Cute Orange Flying Butterfly ‎অচিনপুরের আইয়ুব‬
আস-সালামু আলাইকুম। আমি আইয়ুব আনসারি। আমার লেখাগুলো পড়তে প্রত্যহ ব্লগটি ভিজিট করুন

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইসলামের দৃষ্টিতে থার্টি ফার্ষ্ট নাইট

থার্টি ফার্ষ্ট নাইট উদযাপনে মুসলিমদের অংশ গ্রহণ জায়েয কিনা? 

কোনো মুসলিমের জন্য হিন্দু বা বিজাতীয়দের কোনো উৎসব, পুজা-পার্বন তথা কাফিরদের যে কোনো উৎসবে অংশ গ্রহন করা বৈধ নয়। 
Ayub Ansary


রাসুল সা বলেছেন: من تشبه بقوم فهو منهم "যে বিজাতির অনুসরণ করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে ।" 
থার্টি ফাস্ট নাইট মূলত কাফিরদের উদ্ভাবন করা বেহায়াপনা উৎসব।
নাচ গান বাজনা বেহায়াপনা উলঙ্গপনা দিয়েই ই এ উৎসবের সূচনা। 
কাফিরদের উৎসবে যোগ দান মূলত তাদের কুফুরি কাজকে সমর্থন করা ও সহযোগিতার শামিল । 
মুসলিম হয়েও যারা এই সকল উৎসবে তাদের বন্ধু ও পরিবার পরিজন নিয়ে যোগ দেয় তারা জাহান্নামের আগুনের দিকে নিজেদেরকে ঠেলে দিচ্ছে ও সভ্যতার নামে বিশ্ব বেহায়া অসভ্য বর্বর জাতি হিসেবে নিজেকে ও তাদের বাচ্চাদের গড়ে তুলছে। 
আললাহ তায়ালা বলেন: و دوا لو تكفرون كما كفروا فتكونون سواء(سورة النساء 89) "কাফিররা চায় তারা যেমন কাফির হয়েছে তোমরাও তাদের মত কাফির হয়ে তাদের মত সমান হয়ে যাও" 
(।সুরা নিসা 89) 
শুধু নামে মুসলিম হলে জান্নাত লাভ হবে না ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না বরং নামাজ রোজা হজ্জ যাকাত ইত্যাদি যাবতীয় নেক আমল আদায় করলে এবং যাবতীয় পাপাচার ও কবিরা গুনাহ ও কুফুরি কাজ পরিত্যাগ করলে ইসলামের হালাল হারামের বিধান মেনে চললেই জান্নাত লাভের আশা করা যাবে।
। 
আল্লাহ তায়ালা বলেন: والذين لا يشهدون الزور ( سورة الفرقان) 
"আর রহমানের (আল্লাহ তাআলার নেক) বান্দাহ হচেছন তারাই, যারা মুশরিকদের অনুষ্ঠান, শির্ক, মূর্তিপূজা ও এ জাতীয় অসার উৎসবে অংশগ্রহণ করে না।" 
(সূরা আল-ফুরক্বান) 
যে সকল মুসলিম কাফিরদের উৎসবে যোগ দান করে তাদের জিজ্ঞেস করব কোনো কাফির কি মুসলিম দের ঈদগাহে, মসজিদের নামাজে অংশ গ্রহণ করছিল? 
তাহলে কোন বিবেকে কিছু মুসলিম কাফিরদের কুফুরি উৎসবে যোগ দান করে? ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে মূর্তি পূজা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে দাওয়াত দিলে তিনি সাথে সাথে তা অস্বীকার করে সরে পড়েন। 
তাই মুসলিমদের জন্য ইব্রাহিম আ. এর সেই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত। কোনো নববর্ষের শুরুতে কোনো প্রকার অনুষ্ঠান করার অনুমতি ইসলাম দেয় না। 
অন্যান্য দিনের মতই এটি একটি দিন। 
সর্বক্ষণ অতীতের গুনাহের জন্য তাওবা করা ও ভবিষ্যতে নেক আমলের সিদ্ধান্ত নেওয়া ও আল্লাহর কাছে দোয়া করাই মুসলিমদের কাজ। 
কিন্তু যারা তা না করে কুফুরি করে ও কুফুরি উৎসবে যোগ দান করে তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। 
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক মুসলিম হবার ও কুফুরি কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন আমিন।
আর মুসলিমদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার, দাওয়াত দেওয়ার মন মানষিকতা দান করুন। 
আমীন।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

ঝালমুড়ি - স্বপ্নের কাহিনী।





পথে ঝালমুড়ি খাওয়া টা নেশার মতই হয়ে গেছে।
না খাইলে কেমন যেন লাগে!
কিন্তু আজ কিছুতেই খাচ্ছি না।
কেন খাচ্ছি না তা একনজর দেখুনঃ-

