চলার পথে এমন অসংখ্য কুয়াতে আপনি পড়বেন, যা থেকে উঠে আসার মতো সক্ষমতা হয়তো আপনার থাকবে না। আশপাশের মানুষগুলো আপনাকে টেনে তোলার পরিবর্তে আপনাকে আরো ডুবিয়ে দিতে চাইবে।
কিন্তু এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনাকে ওই গাধা টির মতই গা-থেকে আবর্জনাগুলো একটু একটুকরে ঝাড়া দিয়ে ফেলতে হবে যতক্ষণ না ওই আবর্জনাতে কুয়াটা পূর্ণ হয়ে যায়।
যখনই সমস্যা এসে আপনার শরীর এবং মনের উপরে চেপে বসবে, প্রতিবার একটু একটু করে ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিবেন।
তারপর মাথা উঁচু করে একটু আগে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া সমস্যার উপরে গিয়ে দাঁড়াবেন।
প্রতিটি সমস্যা-ই আবর্জনার মতো। আপনি থেমে থাকলে আবর্জনার পাহাড় এসে আপনাকে জীবন্ত কবর দিয়ে দেবে।




কল্পনার প্রেম

সেদিন প্রথমবারের মতো দেখেছিলাম তোমায়।
কলেজের সবুজ বেষ্টনীতে বসেছিলে। 


নীল পরীরা যেভাবে ডানা জাপটে বসে থাকে।
আমি দূর থেকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে ছিলাম। 
বসন্তের বাতাসে মৃদু হাসি হাসছিল তোমার চোখগুলো।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।
হয়তো এটাই প্রথম ভালোবাসার ক্ষীন আভা ছিলো।
 দিনের পর দিন কেটে গেল।
কেটে গেল কয়েকমাস....
তোমার সাথে আমি কথা বলার সাহস পাইনি।
একদিন আমার বন্ধু আকাশ এসে একটা মেয়ের ছবি দেখালো,
জিজ্ঞেস করলো মেয়েটাকে চিনিস? যে ছবিটা ছিল তোমারই !
তার প্রশ্নের উত্তরে আমি বললাম চিনি না।
তার মুখ ফসকে তোমার নামটা বের হয়ে এলো।
সেবার-ই প্রথম তোমার নাম জানলাম আমি।
কিছুদিন পর তোমার সাথে খুব ভাল বন্ধুত্ব হলো। 
কিন্তু এই বন্ধুত্বের বন্ধনের চেয়ে আরেকটু কাছের করে পেতে চাইতাম তোমাকে।
 তুমি সবই বুঝতে...
বাধা দিতে আমায়।
একদিন বিকেলে হাঁটতে বের হয়েছিলাম তোমার সাথে। 
তোমাকে প্রতিনিয়ত খুব রাগানোর চেষ্টা করতাম আমি। কিন্তু তুমি কখনই রাগতে না।
দীর্ঘদিন মনে জমিয়ে রাখা ভালোবাসার প্রকাশ ঘটালাম। অর্থাৎ প্রপোজ করলাম তোমায়।
তুমি বলেছিলে আমার বিয়ের উপযুক্ত সময় হওয়ার আগেই তোমার বিয়ে হয়ে যাবে।
আমি বলেছিলাম তিনটি বছর অন্তত অপেক্ষা করো।
তুমি বললে তা কখনও হয় কী?
এভাবেই প্রতিটা বিকেল কাটতো ভবিষ্যতের কাল্পনিক আঁকিবুকি নিয়ে।
একদিন হঠাৎ তুমি আমার সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে।
তার ঠিক চারদিন পর তুমি আমাকে বললে, তোমাকে ভুলে যেতে।
কিন্তু তা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। 
এর কয়েকদিন পর জানলাম তোমার বিয়ে হয়ে গেছে।
সবকিছু খুব কম সময়ের মধ্যেই যেনো শেষ হয়ে গেলো...
তোমার মুখের শেষ বাক্য টা ছিলো ভালো থেকো। 
আমিও বারবার বলে যাচ্ছিলাম তুমিও ভালো থেকো।
তুমি ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকবো।
আমার সুখ, স্মৃতি, ভলোবাসা সবকিছু ভালো থাকবে।
তুমি তখনও বোঝনি কতটা ভালোবাসতাম তোমাকে। সত্যিই বোঝনি।
আমার হৃদয়ের রক্তে ভেজা চিঠিটা তোমার পায়ে ফেলে চলে গেলাম দূরে... বহুদুরে।
ভালো থেকো তুমি.........