গত রাতে স্বপ্নে আমি কলেজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম।
এমন সময় ঝালমুড়ি ওয়ালা আসলো।
সর্বনিম্ন রেট ১০ টাকা।
পকেট হাতিয়ে ৫ টাকার কয়েন ছাড়া খুচরা কোন টাকা পেলাম না।
এবার জিজ্ঞেস করলাম
ঃ- মামা, ৫ টাকার ঝালমুড়ি হবে??
- না, মামা। ১০ টাকার কম নেই।
ঃ- আমার কাছে ৫ টাকা ছাড়া কোন খুচরা টাকা নাই।
কিন্তু খেতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব।
( পকেট থেকে ম্যানিব্যাগ বের করলাম আর ওনার সামনে খুলে দেখালাম ৫ টা হাজার টাকার নোট আছে শুধু।)
- আচ্ছা ঠিকাচ্ছে মামা। আপনার ইচ্ছা পূরণ করি।
(মামা আচ্ছামত অনেকগুলা মুড়ি দিলেন। ১০ টাকায় যা দেন তার চেয়েও বেশি)
আমি তো মহা খুশি।
খাইতে শুরু করলাম।
এরই মাঝে কখন যেন আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি।
প্যান্টের পকেট থেকে ৫ টাকার বিনিময়ে ৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঝালমুড়িওয়ালা।

এর পরেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। 

সেই স্বপ্নটি



শীতের সকাল। 
ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারিপাশ। 
আকাশ হালকা ফর্শা হয়ে উঠেছে মাত্র। 
কানে ফজরের আজান ভেঁসে আসছে। 
আজানের শব্দে ঘুম ভাঙলো অহনার। 
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই নামাজ আদায় করলো। 
এমন না যে নিয়মিত নামায আদায় করে, তবে চেস্টা করে। 
আজ সে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পথ চলতে যাচ্ছে। 
যে করেই হোক আজ সেই স্বপ্নের পিছু নিতেই হবে। 
রোজ সে একটা স্বপ্ন দেখে। রোজ তার পিছু নেয়। 
কিন্তু যখনই সময় আসে তার মুখ দেখার, তখনি সে বুঝতে পারে যে, সে তো স্বপ্নেই আছে। 
আজ তার পছন্দের নীল স্কার্ফটাই পরা আছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়ছে কয়েকদিন ধরে। 
এই প্রভাতে বের হওয়ার দুঃসাহস কেউ করে না। 
কিন্তু তার জিদ সে বের হবেই,,, সত্যটা যে জানতেই হবে!!!!!!
এইসব ভাবতে ভাবতে রুমের দরজা খুললো অহনা। 
কুয়াশার প্রভাবে বোধহয় নিজের থেকে এক ইঞ্চি দূরের কিছুই দেখা যাবেনা। শব্দহীন পায়ে গৃহ ত্যাগ করলো। 
কেও দেখলে যে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। 
কারন সমাজ কখনোও মেয়েদের একা বের হওয়াটা কে মেনে নিবে না। 
তাও আবার ভোরবেলায়......।।
.
কুয়াশাচ্ছন্ন নরম কোমল ঘাসের উপর পা ফেলতেই অহনা শরীরের বিভিন্ন শিরা-উপশিরায় যেন ঠান্ডার অনুভূতি লাভ করে। 
শরীরের মাঝে ইঞ্জেকশন দিয়ে ভাইরাস প্রবেশ করালে সেকেন্ডের মধ্য পুরো শরীরে যেভাবে ছড়িয়ে যায় ঠিক সেভাবেই ঠান্ডা ছড়িয়ে পড়লো অহনার শরীরে। 
পূব আকাশে সুর্যের লাল আভা পরিলক্ষীত হচ্ছে। 
সময়ের ব্যবধানে সূর্যের মিষ্টি আলো ছড়িয়ে যেতে লাগলো চারপাশে। 
ঘাসের ডগায় লেগে থাকা শিশির কণা গুলো মুক্তোর মত জ্বলছিলো। 
অহনা ঘাসের উপর হাঁটতে হাঁটতে এতটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলো যে, তার পায়ের নুপুরটা কখন খুলে যায় তা একদমই টের পায়নি। 
প্রকৃতির প্রেমে মত্ত হয়ে চলতে থাকে দূর অজানায়। 
নিঃশব্দ রাজ্যে হটাৎ করেই একটা শব্দ কানে আসে। 
আরে, এটাতো সেই আওয়াজ!!!!!!!!!!!!!
পিছনে ফিরতে তার অনেক ভয় লাগছিল। 
রোজ এই শব্দ টা কানে আসে। অনেকটা পরিচিত শব্দ।
আজ সে দেখবেই এই শব্দের উৎস কোথায়!! 
একদিকে ভয় কাজ করছিল অপরদিকে আত্মপ্রত্যয়। 
সাহসীকতার সাথে আস্তে আস্তে ঘুরে তাকালো। 
এক অস্ফুর্ত ছায়ামুর্তি আবিষ্কার করলো সে। 
সুর্যের ঠিক সামনেই দাঁড়িয়েছে, যার জন্য তার চেহারাটা ঠিক মতো দেখা যাচ্ছে না। 
সবকিছু মিলিয়ে থমকে দাঁড়ায় সে। 
ছায়ামূর্তি টি ভালমতো বোঝার চেষ্টা করলো... 
দেখতে অনেকটা মানুষের মতো। কুয়াশাচ্ছন্ন চারিপাশ। তাই বুঝে উঠতে পারছে না কি সেটা আসলে। 
এবার ছায়াটি অগ্রপাণে অর্থাৎ অহনার দিকে এক পা, দু-পা করে এগিয়ে আসতে লাগলো। 
তার হাতে একটা বস্তু পরিলক্ষিত হচ্ছে। 
ভালমত বোঝার চেষ্টা করলো। 
এতক্ষণে লোকটি অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে। 
তার হাতে একটা নুপুর। 
এবার একেবারেই কাছাকাছি এসে গেছে। 
আরেঃ, এতো আমার পায়ের নুপুর। 
ওনি পেলেন কি করে!!
তবে যা হোক, নুপুর নেয়ার ইচ্ছে নেই। 
শুধু একটি বার তাকে দেখার ইচ্ছা... 
আজ কেমন জানি ভিন্নধর্মী অনুভূতি জেগেছে মনে। 
খুব করে দেখবে তাকে। 

খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে দুজনে। এখন মন ভরে দেখার পালা। 
এমন সময় এলার্ম ঘড়ির এলার্ম বেজে উঠলো।
ঘুম ভাঙলো, আজোও দেখা মিললো না তার। 
কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর আবিষ্কার করলো আজকের এটিও স্বপ্নই ছিল। 

যেমন স্বপ্ন সে দেখেছিল গত মাসে। 
সেই দিনের মতই অনুভুতি নিয়ে দিনটা শুরু করলো আজ...... 

মূল লেখাঃ- রেবা হাসান( সপ্নের আস্কারা )
আংশিক এডিটঃ- আইয়ুব আনসারি

মা




পৃথিবীতে ভালবাসার মূলকেন্দ্র হল #মা ।
মা'কে ঘিরেই একজন শিশু ভালবাসা শিখে।
মা প্রতিটা ব্যক্তির জীবনে এক অমূল্য সম্পদ।
এটা কত মূল্যবান তা সেই ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করুন যার মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে।
.
পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া সকল মা কে নিয়ে এক কবিতা লিখার ব্যর্থ চেষ্টা ।
হাতে সময় থাকলে পড়বেন ঃ-
.
''মা''
-আইয়ুব আনসারি
.
এত কেন রাগ করেছ,
আমার উপর মাগো?
আর কতদিন ঘুমাবে তুমি,
এবার একটু জাগো।
মাথা ব্যথার যন্ত্রনা তাই,
ঘুমোতে পারতে না।
আজ কতদিন মাগো তোমার,
ঘুম টা ভাঙে না?

পায়ে ব্যথা ছিল তোমার ,
ওষুধ খেতে রোজ।
সেড়ে যেত ব্যথার ওষুধ,
খেলে দুই এক ড্রোজ।
দুদিন একটু থাকতে ভাল,
আবার ব্যথার বিষে।
ঘুম তো তোমার পালিয়ে মাগো,
হাওয়ায় যেত মিশে।
কোন ওষুধ আজ খেয়ে তোমার,
ভাঙেনা মা ঘুম?
জলদি যদি উঠতে জেগে,
পায়ে দিতাম চুম।
,
সকালে মা জায়নামাজ টা,
শূণ্য থাকে পড়ে।
তোমার কণ্ঠের কোরআনের সুর,
যায় না শোনা ঘরে।
সকাল সকাল উঠতে মাগো,
জড়িয়ে নিতে বুকে।
আয় খোকা আয় ভাত খেয়ে নেই,
বলতে জানি মুখে।
আজ কতদিন মাগো আমায়,
ডাকেনা কেউ খেতে।
কি লাগবে, সব দেব মা,
বল তোমায় পেতে!
এই দেখ মা চোখে আমার,
ঝরে অশ্রু ধারা।
কে বুঝবে আজ কষ্ট আমার,
মাগো! তুমি ছাড়া?
,
তুমিও এমন নিঠুর হলে,
করলে আমায় পর।
একাই কেন শুয়ে আছ,
শূণ্যে বেঁধে ঘর?
সে ঘরে মা তোমার পাশে,
ঘুমাতে যদি পারি।
আর কিছু মা চাইনা আমি,
সবই দেব ছাড়ি।
,
সাভার , ঢাকা
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বেয়াদব ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের ব্যাপারে আমাদের করণীয়