-(সম্পুর্ণ কাল্পনিক) - 
#অচিনপুরের_আইয়ুব

বি।দ্রঃ- গল্পটি কাল্পনিক আকারে সাজিয়েছেন অচিকীর্ষু লৌকিক।।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

অসতর্কতার পরিণাম

অসতর্কতার পরিণাম

                                                                               -Rayhan Ahmed




সাগর বাবুগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্র।
ছোট থেকেই ছেলেটা একটু ডানপিঠে স্বভাবের।
সে ক্লাসে খুব ভালো হলেও ধরাবাঁধা নিয়মনীতি মানতে নারাজ।
পড়াশোনায় অন্যদের তুলনায় ভালো হলেও শৃঙ্খলাবিধি না মানার দায়ে প্রায়ই
মকবুল স্যারের কানটানি খেতো।
.
একদা সে লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য শহরে যায়।
সে মূলত গ্রামের ছেলে।
গ্রাম থেকে শহর প্রায় ৮ কি.মি দূরে।
সে বাস যোগে করিমগঞ্জ বাস স্টান্ডে পোঁছে।
স্টান্ড থেকে ঠিক বিপরীত পথে লাইব্রেরি বাজার।
সেখান থেকে মিনিট পাঁচেকের পথ।
প্রায় ১০০ গজ দূরে ওভারব্রীজ। ওভারব্রীজ পেরিয়ে ১ টু বামদিকে গেলেই লাইব্রেরী বাজার।
সে ভাবলো ওভারব্রীজ পার হওয়া টা ঝামেলার। তাই  রাস্তার মাঝ  দিয়ে পার হওয়ার পরিকল্পনা করলো।
রাস্তায় জানজট ছিলো প্রচুর।
কিন্তু সে তবুও রাস্তা পার হবেই। তখন ১টু জানজট কমেছে।
রাস্তা বেশ ফাঁকাফাঁকা।
সে ভাবলো এটাই রাস্তা পার হবার উপযুক্ত সময়।
সে দিলো এক দৌড়। আর মাত্র ২/৩ ধাপ দিলেই সে পেরিয়ে যাবে।
রাস্তার ওপাশ থেকে তীব্র গতিতে ছুটে আসছিল এক মোটর সাইকেল।
.
মুহুর্তেই ঘটে গেল #অনাকাঙ্খিত ঘটনা।
মোটরসাইকেল টা একপাশ থেকে সাগরকে চাপা দিলো।
দৌড় মূখী থাকার কারণে সাগরের পায়ে আঘাত লাগলো।
সে রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো। সাথে বিকট আকারের চিৎকার করলো।
চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলো পথচারীরা।
.
তারা দেখলো সাগরের পা থেকে রক্ত ঝরছে।
এমতাবস্থায় তারা সাগরকে  সিএনজি যোগে করিমগঞ্জ সদর হাসপাতালে
পৌঁছায়।
তাকে জরুরী বিভাগে ভর্তি করানো হয়।
ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়  সাগরের ডান পা ভেঙে গেছে।
আর সেই সাথে বাম পা আঘাতপ্রাপ্ত  হয়েছে।
জরুরি বিভাগ থেকে সামান্য ব্যান্ডেজ করে দিয়ে সাগরকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়।
সেখানে তার চিকিৎসা চলে।
.
প্রায় ২ মাস পরে সাগর বাড়ি ফিরে।
সে বাড়ি ফিরলেও  সাথে বাড়ি ফিরেনি তার ডান পা।
কারণ, সেই পা কেটে ডাক্তার কৃত্রিম পা লাগিয়ে দিয়েছিল।
আজ সাগর নামের সেই ছেলেটি পঙ্গু।
সে পারে না নিজের মতো করে চলাফেরা করতে।
স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় না তার।
আর খায় না মকবুল স্যারের কানটানি।
বন্ধুদের সাথে আর বিকালের অলস সময়ে খেলা-ধুলার সুযোগ হয় না তার।
.
আজ সে অসহায়।ক্রমশ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে উঠলো তার রঙ্গিন ভবিষ্যৎ।  সে আজ শুধুই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।
যা তার সামান্য অসতর্কতার জন্যই হয়েছে।
সে আজ অনুতপ্ত।
আজ সে বারবার বলছে কেন সে ওভারব্রীজ ব্যাবহার করলো না!!
কেন সে নীয়মনীতি মানতে নারাজ ছিলো!!!
এসব চিন্তা করতে করতে সে মানষিকভাবে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে থাকে।
.
সুতরাং আসুন আমরা শৃংখলাবিধি মেনে চলার চেস্টা করি।
সকল কাজেই ধৈর্যের পরিচয় দেই।
যেন আমার/আপনার জীবনেও সাগরের মত অনাকাঙ্খিত কিছু না ঘটে যায়।
.
আবারোও বলছি সকলেই সচেতন থাকবেন।
স্মরণ রাখবেন যেঃ- "একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।"
অবশেষে সকলের সুস্বাস্থ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিদায় নিচ্ছি।
আল্লাহ হাফেজ।




সমাপ্ত