প্রসঙ্গঃ- আসিফ মহিউদ্দিন

সরকার স্বীকৃত সবচেয়ে বড় বেয়াদব #নাস্তিক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন।
যে প্রতিনিয়ত ইসলাম বিরোধী আর্টিকেল লিখে থাকে।
অন্যান্য দেশের বড় বড় নাস্তিক পন্ডিতদের লেখা আমি পড়ি নিয়মিত।
তারা ইসলাম কে নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ম কে নিয়েও সমালোচনা করে থাকে।
কিন্তু,
আমি আসিফের কার্যক্রমে এমনটি দেখিনি।
সে একতরফা ইসলাম এবং মুসলিমদের নিয়েই কটাক্ষ করে যাচ্ছে।
গত পোস্টে সে বলেছে যে, যারা সবচেয়ে বেশি পর্ন দেখে তাদের তালিকা করলে আল্লাহ পাকের নাম সবার ওপরে একদম এক নম্বরেই থাকার কথা।। (নাউযুবিল্লাহ )
.
আমার এই আইডি ওর ব্লকলিস্টে আছে। যার কারণে অন্য পরিচয়ের আইডি নিয়ে ইনবক্সে গেলাম
তার লেখার পেছনে যুক্তি উপস্থাপন করতে বললাম...
আমিঃ- জনাব, আপনার পোস্ট এর কমেন্ট বক্স দেখে আমি তো শেষ।
জনগণ এতো ক্ষেপছে ক্যান ?
আসিফঃ- এ আর নতুন কি ?
- আমিও তো সন্দিহান... একটু বুঝিয়ে বলেন তো আল্লাহ কিভাবে অপরাধী!!
ঃ- আল্লাহ কোরআনে বলেছেনঃ- নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্ব্দ্রষ্টা।
যদি আল্লাহ সবকিছুই দেখেন তবে তিনিই সবচেয়ে বেশি পর্ণ দেখেছেন।
এমন কোন ব্যক্তি নেই যে পৃথিবীর সকল পর্ণ দেখেছে।
- ওহ, এই তাহলে কাহিনী!!!

দেখলেন তো !! লোকটা কতবড় পাগল !!!
আমি এরও আগে সম্ভবত ২০১৩ এর দিকে আসিফ কে বলেছিলাম, ডঃ মরিস বুকাইলি কোরআনের ভুল বের করেছিলেন...
আপনিও হয়তো পারবেন।
মরিস বুকাইলির মত চেষ্টা চালিয়ে যান ।
এতে আমার সমর্থণ থাকবে।
আর এই কথা বলার পরেই ব্লক করেছিল।

এই বেয়াদবের ব্যাপারে আর কিছু বলতে হবে বলে আমার মনে হয় না।
কেননা, স্বয়ং বাংলাদেশ সরকার তাকে বেয়াদব বলে অভিহীত করেছেন।
শুধু কি তাই???
আসিফের মতে সে একজন সাহসী লেখক।
কোন কিছুর বাধা মানে না সে...
কিন্তু সে কোপানী খাওয়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে জার্মান গিয়ে লুকিয়েছে।

বলতে গেলে অনেককিছুই বলা যায়, তবে বলে লাভ কি?
কি প্রয়োজন একজন পাগলের পেছনে সময় দেওয়ার?
আমি লক্ষ্য করেছি, উপরে উল্লিখিত পোস্টে আসিফ দেড় হাজারের উপর লাইক পেয়েছে।
যা সেলিব্রেটির লক্ষণ ।
তবে সেখানে সাড়ে ৫ শ এংরি রিয়েক্ট ছিল।
আর কমেন্টগুলো সবই ছিল আসিফের বিরুদ্ধাচারণ মূলক।

জনাব, আপনাকেই বলছি...
আপনি কি ফেসবুকের নিয়ম জানেন না ?
জানেন না !! যে লাইক কমেন্ট করলে রীচ বেড়ে যায় !!
আপনি কি কমেন্ট করলেন তা দেখবে না ,শুধু দেখবে আপনি কমেন্ট করলেন / লাইক দিলেন কিনা?
যদি দিয়ে থাকেন তবেই পোস্টের প্রাইভেসী অনুযায়ী আপনার নিকটস্থদের নিকট পৌঁছিয়ে দিবে ফেসবুক।
আপনি তো পারতেন এংরী রিয়েক্ট না দিয়ে একটা রিপোর্ট দিতে।
আপনি যদি এখানে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতেন তবে ওর আইডি অকেজো করা সম্ভব হতো।
অথচ আপনি লাইক কমেন্ট করে তাকে সেলেব্রিটি বানিয়ে দিলেন!!

শোনেন একটা কথা বলে রাখি, আমি যদি গালি দিয়ে আপনার মা-বোন কে #প্রেগন্যান্ট বানাই তাহলে আপনার মা-বোন বাস্তবে প্রেগন্যান্ট হবে না।
মান সম্মানের হানি ও হবে না।
কিন্তু,
আমার মানসম্মান ধুলোয় মিশে যাবে।
তদ্রূপ, ঐ বেয়াদব আল্লাহ এবং রাসূল সাঃ এর পরিবার কে নিয়ে যতই কুৎসা রটনা করুক না কেন তাতে তাদের সম্মানের কমতি হবে না সামান্যতমও।
যদিও আল্লাহর বিধান অনুযায়ি ঐ সকল ব্যক্তির জন্য আল্লাহর জমীনের আলো-বাতাস গ্রহণ করতে দেওয়া হারাম ।
আর এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখা প্রতিটা মুসলিমের উপর ফরয।

যদি সম্ভব হয় তবে আল্লাহর বিধান অনুযায়ি তার পাওনা বুঝিয়ে দিবেন।
অন্যথায় , ওদের এড়িয়ে চলুন।
আপনি আমি + অন্যরা এড়িয়ে গেলে ওদের কথা শোনার মতো কেউই থাকবে না।
তখন ওদের স্বার্থ হাসিলও হবে না।
আশাকরি, আপনি + আপনারা আজ থেকে এমন ব্যক্তিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলিয়ে বিনা পরিশ্রমে সেলিব্রেটি বানিয়ে দিতে ভূমিকা রাখবেন না ।
বরং যথাসম্ভব এড়িয়ে চলবেন...... 

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬

ফিরে দেখা ২৯ নভেম্বর



উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের কোন এক দিনের ঘটনা।
দিনটা ছিল রবিবার।
বাংলা অগ্রহায়ন মাসের ১৫ তারিখ।
সময় টা ছিল সুবহে সাদিক। এমন সময় আমাদের বাসায় এক নতুন অতিথির আগমন ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায় অতিথি শিশু টা সেই সময় অনেক আকর্ষণীয় ছিল।
দেখতে এতটাই সুন্দর ছিল যে, যাদের সাথে পারিবারিক কলহ, দাঙ্গা লেগে ছিল যুগ যুগ ধরে । যাদের সাথে চলতো না কোন কথাবার্তা। সর্বদা রেষারেষি লেগেই থাকতো তারাও দেখতে এসেছিল।
আর সেই শিশুটি ছিলাম আমি।
জন্মের পর ইসলামিক নিয়ম অনুসারে আমার ডান কানে আযান আর বাম কানে ইকামাত দেওয়া হয়।
দায়িত্বটিও পালন করেছিলেন আমাদের প্রতিপক্ষের এক ভাই।
যার সাথে আমার এখন পর্যন্তও ভালমত কথাবার্তা হয়নি। ( দাঙ্গার ইতি ঘটেনি আজোও)
আযান-ইকামাত দেবার পর আমাকে মধুমুখ করে বরণ করে নেওয়া হয়।
পরিবারে দেখাশোনার জন্য একমাত্র আম্মু ছাড়া কেউই ছিল না বলে আম্মুর সহচার্যেই বেড়ে উঠি।
আম্মুর পাশাপাশি #নাসিমা আপু আমার সাথে সময় কাটাতেন।
তাছাড়াও আমার খালামুনিরা এসে আমার সাথে সময় কাটাতেন।
তবে নাসিমা আপু-ই বেশি সময় দিয়েছেন আমার পেছনে।
যার অবদান অনস্বীকার্য।
আমি ছোটবেলাই এতটাই মোটা ছিলাম যে, সেই কথা আজোও এলাকাবাসী মনে রেখেছে।
সময়ের পরিবর্তে আমি দিনে দিনে অনেকটা চিকন/পাতলা হয়ে গেছি ।

ছোটবেলার অনেক কথাই মনে পড়ে।
সম্ভবত সাড়ে ৩ বছর বয়সে দাদি মারা যায়।
আর ঐদিন বাসায় আব্বু ছিল না।
মৃতের বাড়িতে প্রাপ্তবয়ষ্কদের মাঝে আম্মু একা।
তখন নিশ্চ্যই আম্মুর মাঝে অনেক টেনশন কাজ করছিল।
মৃত দাদির দিকে তাকিয়ে আমি কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম।
আম্মু আমা্র অনেক সাহস জাগিয়েছেন সেই সময়।
যেই অদম্য সাহস নিয়ে আজোও নির্ভয়ে পথ চলছি।

আরেকটা কথা মনে পড়ে।
একদিন দুপুরবেলা আমি শুয়ে ছিলাম। একটা তেলাপোকা আমার শরীরের উপর উঠে গেছিলো।
তেলাপোকার পায়ের আঁচড়ে আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম।
অনেক জোরে চিৎকার করেছিলাম ।
মুহুর্তেই আম্মু ছুটে আসে আমার কাছে।
তেলাপোকা টা হাত দিয়ে ধরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
আমি তখন স্বয়ংক্রিয় হেঁসে উঠি।
তেলাপোকার ভয় কেটে যায়।
আমি আজ তেলাপোকা কেন , মানব পোকাকেও ভয় পাই না।
সকল সাহস ঘিরে রয়েছে আম্মুর অবদান।
আমার এমন কোন কাহিনী মনে নেই যে আম্মু আমাকে ভূতের গল্প শুনিয়ে ভয় পাইয়েছেন।
ভয়ঙ্কর কোন গল্পও আম্মু সাহসীকতার সাথে শুনিয়েছেন আমাদেরকে।

আরেকটা মজার কথা মনে পড়ে গেল । যা শেয়ার না করে পারছি না।
ছোটবেলা থেকেই আমি #অলস প্রকৃতির। ঝালযুক্ত কিছু আমি খেতে পারতাম না । এখনোও খুব বেশি ঝালযুক্ত কিছু খেতে পারি না।
তাই মিষ্টি জাতীয় জিনিষই বেশি খেতাম।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমি নিজে কিছুই চিবিয়ে খেতাম না ।
অন্য কেউ চিবিয়ে মুখ থেকে বের করে আমার মুখে দিতো আর আমি মজা করে খেতাম।
আম্মু হয়তো মাঝে মাঝে চিবিয়ে দিতো , কিন্তু আমার বড় ভাইয়া Abu Yousuf Ali ই আমাকে সবকিছু চিবিয়ে খাওয়াইতো।
আমি ভাইয়াকে জাঁতাকল হিসেবে ব্যবহার করতাম।
অবশ্য বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আমি কারোও চিবিয়ে দেওয়া জিনিষ খাওয়া তো দূরের কথা স্পর্শ করা জিনিষও খেতাম না।
অবশ্য মেস লাইফে এসে নিয়মটা অটোমেটিক কেটে গেছে।

দেখতে দেখতেই কেটে গেল দেড় যুগ।
যখন ২/৩ মাস পর বাসায় যাই, এলাকাবাসী দেখে বলে আমি নাকি বড় হয়ে গেছি।
কিন্তু আমি এখনোও নিজেকে পিচ্চিদের মতই ভাবি।
মনে হয় ঐতো সেদিনই গ্রামের বন্ধুদের সাথে হাফপ্যান্ট পড়ে কাদায় ফুটবল খেলতাম।
ঐতো সেদিনই প্রাইমারীর ছাত্র ছিলাম।

নিজে এখনোও ছেলে মানুষী ভাব ধরেই রেখেছি।
আমি এখনোও পিচ্চিদের সাথেই বেশি মিশে থাকি।
এতে আমি অপার আনন্দ লাভ করি।
আর হয়তো আমৃত্যু এই ছেলেমানুষি টা থাকবেই।

আজ শত শত মানুষ আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
যা আমার কল্পনাতিরিক্ত। প্রযুক্তির কল্যাণে প্রায় ১ হাজার ব্যক্তি আজ আমার জন্মদিনকে ঘিরে আমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
সকলকে আমি আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারাকবাদ জানাচ্ছি ।
দোয়া করবেন যেন আগামীর পথ টা নির্বিঘ্নে পাড়ি দিতে পারি।
বাবা-মা সহ এলাকাবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।
সেই সাথে আল্লাহর একজন ক্ষুদে গোলাম হিসেবে যেন তাঁর পথে অবিচল থাকতে পারি।

ইতিহাসের পাতায় ২৯ নভেম্বরঃ-
১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে স্যার জেমস জে অদৃশ্য কালি আবিষ্কার করেন।
১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মার্ক উডের করা সমগ্র কলকাতার নকশা প্রথম প্রকাশ করেন মি. বেইলি।
১৮১২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবী দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন ভারতের হুগলীতে ইন্তেকাল করেন।
১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে পর্তুগিজ স্নায়ুতত্ত্ববিদ অ্যাগাস মোনেশের জন্ম।
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে রুশ ঔপন্যাসিক বোরিসপিলনিয়াকের জন্ম।
১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ইংল্যান্ডের সারেতে প্রথম মোটরসাইকেল রেস হয়।
১৯১০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ট্রাফিক বাতি প্যাটেন্ট হয়।
১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে যুগোস্লাভিয়ায় মার্শাল টিটোর নেতৃত্বে এন্টি ফ্যাসিজম ফ্রন্ট গঠিত হয়।
১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে লিথুয়ানিয়া প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষিত।
১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ফ্রান্সের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জ্যাক শিরাক জন্মগ্রহন করেন ।
১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ফ্রান্সের চুক্তি হয়।
১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে রসায়নে নোবেলজয়ী [১৯৮৬] তাইওয়ানজাত মার্কিন বিজ্ঞানী লু যুয়ান তেশের জন্ম।
১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে আলবেনিয়া নাৎসি কবল থেকে মুক্ত হয়।
১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে রস-সাহিত্যিক কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু।
১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ওয়েলশ ফুটবলার রায়ান গিগস জন্মগ্রহন করেন ।
১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী এবং রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তোয়াহা মৃত্যুবরণ করেন ।
১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে প্রলংকারী ঘূর্নিঝড় ও জলোচ্ছাসে বিধ্বস্ত হয় দক্ষিনাঞ্চলের বিস্তীর্ন জনপদ।
১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ভারতের অগ্রগণ্য শিল্পপতি জি আর ডি টাটার মৃত্যু।
১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে সীমান্ত সমস্যা চীন ভারত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২০০১ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে বিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত প্রতিভাবান জনপ্রিয় গায়ক এবং গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন মৃত্যুবরণ করেন ।
২০০৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন বিল-২০০৪ পাস হয়।
২০০৪ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধূরীর মৃত্যু।
২০০৫ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে শাহাদত চৌধুরীর মৃত্যুঘটে ।

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৬

লক্ষ্য


      Ayub ansary


চলেছি এক পথ ধরে,
জীবনের স্বার্থ হাসিলের তরে ;
তবে পথটা পিচ্ছিল কর্দমময়।
পদ পিছলাবার আতঙ্কে
মনে সদা সংশয়।

আজোও চলছি আমি একা,
এক সাধু পথিক বেশে।
তবুও মনে ভয়,
কবে বুঝি হায়;
কে জায়গা নেয় এই দেশে!
তবুও জপি বারে বার,
সে গন্তব্যের বানী।
এসেছে বিপদ,
আরোও আসবে জানি।

লক্ষ্য সে-তো বহুদূর,
দেশ-বিদেশ তেপান্তর...
ভেদিতে হবে গহীণ অরণ্য,
হয়তোবা পথ কন্টকাকীর্ণ।
মনে নিয়ে সাফল্যের প্রত্যয়,
পথ চলেছি বেশে দূর্জয়।
শীর্ষে পদচারণার তরে,
সফল হয়ে ফেরার তরে।




শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬

স্বাধীনতা


Ayub Ansary

 
স্বাধীনতা তুমি ধর্ষিতা নারীর গলাকাটা লাশ;
স্বাধীনতা তুমি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের প্রয়াশ।
 
স্বাধীনতা তুমি দূর্নিতির কালো হাত;
স্বাধীনতা তুমি রাজনীতির নামে অযথা রক্তপাত।
 
স্বাধীনতা তুমি নারীর নগ্নদেহ;
স্বাধীনতা তুমি atheist দের কেহ?
 
স্বাধীনতা তুমি চোরের খনি;
স্বাধীনতার নামে ধার্মিক হয়রানি।
 
স্বাধীনতা তুমি বড়ই স্বার্থপর;
স্বাধীনতা তুমি ঘুচাবে না এ অন্ধকার?
 
স্বাধীনতা তুমি দু'নারীর অলংকার;
স্বাধীনতা তুমি বাস্তব রূপে কবে ফিরবে আবার??

আবেগের অনুভূতি

 আবেগের অনুভূতি
                                                                          - আইয়ুব আনসারি(Ayub Ansary)

"আমার বান্ধবী সব কয়টাই প্রেম করে!
আমি একাই সিঙ্গেল।
বয়ফ্রেন্ডকে সময় দিয়ে কূল পায় না, আমাকে ওরা কীভাবে সময় দেবে!
এক কাজ করো তো, আমাকে একটা মনের মতো ছেলে খুঁজে দিও।
আর একা থেকে কী হবে! চুটিয়ে প্রেম করা দরকার এবার।"
এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে থামে মেয়েটা। ওই ছাদের শালিক-জোড়ার দিকে অপলক দৃষ্টি ছিল, এবার তাকাল ছেলেটার দিকে।
ছেলেটা বলল, "যো-যো-যোগ্যতা কী লাগবে তার?"
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েটা বলে, "পুরুষ মানুষের আবার যোগ্যতা!
আমার যোগ্য কোনো ছেলে দুনিয়াতে থাকলে কি আর এতদিন একা থাকি? সব ছেলেই এক, ধরে নিয়ে এসো একটা তোমার পছন্দমতো!"
"ন্ না মানে, ওই যে বললে না মনের মতো!"
ছেলেটার কথা শুনে হা হা করে হেসে উঠল মেয়েটা। বলল, "আমার কল্পনার রাজপুত্রের তো খুব বেশি যোগ্যতার দরকার ছিল না।
আমার চাওয়া অল্পই ছিল।
সে আমাকে শুধু খুব করে একটু আগলে রাখুক!"
হাসল বটে, কিন্তু বলতে গিয়ে গলা ধরে এলো তার।
চোখে যেন ভেসে উঠল ভুলতে চাওয়া কোনো স্মৃতি।
তবে পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলল, "তুমি বরং খুব যোগ্য একজনকেই খুঁজে দাও।
ঢাকা শহরের সব রেস্টুরেন্টে খাওয়াবে, ২৪ ঘণ্টার ১৮ ঘণ্টাই ফোন করে কী করি জানতে চাইবে, গিফট কিনে দিবে, সারপ্রাইজ দিয়ে হুলস্থূল করে ফেলবে।
যেই না মনে হবে সে বুঝি আমাকে সত্যি ভালোবাসে, তখনই কোনো এক তুচ্ছ কারণে আমাকে ছুড়ে ফেলে চলে যাবে অন্য কারো কাছে!"
বলতে বলতে আবারও হাসতে থাকে মেয়েটা।
কিছু সময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ছেলেটা। ছাদ থেকে নেমে আসে তারপর।
এরপর অনেকবারই দেখা হলো মেয়েটার সাথে।
কখনো সিঁড়িতে, কখনো বাড়ির দরজায়, কখনো বা রাস্তায়।
প্রতিবারই মেয়ের একই কথা, "কই, ছেলে তো খুঁজে দিলে না!
আর কতকাল একা থাকব, বলো!"
বলেই হা হা করে হেসে ওঠে সে।
সেই বিকেলে দমকা হাওয়া ছিল খুব, মেঘও ছিল আকাশে।
তবু প্রতিদিনের মতোই মেয়েটাকে পাওয়া গেল সেই ছাদে।
ছেলেটা এসে দাঁড়াতেই মেয়ে বলল, "কী মহাশয়, পেলেন আমার জন্য ছেলে? আর কতকাল আশায় রাখবেন?"
ছেলেটি বলল, "অ-অ-অনেক খুঁজেছি। প্ প্রতিদিন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাবে, সা-সা-সারাক্ষণ খোঁজ নেবে, সারপ্রাইজ দেবে অনেক, এ-এমন ছেলের অভাব নেই।"
"তো কোথায় তারা? আর অভাবই যখন নাই, এতদিন কেন লাগছে?"
"লা-লা-লাগছে কারণ, আ-আমি তো তাদের খোঁজ করিনি।
আমি শুধু খুঁজেছি এমন একজনকে যে খুব করে আগলে রাখতে পারে!"
হাসি মুছে যায় মেয়ের মুখ থেকে। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সে।

ছেলেটি হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল , "প্রতিদিন রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়ানোর সামর্থ্য আমার নেই, ব্যস্ততার জন্য ১৮ ঘণ্টা খোঁজ করাও সম্ভব না। সারপ্রাইজ আমি দিতে পারি না। ভেতর থেকে আসে না, সামর্থ্যও নেই। আমি বড়জোর দশ টাকার বাদাম কিনে রাস্তার ধারে তোমার পাশে হাঁটতে পারি, বসতে পারি ঘাসের বিছানায়। মাঝেসাঝে লিখতে পারি একটা দুটো চিঠি। কিনে দিতে পারি একটা গোলাপ কিংবা বেলিফুলের মালা।
আর... আর এতদিন ধরে নিজের মাঝেই ডুব দিয়ে খোঁজ করলাম অনেক। পেলামও। আর কিছু না পারি, সুখে-দুঃখে খুব করে আগলে রাখতে পারব তোমাকে। ছেড়ে যাব না কখনো!"
এক মুহূর্ত থামে সে। দেখা হলেই দুরু দুরু বুকে কাঁপতে থাকা ছেলেটি এতগুলো কথা বলে ফেলল, কিন্তু একবারও তোতলালো না এবার।
আবার বলল সে, "বিশ্বাস করো মেয়ে, আমার চেয়ে যোগ্য ছেলে আর একটিও খুঁজে পাইনি আমি তোমার জন্য!"

কতদিন দেখিনি তোমায়



কতদিন দেখিনি তোমায়,
তবু মনে পড়ে তব মুখখানি।
স্মৃতির মুকুরে মম আজ,
তবু ছায়া পড়ে রানী।
কতদিন দেখিনি তোমায়,
কত দিন তুমি নাই কাছে।
তবু হৃদয়ের তৃষা জেগে আছে, ।
প্রিয় যবে দূরে চলে যায়
সে যে আরও প্রিয় হয় জানি।
কতদিন দেখিনি তোমায়
তবু মনে পড়ে তব মুখখানি।
হয়ত তোমার দেশে আজ
এসেছে মাধবী রাতি
তুমি জোছনায় জাগিছো নিশি,
সাথে লয়ে নতুন সাথী হেথা।
মোর দীপ নেভা রাতে,
নিদ নাহি দুটি আঁখি পাতে।
প্রেম সে যে মরিচীকা হায়
এ জীবনে এই শুধু মানি,
কতদিন দেখিনি তোমায়!
তবু মনে পড়ে তব মুখখানি
স্মৃতির মুকুরে মম আজ
তবু ছায়া পড়ে রানী,
কতদিন দেখিনি তোমায় ।।